বিএনপি-জামায়াতের ৮৮ নেতা-কর্মী কারাগারে

নাশকতার ১১টি মামলায় কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি ও কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য শরীফুল আলমসহ বিএনপি ও জামায়াতের ৮৮ নেতা-কর্মীকে জেলহাজতে পাঠিয়েছেন আদালত। আজ বুধবার দুপুরে তাঁরা পৃথক দুটি আদালতে হাজিরা দিলে জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ মাহবুবুল হক ও অতিরিক্ত দায়রা জজ আবদুর রহমান এ আদেশ দেন।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ৫ জানুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর কুলিয়ারচর, ভৈরব, কিশোরগঞ্জ সদর ও করিমগঞ্জে নাশকতার ঘটনায় কুলিয়ারচর থানায় চারটি, ভৈরব থানায় চারটি, কিশোরগঞ্জ সদর থানায় একটি ও করিমগঞ্জ থানায় দুটি করে মোট ১১টি মামলা দায়ের করা হয়। মামলাগুলোতে বিএনপি নেতা শরীফুল আলমের নেতৃত্বে বিএনপি-জামায়াত জোটের এসব নেতা-কর্মীরা ওই সব নাশকতায় অংশ নেয় বলে অভিযোগ করা হয়।

এসব মামলার তদন্ত শেষে আদালতে অভিযোগপত্র দিলে দুইটিতে শরীফুল আলমসহ বিএনপি-জামায়াত নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। ওই সব মামলায় আজ ৯৫ নেতা-কর্মী আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন। আদালত অসুস্থতার কারণে সাতজনকে জামিন দেন এবং শরীফুল আলমসহ বাকি ৮৮ নেতা-কর্মীকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এসব নেতা-কর্মীর মধ্যে দুজন বাদে সবাই কুলিয়ারচর ও ভৈরব উপজেলার বাসিন্দা।

এ দিকে নেতা-কর্মীদের আদালতে আত্মসমর্পণ করতে যাওয়ার খবরে অন্য আরও অনেক দলীয় নেতা-কর্মী আদালতে ভিড় করে। এ সময় আদালত পাড়ায় বিশৃঙ্খল অবস্থার সৃষ্টি হয়। আদালতপাড়ার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিপুল পরিমাণ পুলিশ মোতায়েন করা হয়। আসামিদের জামিন আবেদন বাতিল করায় আদালত প্রাঙ্গণে বিক্ষোভ মিছিল করে বিএনপি নেতা-কর্মীরা। তবে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। পরে বেলা দেড়টার দিকে তাঁদের কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে কিশোরগঞ্জ জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।

কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, রাজনৈতিকভাবে হয়রানি করার জন্যই মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে বিএনপি ও জামায়াতের ৮৮ নেতা-কর্মীকে জেলে পাঠানো হয়েছে।