রাজশাহীতে কিশোর সনি হত্যায় আরও দুই তরুণ গ্রেপ্তার
রাজশাহীতে কিশোর মো. সনি (১৭) হত্যায় আরও দুই তরুণকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গতকাল বুধবার রাতে ঢাকার শ্যামলী ও নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থেকে এই দুজনকে গ্রেপ্তার করে র্যাব-৫–এর রাজশাহীর মোল্লাপাড়া ক্যাম্প।
গ্রেপ্তার দুই তরুণ হলেন মামলার দুই নম্বর আসামি ও রাজশাহী নগরের হেতেম খাঁ এলাকার মৃত সোহেলের ছেলে মো. রাহিম (১৯) এবং চার নম্বর আসামি ও নগরের একই এলাকার শফিকের ছেলে মো. শাহী (১৯)। এর আগে ৪ জুলাই রাতে মামলার আট নম্বর আসামি মো. আনিমকে (১৮) গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
পুলিশ ও মামলা সূত্রে জানা গেছে, ৩ জুলাই রাত সাড়ে নয়টার দিকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ এলাকা থেকে সনিকে একদল যুবক তুলে নিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেন। সনি রাজশাহী পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সহসভাপতি রফিকুল ইসলাম ওরফে পাখির ছোট ছেলে। সনি এসএসসি পরীক্ষার্থী ছিল। তার বাড়ি নগরের বোয়ালিয়া থানার দড়িখরবোনা এলাকায়। এ ঘটনায় রোববার রাতেই নিহত কিশোরের বাবা রফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে নয়জনের নাম উল্লেখ করে হত্যা মামলা করেন। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত পুলিশ ও র্যাব মিলে তিনজনকে গ্রেপ্তার করল।
নিহত কিশোরের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, রোববার ছিল সনির জন্মদিন। জন্মদিনে এসে তার এক বন্ধু পড়ে গিয়ে আঘাত পান। রাতে সনি তার ওই বন্ধুকে দেখতে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যায়। এ সময় কিছু যুবক হাসপাতাল থেকে তাকে তুলে নিয়ে যান। তাঁরা সনিকে হেতেম খাঁ সবজিপাড়া এলাকায় নিয়ে গিয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করে রাস্তার পাশে নালায় ফেলে চলে যান। পরে স্থানীয় লোকজন তাঁকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। এ সময় চিকিৎসকেরা সনিকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় ৪ জুলাই বিকেলে সনির লাশ কাঁধে নিয়ে রাস্তা অবরোধ করে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করে এলাকাবাসী। এ কর্মসূচি থেকে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবি জানানো হয়।
গ্রেপ্তারের পর র্যাব-৫–এর পক্ষ থেকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, হত্যার ঘটনা ঘটিয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা দেশ ত্যাগ (ভারত) করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রচেষ্টায় তাঁরা তা পারেননি। দেশত্যাগে ব্যর্থ হয়ে নাটোর, সিরাজগঞ্জ, টাঙ্গাইল ও ঢাকা অতিক্রম করে আসামিরা নারায়ণগঞ্জ পর্যন্ত চলে যান। গতকাল বুধবার সকালে র্যাব জানতে পারে, এই মামলার চার নম্বর আসামি শাহী ঢাকায় অবস্থান করছেন। পরে তাঁকে ঢাকার শ্যামলী থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর দেওয়া তথ্যে মামলার দুই নম্বর আসামি রাহিমকে পাওয়া যায় নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকায়। তাঁরা দুজনই প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে এই হত্যার সঙ্গে সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন বলে র্যাব জানিয়েছে।
নগরের বোয়ালিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাজহারুল ইসলাম বলেন, তাঁরা শুনেছেন, সনি হত্যা মামলায় দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। তবে এখনো ওই দুজনকে তাঁদের কাছে হস্তান্তর করা হয়নি।