মাত্র ২০০০ টাকার জন্য কিশোর খুুন

কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে নিখোঁজ হওয়ার দুই দিন পর সাগর মিয়া (১৫) নামের ব্যাটারিচালিত রিকশাচালকের লাশ উদ্ধার হয়েছে। গত শনিবার বিকেলে উপজেলার বাজরা-চৌমুড়ি সড়কের তারাকান্দি নামক স্থানের ধানখেত থেকে তার লাশ পাওয়া যায়।
এ ঘটনায় রিফাত মিয়া ও সুজন মিয়া নামের দুজনকে আটক করা হয়েছে। রিফাত একই জেলার বাজিতপুর উপজেলার রাবারকান্দি এলাকার দুলাল মিয়ার ছেলে এবং সুজনের বাবার নাম কাশেম।
নিহত সাগরের পরিবারের সদস্যরা জানান, সাগরের বাড়ি বাজিতপুরের বলিয়ারদী গ্রামের আতকাপাড়া গ্রামে। বাবার নাম ইদ্রিস মিয়া। তিনি দুই বছর আগে মারা যান। এরপর সংসারের হাল ধরতে সাগর রিকশা চালানো শুরু করে। এক বছর ধরে ব্যাটারিচালিত রিকশা চালায়। সুজন ও রিফাত তার পূর্বপরিচিত। কয়েক মাস আগে তারা সাগরের কাছ থেকে দুই হাজার টাকা ধার নেয়। কিন্তু পরিশোধ করছিল না। সম্প্রতি সাগরের টাকার প্রয়োজন ছিল। এ জন্য সুজন ও রিফাতের কাছে টাকা চায় সে। এতে তারা ক্ষুব্ধ হয়। গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সাগরের রিকশায় তারা আরোহী হয়ে ঘুরতে বের হয়। এরপর আর সাগর বাড়িতে ফেরেনি। শনিবার বিকেলে পথচারীরা ধানখেতে সাগরের লাশ পড়ে থাকতে দেখে
পুলিশে খবর দেন। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
সাগরের মা আছমা বেগম বলেন, স্বামী মারা যাওয়ার পর সংসারে ছেলে সাগরের ভূমিকাই ছিল বেশি। বৃহস্পতিবার রিফাত ও সুজন বাড়ি থেকে সাগরকে ডেকে নিয়ে যায়। সাগর ফিরে না আসায় তাঁরা সুজন ও রিফাতেরও সন্ধান করেছেন। কিন্তু তাদের পাননি। তখন তাঁদের সন্দেহ বাড়ে।
থানা হেফাজতে সুজন ও রিফাত সাংবাদিকদের বলেন, সাগর তাদের বন্ধু। সাগর তাদের কাছে টাকা পেত, সেটা সত্য। কয়েক দিন ধরে সে টাকার জন্য চাপ দিচ্ছিল। তারা ভেবেছিল সাগরকে ভয় দেখাবে। বৃহস্পতিবার তারাকান্দি এলাকায় নেওয়ার পর তারা তার গলা চাপ দিয়ে ধরে। কিন্তু কিছুক্ষণ পর দেখে সাগর আর নড়চড়া করছে না। তখন তারা তাকে ফেলেই চলে আসে।
কুলিয়ারচর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) পারভেজ আহমেদ বলেন, পাওনা টাকার সূত্র ধরে সুজন ও রিফাতের হাতে খুন হয় সাগর। দুজনই তা স্বীকার করেছে। এ ঘটনায় সাগরের পরিবারের পক্ষ থেকে হত্যা মামলার প্রস্তুতি চলছে।
সহকারী পুলিশ সুপার (ভৈরব সার্কেল) রেজওয়ান দিপু জানান, অপরাধীরা সবাই কিশোর। তাদের কিশোরগঞ্জ আদালতে তোলা হবে এবং স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করা হতে পারে।