ধর্ষণের শিকার ছাত্রীর মাদ্রাসায় যাওয়া বন্ধ
ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলায় ধর্ষণের শিকার এক ছাত্রীর (১২) মাদ্রাসায় যাওয়া বন্ধ হয়ে গেছে। ধর্ষণের ঘটনায় মামলা হলেও টাকা নিয়ে ঘটনাটি মিটিয়ে ফেলতে দরিদ্র পরিবারটিকে চাপ দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
মামলার বিবরণ ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ওই মাদ্রাসাছাত্রী ও অভিযুক্ত যুবকের (২৫) উভয়ের বাড়ি নান্দাইলের চণ্ডীপাশা ইউনিয়নের একটি গ্রামে। মেয়েটির বাবা-মা কর্মসূত্রে চট্টগ্রামে বাস করেন। মেয়েটি তার নানার বাড়িতে থেকে স্থানীয় একটি মাদ্রাসায় পড়ালেখা করে। গত ২৭ জুন সন্ধ্যার পর সে প্রতিবেশীর বাড়িতে যাচ্ছিল। এ সময় ওই যুবক গামছা দিয়ে মেয়েটির মুখ পেঁচিয়ে পাঁজাকোলা করে তুলে জঙ্গলে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করেন। একপর্যায়ে মেয়েটির চিৎকার শুনে লোকজন ছুটে গেলে যুবকটি পালিয়ে যান। ঘটনাটি এলাকায় জানাজানি হওয়ায় লজ্জায় মেয়েটি আর মাদ্রাসায় যাচ্ছে না।
গত বুধবার বাড়িতে গেলে মেয়েটি এ প্রতিবেদককে বলে, ‘লোকালয়ে বসবাস করেও আমার ইজ্জত বাঁচাতে পারিনি। লজ্জায় এখন মাদ্রাসায় যেতে পারছি না।’
এলাকার চারজন বলেন, মেয়েটির নানা অত্যন্ত গরিব মানুষ। টাকার জোরে অভিযুক্ত যুবকের পরিবার সবকিছুকে তুচ্ছ মনে করছে। কিছু টাকা নিয়ে তারা ধর্ষণের ঘটনাটি মিটিয়ে ফেলতে মেয়েটির পরিবারকে চাপ ও হুমকি দিচ্ছে।
এদিকে ধর্ষণের অভিযোগে মেয়েটির নানা ২ জুলাই নান্দাইল মডেল থানায় ওই যুবকের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। তবে পুলিশ গাফিলতি দেখাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসী জানান, আসামি ধরা দূরের কথা, গত বুধবার (১৩ জুলাই) পর্যন্ত পুলিশ এলাকাতেই আসেনি।
জানতে চাইলে গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে মুঠোফোনে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) মো. নাজিম উদ্দিন বলেন, তিনি আজ (গতকাল) ধর্ষণের শিকার মেয়েটির বাড়িতে গিয়েছিলেন। আসামি পলাতক থাকায় তাঁকে গ্রেপ্তার করা যায়নি।