টেকনাফে যুবলীগ নেতা হত্যা মামলার প্রধান আসামি 'বন্দুকযুদ্ধে' নিহত

প্রতীকী ছবি
প্রতীকী ছবি

কক্সবাজারের টেকনাফে পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ যুবলীগ নেতা মো. ওমর ফারুক হত্যা মামলার প্রধান আসামি নুর মোহাম্মদ (৩৪) নিহত হয়েছেন। এ সময় পুলিশের একজন পরিদর্শকসহ তিনজন আহত হন।

আজ রোববার ভোররাত সাড়ে পাঁচটার দিকে উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের জাদিমোরা পাহাড়ের পাদদেশে কথিত এ বন্দুকযুদ্ধে ঘটনা ঘটে। প্রথম আলোকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মো. ইকবাল হোসেন।

নূর মোহাম্মদ টেকনাফের হ্নীলার জাদিমোরা-২৬ নম্বর রোহিঙ্গা শরণার্থীশিবিরের বাসিন্দা ছিলেন। তাঁর বাড়ি মিয়ানমারের আকিয়াবের জেলার মংডু শহরের বুড়া সিকদারপাড়া গ্রামে।

পুলিশের ভাষ্য, নূর মোহাম্মদ রোহিঙ্গা ডাকাত দলের সক্রিয় সদস্য ছিলেন। তিনি যুবলীগ নেতা ওমর ফারুক হত্যা মামলার প্রধান আসামি। ঘটনাস্থল থেকে একটি শুটারগান, চারটি দেশীয় অস্ত্র (এলজি), ১৮টি তাজা কার্তুজ ও ২০টি কার্তুজের খালি খোসা উদ্ধার করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে হত্যা, ডাকাতি, অপহরণসহ একাধিক মামলা আছে। এ ঘটনায় টেকনাফ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) এবিএমএস দোহা, কনস্টেবল অন্তু চৌধুরী ও মো. আরশাদুল আহত হয়েছেন।

গত ২২ আগস্ট রাত সাড়ে ১০টার দিকে টেকনাফে হ্নীলা ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি মোহাম্মদ ওমর ফারুককে (৩০) তাঁর বাড়ির সামনে থেকে রোহিঙ্গা ডাকাত সর্দার মোহাম্মদ সেলিমের নেতৃত্বে একদল অস্ত্রধারী তুলে নিয়ে যান। রোহিঙ্গা শরণার্থীশিবিরের পশ্চিম পাশের পাহাড়ের কাছ থেকে তাঁর গুলিবিদ্ধ লাশ পাওয়া যায়।

এ ঘটনায় নিহত ব্যক্তির বাবা মোহাম্মদ মোনাফ কোম্পানি বাদী হয়ে পরের দিন টেকনাফ মডেল থানায় ১৭ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন। ওই রাতেই এজাহারভুক্ত দুই আসামি মোহাম্মদ শাহ ও মো. আবদুস শুক্কুর এবং পরের দিন মোহাম্মদ হাসান নামের আরও একজন পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন।

কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মো. ইকবাল হোসেন বলেন, গত শুক্রবার বিকেলে টেকনাফের হ্নীলার জাদিমোরা এলাকা থেকে নূর মোহাম্মদকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাঁর স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে আজ ভোররাতে টেকনাফ মডেল থানার পুলিশ তাঁকে নিয়ে অস্ত্র উদ্ধার অভিযানে যায়। নূরের সহযোগীরা তাঁকে পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেওয়ার জন্য এলোপাতাড়ি গুলি করে। এ সময় পুলিশের তিনজন আহত হন। পুলিশও পাল্টা গুলি ছুড়ে। পরে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় নূর মোহাম্মদ ও তিন পুলিশ সদস্যকে উদ্ধার করে টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। জরুরি বিভাগের চিকিৎসক নূর মোহাম্মদকে মৃত ঘোষণা করেন।

টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে চিকিৎসক শংকর চন্দ্র দেবনাথ প্রথম আলোকে বলেন, সকালে পুলিশ চারজনকে হাসপাতালে নিয়ে আসেন। এর মধ্যে হাসপাতালে আনার আগে নূর মোহাম্মদ নামের একজন মারা যান। তাঁর শরীরে ৬টি গুলি লেগেছে। এ ছাড়া আহত তিনজন পুলিশ সদস্যকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মো. ইকবাল হোসেন বলেন, লাশটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। এ ব্যাপারে মামলার প্রক্রিয়া চলছে।