জাল সনদে পদোন্নতির অভিযোগ
বগুড়ার দুপচাঁচিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চতুর্থ শ্রেণির একজন কর্মচারী (এমএলএসএস) জাল সনদপত্র দিয়ে তৃতীয় শ্রেণির মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (এমটি) পদে পদায়ন নিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম রফিকুল ইসলাম। তিনি বর্তমানে সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির (ইপিআই) অতিরিক্ত দায়িত্বেও রয়েছেন। তাঁর বিরুদ্ধে এ দায়িত্ব পালনকালে টিকাদানের সরঞ্জামাদি বিক্রি, টাকা নিয়ে কর্মচারীদের বেতন, বিলে সই করাসহ আরও কয়েকটি অভিযোগ আনা হয়েছে। কর্মচারীদের পক্ষে ইউনিয়ন স্বাস্থ্য পরিদর্শক শহীদুল্লাহ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের (ডিজি) কাছে গত আগস্টে তাঁর বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেছেন।
অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, রফিকুল ইসলাম জাল সনদপত্র দিয়ে এমএলএসএস পদ থেকে তিন বছর আগে এমটি পদে চাকরি নিয়েছেন। গত বছর একই ঘটনা ঘটিয়ে তিনি সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির অতিরিক্ত দায়িত্বে আছেন। তিনি কমিউনিটি ক্লিনিকে কর্মরত কর্মচারীদের কাছ থেকে ঘুষ নিয়ে বেতন ও আনুষঙ্গিক বিলে সই করেন। কার্যালয়ের টিকা রাখার রেফ্রিজারেটরে তিনি নিজের বাড়ির মাছ, মাংস ও কাঁচা বাজার রাখেন। তিনি প্রতি মাসে টিকাদান কর্মসূচির সরঞ্জাম কেনার তালিকায় মাঠ কর্মচারীদের সই নিয়ে তা বাজারে বিক্রি করেন। এমনকি মাঠ থেকে ফেরত টিকাদানের সরঞ্জাম প্রতি মাসে পুড়ে ফেলার নিয়ম থাকলেও তা বাজারে বিক্রি করেন। ইউনিয়ন স্বাস্থ্য সহকারী ও সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শকদের কাছ থেকে ঘুষ নিয়ে মাঠে না পাঠিয়ে কার্যালয়ে বসেই তাঁদের টালি শিট তৈরি করে দেন। ভুয়া ভাউচার দিয়ে ইপিআইয়ের মাসিক আনুষঙ্গিক খরচের বিল তুলে তা আত্মসাৎ করেন। ইউনিয়নে অবস্থিত কমিউনিটি ক্লিনিক পরিদর্শনকালে মাঠকর্মীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারও করেন।
রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘বিষয়টি এ মুহূর্তে তদন্তে আছে। তদন্ত বোর্ডের কর্মকর্তার কাছে আমার কাগজপত্র দাখিল করেছি। স্যাররাই সিদ্ধান্ত দেবেন।’
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মহসিন আলী ফকির বলেন, রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে করা অভিযোগপত্রটি মহাপরিচালকের (ডিজি) কাছে পাঠানো হয়েছে। ডিজি তদন্তের জন্য জেলা সিভিল সার্জনকে দায়িত্ব দিয়েছেন। তিনি ইতিমধ্যে তদন্ত শুরু করেছেন।
জেলা সিভিল সার্জন অর্ধেন্দু দেব বলেন, ‘১১ অক্টোবর দুপচাঁচিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে তদন্ত করেছি। শিগগিরই তদন্ত প্রতিবেদন ডিজির কার্যালয়ে পাঠানো হবে। উনিই ব্যবস্থা নেবেন।’