নিষিদ্ধ, তারপরও মা মাছ ও রেণু পোনা শিকার

সিরাজগঞ্জ জেলাসহ চলনবিল এলাকায় মা ও রেণু পোনা শিকারের অভিযোগ উঠেছে। প্রতিদিন চিকন জাল দিয়ে (বাদাই জাল) এ মাছ ধরা হচ্ছে। স্থানীয় সব হাটবাজার, মাছের আড়তে এ পোনা অবাধে বিক্রিও হচ্ছে। আইনগতভাবে এই পোনা শিকার নিষিদ্ধ হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না।
দুদিন ধরে (শুক্রবার ও শনিবার) শাহজাদপুর উপজেলার চিনাধুকুরিয়ার বিল ও তাড়াশের চলনবিল এলাকার বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখা গেছে, শৌখিন ও পেশাদার মৎস্যজীবীরা বাদাই জাল দিয়ে মাছ শিকার করছেন। একবার জাল টানলে তাতে ঝাঁকে ঝাঁকে মাছ উঠছে। এগুলোর মধ্যে বোয়াল, পুঁটি, টেংরা, চিতল, শোল, টাকি, শিং, কাতল, রুই, মৃগেলসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ রয়েছে।
শাহজাদপুর উপজেলার ব্রজবালা গ্রামের জাহাঙ্গীর আলম বলেন, শুধু চিনাধুকুরিয়ার বিস্তীর্ণ বিল এলাকায় প্রতিদিন ২০টি বাদাই জাল দিয়ে মাছ শিকার করা হচ্ছে। যদি এই মাছগুলো আর মাত্র ১০ দিন পর ধরা হতো, তাহলে মাছগুলো বড় হতো। পাশাপাশি মা-মাছগুলোর ডিম পাড়া শেষ হতো। মাছের উৎপাদন বাড়ত।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন মৎস্যজীবী বলেন, বর্তমানে মা মাছের ডিম পাড়ার সময়। এ সময় রেণু ও পোনায় এলাকা ছেয়ে যায়। তা ছাড়া মাছগুলো নীরব থাকায় শিকারেও সুবিধা হয়। তা ছাড়া কেউ তো বাধাও দিচ্ছে না।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মনিরুল হোসেন শেখ বলেন, আইনগতভাবে মা মাছ ও ৯ ইঞ্চির চেয়ে ছোট মাছ ধরা দণ্ডনীয়। এ সময় তিন মাস এ ধরনের মাছ শিকারের অনুমতি নেই। উপজেলাগুলোতে মৎস্য কর্মকর্তাদের মাধ্যমে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে।
শাহজাদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শামীম আহমেদ বলেন, অবৈধভাবে মাছ শিকার করায় মৎস্যজীবীদের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা শুরু হয়েছে। এরই মধ্যে লক্ষাধিক টাকার জাল আটক করে ধ্বংস করা হয়েছে।