পুলিশ কর্মকর্তাকে পেটালেন ঘাটের দালালেরা!
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে গতকাল শুক্রবার মধ্যরাতে এক পুলিশ কর্মকর্তাকে পিটিয়ে জখম করেছেন দৌলতদিয়া ঘাটের দালালেরা। বিকল্প সড়কে উল্টো পাশ দিয়ে দৌলতদিয়া ঘাটে গাড়ি নিয়ে প্রবেশ করার কারণ জানতে চাওয়ায় ওই কর্মকর্তাকে মারধর করা হয়। তাঁর নাম মো. ফিরোজ শেখ (৫২)। তিনি রাজবাড়ী ট্রাফিক বিভাগের সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই)। বর্তমানে তিনি গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন আছেন।
এ ঘটনায় পুলিশ অভিযান চালিয়ে গতকাল মধ্যরাতেই দৌলতদিয়া ঘাট থেকে হামলাকারী চক্রের মো. রুবেল সরদার (২৫) নামের এক তরুণকে গ্রেপ্তার করে। তিনি উপজেলার দৌলতদিয়া ইউনিয়নের ওমর আলী মোল্লার পাড়ার বাসিন্দা। গণপিটুনিতে আহত হয়ে তিনিও গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন আছেন।
আহত পুলিশ কর্মকর্তা ফিরোজ শেখ ও স্থানীয় কয়েকজন বলেন, গতকাল রাত সাড়ে ১২টার দিকে দৌলতদিয়া ফেরি ঘাটে দ্রুত পৌঁছাতে একটি পিকআপ ভ্যান বিকল্প সড়ক দিয়ে উল্টো পথে ৫ নম্বর ফেরি ঘাটের মাথায় যায়। উল্টো পথে গাড়ি আসায় ফেরি থেকে আনলোড হওয়া দক্ষিণাঞ্চলমুখী গাড়ি সড়কে উঠতে না পারায় ওই এলাকায় যানজট বেঁধে যায়। এ সময় ঘাটে এএসআই ফিরোজ শেখ, মনির হোসেন ও পুলিশ সদস্য লুৎফর রহমান কর্মরত ছিলেন। ফিরোজ দ্রুত গাড়ির কাছে গিয়ে উল্টো পথ দিয়ে ঘাটে পৌঁছার কারণ জানতে চাইলে চালকের আসনের পাশের আসনে বসে থাকা এক তরুণ উল্টো প্রশ্ন করেন। এ সময় ফিরোজ চালকের কাছ থেকে গাড়ির প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখতে চাইলে প্রথমে রাজি না হলেও একপর্যায়ে তিনি কাগজপত্র দেন। তিনি ঘটনাস্থল থেকে একটু দূরে বৈদ্যুতিক খুঁটির কাছে আলোতে গিয়ে কাগজপত্র পর্যবেক্ষণ করছিলেন। পুলিশ কর্মকর্তা গাড়ির বিরুদ্ধে মামলা করার প্রস্তুতি নিলে ঘাটের দালাল চক্রের নেতা রুবেল সরদারের নেতৃত্বে ৪-৫টি মোটরসাইকেলে করে ১০-১২ জন গিয়ে পুলিশ কর্মকর্তাকে মারধর করতে থাকেন। পরে খবর পেয়ে গোয়ালন্দ ঘাট থানা-পুলিশ গুরুতর আহত এএসআই ফিরোজকে উদ্ধার করে রাত একটার দিকে গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে ভর্তি করে।
এদিকে এএসআই ফিরোজের ওপর অতর্কিত হামলার সময় ঘাটে আটকে থাকা পরিবহনের যাত্রী ও স্থানীয় লোকজনের মারধরে রুবেল সরদার আহত হন। পরে পুলিশ রাতেই অভিযান চালিয়ে আহত রুবেলকে আটক করে চিকিৎসার জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় আহত এএসআই ফিরোজ শেখ বাদী হয়ে রুবেল সরদার, মো. হামজা ও মুসা ভূঁইয়ার নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত আরও ১০-১২ জনকে আসামি করে গোয়ালন্দ ঘাট থানায় মামলা করেছেন।
এ প্রসঙ্গে গোয়ালন্দ ঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি-তদন্ত) মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় রাতেই অভিযান চালিয়ে রুবেল সরদারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি আসামিদের ধরতে পুলিশ কাজ করছে।