
সিঙ্গাপুরে জঙ্গি অর্থায়নের অভিযোগে সাজাপ্রাপ্ত জাবেদ কায়সার এ বছরের জানুয়ারি মাসে দেশে এসেছিলেন। পরিবারের সঙ্গে দুই মাস কাটিয়ে আবার ফিরে যান সিঙ্গাপুরে। সেখানে যাওয়ার পরও পরিবারের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ ছিল। তবে এবার দেশে ফেরার পর তাঁর আচরণে কিছুটা পরিবর্তন দেখতে পেয়েছিলেন বলে জানান বাবা নুরুল ইসলাম।
চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার আধুনগরের দক্ষিণ হরিণা গ্রামের বাসিন্দা নুরুল ইসলাম বলেন, এবার গ্রামে ফিরে কারও সঙ্গে খুব একটা কথা বলত না জাবেদ। সিঙ্গাপুরে জঙ্গি কার্যক্রমে ছেলের সাজা হওয়ায় তিনি লজ্জিত বলে জানান। দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত নুরুল ইসলাম। তিনি এখন আধুনগর ৯ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। তিনি বলেন, ‘আমার এলাকায় জামায়াত-শিবিরের প্রাধান্য থাকলেও ছেলেকে তাদের সঙ্গে মিশতে দিইনি। অথচ আজ আমার একমাত্র ছেলে জাবেদ কায়সার সিঙ্গাপুরে জঙ্গি অর্থায়নের অভিযোগে সাজাপ্রাপ্ত।’
গত মঙ্গলবার সিঙ্গাপুরের একটি আদালত জঙ্গি অর্থায়নের অভিযোগে জাবেদসহ চার বাংলাদেশিকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেন। এর মধ্যে জাবেদকে ৩০ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
নুরুল ইসলাম বলেন, জাবেদ আধুনগর উচ্চবিদ্যালয়ে দশম শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়া করেছে। পরে তাকে ঢাকায় একটি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে ভর্তি করা হয়। ২০১২ সালে জাবেদ সিঙ্গাপুর যায়।
জাবেদের মা রোকসানা মমতাজ একমাত্র ছেলের সাজার খবর শুনে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তিনি বলেন, ‘প্রতিবেশী থেকে শুরু করে কাউকে মুখ দেখাতে পারছি না। যারা আমার ছেলেকে জঙ্গি বানিয়েছে, তাদের বিচার চাই।’
জাবেদের বন্ধু শরিফুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশে থাকাকালীন কোনো দিন বুঝতে পারিনি জঙ্গি কর্মকাণ্ডে জাবেদ জড়িত।
লোহাগাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি খোরশেদ আলম চৌধুরী বলেন, জাবেদের বাবা সম্প্রতি আধুনগর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।
লোহাগাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহজাহান বলেন, সিঙ্গাপুরে জঙ্গি অর্থায়নের কারণে জাবেদের সাজা হওয়ার খবর পাওয়ার পর তাঁর পরিবার সম্পর্কে বিস্তারিত খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে।