নিষিদ্ধ ওষুধ পাওয়া গেলেই দোকান বন্ধ
সম্প্রতি নিষিদ্ধ তিন ধরনের ওষুধ যে দোকানে পাওয়া যাবে, সেটি বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর। গতকাল বুধবার অধিদপ্তরের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানানো হয়। পাশাপাশি নিষিদ্ধ ঘোষিত ওষুধ উৎপাদন করলে কারখানার নিবন্ধন বাতিলেরও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
নিষিদ্ধ ঘোষিত ওষুধগুলো হলো জ্বর ও ব্যথানাশক প্যারাসিটামল (৫০০ মিলিগ্রাম) ও ডি-এল মিথিওনিনের (১০০ মিলিগ্রাম) মিশ্রণ এবং ডায়াবেটিসের দুটি ওষুধ পায়োগ্লিটাজন ৩০ মিলিগ্রাম ও ৪৫ মিলিগ্রাম এবং রসিগ্লিটাজন ২ মিলিগ্রাম ও ৪ মিলিগ্রাম। বাংলাদেশের ৩০টি ওষুধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান এ তিন ধরনের ৫১টি ওষুধ উৎপাদন করছিল। ঔষধ নিয়ন্ত্রণ কমিটির ৪৪তম সভায় এ বছরের জুলাইয়ে সিদ্ধান্তটি নেওয়া হয়।
ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, প্যারাসিটামলের ৬০টি এবং পায়োগ্লিটাজন ও রসিগ্লিটাজনের ২০ থেকে ২২টি বিকল্প বাজারে আছে। তাই এ তিন ধরনের ওষুধ নিষিদ্ধ করায় উদ্বেগের কোনো কারণ নেই। তিনি বলেন, প্যারাসিটামল ও ডি-এল মিথিওনিনের মিশ্রণ যকৃতকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। এ ছাড়া ক্যানসার, বিপাকক্রিয়া ও মস্তিষ্কে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। পায়োগ্লিটাজন মূত্রথলিতে ক্যানসার ও রসিগ্লিটাজন হৃদ্যন্ত্র অচল করে দিতে পারে। এ বিবেচনা থেকে ওষুধটির বিভিন্ন মাত্রা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মিথিওনিন আলাদাভাবে বিভিন্ন ভিটামিনে স্বল্পমাত্রায় ব্যবহার করা হয়। আলাদাভাবে প্যারাসিটামল ও মিথিওনিন সেবনে অসুবিধা নেই। তাই মিথিওনিন আছে এমন ওষুধ প্রত্যাহারের কোনো চিন্তা নেই অধিদপ্তরের। অন্যদিকে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত কোনো কোনো রোগীর শরীরে ইনসুলিন কাজ করে না। তাদের জন্য পায়োগ্লিটাজন জরুরি ওষুধ। সে কারণে পায়োগ্লিটাজন-১৫ মিলিগ্রাম উৎপাদন ও বিপণনে বাধা নেই। তবে পায়োগ্লিটাজন-১৫ মিলিগ্রাম মিশ্রণটি যে যে প্রতিষ্ঠান উৎপাদন করবে, তাদের অবশ্যই লাল কালিতে কিছু সতর্কবার্তা লিখে দিতে হবে। যেমন ওষুধটি এক বছরের বেশি সময় সেবন করা যাবে না, একসঙ্গে একাধিক বড়ি সেবন করা যাবে না ইত্যাদি।
ঔষধ মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবদুল মুক্তাদির দাবি করেছেন, উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো নিষিদ্ধ ওষুধগুলো বাজার থেকে তুলে নিয়েছে।
অন্য এক প্রসঙ্গে অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বলেন, যেসব চিকিৎসক ব্যবস্থাপত্রে ফুড সাপ্লিমেন্ট ও চোরাই পথে আসা বিদেশি ওষুধ লিখছেন, তাঁদের নিবন্ধন বাতিলের জন্য তাঁরা স্বাস্থ্যমন্ত্রীর কাছে সুপারিশ করেছেন। ওই বৈঠকে চিকিৎসকদের শীর্ষ সংগঠন বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ) ও চিকিৎসকদের নিবন্ধনদানকারী প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের (বিএমডিসি) প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। অধিদপ্তর বলছে, বিদেশ থেকে যেসব ওষুধ চোরাই পথে আসছে, সেগুলো মানহীন ওষুধ। এগুলো ঠেকাতে অধিদপ্তর প্রতিটি বন্দরে ২৪ ঘণ্টা নিজস্ব কর্মী রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
অধিদপ্তরের মুখপাত্র মো. রুহুল আমিন বলেন, সরকারি পরীক্ষাগারে গত সাত মাসে ৪ হাজার ৮৪৬টি ওষুধের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এর মধ্যে মোট ১৫৩টি ওষুধ ছিল সেবন অনুপযোগী। এই সময়ে নকল-ভেজাল নিবন্ধিত, নকল, মেয়াদোত্তীর্ণ, মানবহির্ভূত ও সরকারি ওষুধ এবং সনদবিহীন ওষুধ উৎপাদন ও বিপণনের জন্য ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় অবস্থিত ৪৯৯টি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা ও জরিমানা করেছে। ঢাকা মহানগরে বর্তমানে অধিদপ্তরের তিনটি দল নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছে।