পাউবোর বিশ্রামাগার দখল করে অটোরিকশার স্ট্যান্ড

লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার পানি উন্নয়ন বোর্ডের বিশ্রামাগারের আঙিনায় রাখা অটোরিকশার সারি। সম্প্রতি তোলা ছবি l প্রথম আলো
লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার পানি উন্নয়ন বোর্ডের বিশ্রামাগারের আঙিনায় রাখা অটোরিকশার সারি। সম্প্রতি তোলা ছবি l প্রথম আলো

লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বিশ্রামাগারটি দখল করে অটোরিকশার স্ট্যান্ড গড়ে তোলা হয়েছে। অটোরিকশার চালক ও মালিকেরা পাঁচ বছর ধরে অবৈধভাবে এটি দখল করে রাখলেও পাউবো কর্তৃপক্ষ যথাযথ ব্যবস্থা নেয়নি।
সম্প্রতি উপজেলা পরিষদ সড়কের পাশের এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, পাউবো বিশ্রামাগারের সীমানাপ্রাচীরের ভেতরের প্রায় ২৫ শতাংশ জায়গা দখল করে প্রায় ৪০টি সিএনজিচালিত অটোরিকশা রাখা হয়েছে। অটোরিকশার স্ট্যান্ড হয়ে যাওয়ায় বিশ্রামাগারটি আর ব্যবহৃত হয় না। ফলে এটি এখন বেহাল অবস্থায় পড়ে আছে। দেয়ালে জমে আছে শেওলা, জানালা-দরজার অবস্থাও ভালো না। কোনো কর্মচারীও আর সেখানে কাজ করেন না।
ওই এলাকার দুজন বাসিন্দা বলেন, অটোরিকশার চালক ও মালিকেরা জায়গাটা দখল করে ফেলেছেন। সন্ধ্যার পর এখানে নানা লোকের আড্ডা বসে।
পাউবো চাঁদপুর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, পরিকল্পিতভাবে বন্যানিয়ন্ত্রণ, পানি সেচ ও নিষ্কাশনের জন্য ১৯৭৪ সালে চাঁদপুর সেচ প্রকল্পের (সিআইপি) কার্যক্রম শুরু হয়। প্রকল্পের অধীনে আছে রায়পুর, লক্ষ্মীপুর সদর (আংশিক), রামগঞ্জ (আংশিক), ফরিদগঞ্জ, চাঁদপুর সদর (আংশিক) ও হাইমচর উপজেলা। ওই সময় রায়পুর শহরের উপজেলা পরিষদ সড়কে চার কক্ষবিশিষ্ট পাউবো বিশ্রামাগারটি নির্মাণ করে। এরপর থেকে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী ও ভিআইপি লোকজন রায়পুরে এলে সেখানে থাকতেন।
কিন্তু ২০১০ সালের শেষ দিকে অটোরিকশার মালিক ও চালকেরা এটাকে তাঁদের স্ট্যান্ড হিসেবে ব্যবহার করেন। এতে বিভিন্ন স্থান থেকে সরকারি ও বেসরকারি কর্মকর্তারা রায়পুরে এলেও থাকার মতো পরিবেশ না পেয়ে ফিরে যান। ঢাকার একটি এনজিও কর্মকর্তা মাহাবুবুল আলম রায়পুরে আসেন। তিনি বলেন, জেলা পরিষদের বিশ্রামাগারে কক্ষ না পেয়ে পাউবোর বিশ্রামাগারে যান। সেখানে গিয়ে দেখেন শতাধিক অটোরিকশা চারপাশে রাখা হয়েছে। এই অবস্থা দেখে তিনি সেখান থেকে চলে আসেন।
অটোরিকশা মালিক ফরহাদ হোসেন বলেন, ‘বিশ্রামাগারের চারপাশে বেশ খালি জায়গা আছে। এ জন্য অটোরিকশার মালিকেরা দীর্ঘদিন থেকে এটিকে স্ট্যান্ড হিসেবে ব্যবহার করছেন। কর্তৃপক্ষ নিষেধ করলে আমরা অটোরিকশা রাখতাম না।’
পানি উন্নয়ন বোর্ডের রায়পুর কার্যালয়ের উপসহকারী প্রকৌশলী ইদ্রিস মিয়া বলেন, দুই বছর আগে থানায় মৌখিক অভিযোগ করে পুলিশকে দিয়ে অটোরিকশাগুলো বের করা হয়েছিল। কিছুদিন পর আবার চালকেরা অটোরিকশা রাখা শুরু করেন। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো হবে।