দুই ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে গাছ কাটার অভিযোগ
গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার কাটাবাড়ি ও সাপমারা ইউনিয়নে নির্বিচারে গাছ কাটা হচ্ছে। ওই দুই ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান ওই গাছ কাটছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
কাটাবাড়ি ও সাপমারা ইউপি কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ১০ বছর আগে কাটাবাড়ি ইউনিয়নের হাউসিপাড়া থেকে সাপমারা ইউনিয়নের কোটালপুর পর্যন্ত সড়কের দেড় কিলোমিটার অংশে প্রায় ৫০০ ইউকেলিপটাস জাতের গাছ লাগানো হয়। কিন্তু গাছ কাটার নীতিমালা উপেক্ষা করে ওই দুই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান গত ২৫ ফেব্রুয়ারি থেকে গাছ কাটা শুরু করেন। গতকাল বৃহস্পতিবার পর্যন্ত তাঁরা প্রায় ২৫০টি গাছ কাটেন; যার মূল্য প্রায় ছয় লাখ টাকা। এসব গাছের গুঁড়ি ট্রাকে করে প্রতিদিন বিভিন্ন জেলায় পাঠানো হচ্ছে।
গতকাল সরেজমিনে দেখা যায়, হাউসিপাড়া-কোটালপুর সড়কের গাছ কেটে একটি ধানের চাতালের পাশে স্তূপ করে রাখা হয়েছে। সেখানে গাছের গুঁড়ি দাঁড়িপাল্লায় ওজন করে ছোট ট্রাকে ভরা হচ্ছে। কিছু গাছ সড়কের পাশে ফেলে রাখা হয়েছে। ওই দেড় কিলোমিটার সড়কজুড়ে শুধু কাটা গাছের গোড়া। এ সময় হাউসিপাড়া গ্রামের ব্যবসায়ী মহব্বত আলী বলেন, ‘গাছগুলো যেমন পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করত, তেমনি সড়কটির সৌন্দর্য বাড়িয়ে দিয়েছিল। কিন্তু কয়েক দিন ধরে গাছ কাটা হচ্ছে। গতকালও গাছ কাটতে দেখেছি।’ একই গ্রামের কৃষক আবু বকর বলেন, ‘কয়েক দিনেই দুই ইউনিয়নের চেয়ারম্যানের নির্দেশে গাছ কেটে সাবাড় করা হচ্ছে। কিন্তু দেখার কেউ নেই।’
এলজিআরডি মন্ত্রণালয়ের পরিপত্রের গাছ কাটার নীতিমালা অনুযায়ী, ইউপি মালিকানাধীন কোনো গাছ বিক্রয় করতে ইউপির সভায় সিদ্ধান্ত নিতে হবে। শুধু তা-ই নয়, এ সিদ্ধান্ত অনুমোদনের জন্য প্রস্তাব আকারে উপজেলা কমিটি বরাবর পাঠাতে হবে। এই উপজেলা কমিটির আহ্বায়ক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সদস্যসচিব সহকারী কমিশনার (ভূমি)। অন্য চার সদস্য হলেন উপজেলা প্রকৌশলী, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ও বিভাগীয় বন কর্মকর্তার প্রতিনিধি। কিন্তু উপজেলা কমিটির কাছে অনুমোদনের কোনো প্রস্তাব না পাঠিয়ে ওই দুই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান গাছ কেটে বিক্রি করছেন।
কাটাবাড়ির ইউপির সদস্য শাহ আলম গতকাল মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমাদের ইউনিয়নে গাছ কাটার বিষয়ে পরিষদে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।’
মুঠোফোনে কাটাবাড়ি ইউপির চেয়ারম্যান জোবায়ের হাসান দাবি করেন, ইউপির সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গাছ কাটা হচ্ছে। তবে সাপমারা ইউপির চেয়ারম্যান তোফাজ্জল হোসেন গাছ কাটার কথা অস্বীকার করেন।
ইউএনও আবদুল হান্নান বলেন, ‘ওই দুটি ইউপি থেকে গাছ বিক্রির অনুমতির জন্য কোনো প্রস্তাব গতকাল পর্যন্ত পাইনি।’