নোয়াখালীতে হামলায় চাচা ও ভাতিজা নিহত

নোয়াখালীতে জমি নিয়ে সৎভাইদের মধ্যে সংঘর্ষে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে দুজন নিহত হয়েছেন। গতকাল শুক্রবার দুপুরে সদর উপজেলার নোয়ান্নই ইউনিয়নের শিবপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত দুজন হলেন ইব্রাহিম খলিল (৫৭) ও তাঁর ভাতিজা আলাউদ্দিন (১৮)। সংঘর্ষে নারীসহ অন্তত আরও নয়জন আহত হয়েছেন।
হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগে নিহত ইব্রাহিম খলিলের সৎভাই সুমন (২৫) ও তাঁর সহযোগী আরমানকে (২৭) আটক করেছে পুলিশ।
আহত ব্যক্তিদের মধ্যে পাঁচজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তাঁরা হলেন মো. রফিক (৩০), আবদুর রহিম (৩৪), মো. রাজীব (২০), জেসমিন আক্তার (৪২) ও সিরাজ মিয়া (৫৫)। তাঁদের নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
নোয়ান্নই ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য নূরুল আলম বলেন, বাবার দুই স্ত্রীর ছেলেদের মধ্যে জমি নিয়ে মারামারি হয়েছে। এতে ঘটনাস্থলে এক ভাই ও আরেক ভাইয়ের ছেলে নিহত হয়েছেন।
সুধারাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, হামলায় জড়িত সবাইকে আটকের চেষ্টা চলছে।
হাসপাতালে আহত সিরাজ মিয়া প্রথম আলোকে জানান, তাঁর বাবা মৃত ইদ্রিস মিয়ার দুই স্ত্রী ছিল। অনেক আগে থেকেই তাঁরা একই গ্রামে পাশাপাশি দুই বাড়িতে বসবাস করে আসছেন। গতকাল তাঁরা বাড়ির পাশের একটি জমিতে বোরো ধানের বীজতলা করতে চাষ করছিলেন। দুপুরে বীজতলা বসানোর আগে তাঁর সৎভাই হারুনু রশিদ, মো. সুমন ও গাজী এসে বাধা দেন এবং ওই জমি তাঁদের বলে দাবি করেন। এ নিয়ে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে সৎভাইয়েরা বাড়ি থেকে ধারালো অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে তাঁদের ওপর হামলা চালান। এতে তাঁর ছেলে এবং বড় ভাই ঘটনাস্থলে মারা যান।
নোয়াখালীর জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মো. ইলিয়াছ শরীফ নিহত ও আহত ব্যক্তিদের দেখতে হাসপাতালে যান। সদর থানার পুলিশকে এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নিতে তিনি নির্দেশ দিয়েছেন।