শিশু ইয়াসিনকে হত্যা করল কে
আট বছরের শিশু ইয়াসিন। রাজধানীর বাড্ডায় মা-বাবার সঙ্গে থাকত। গত ২৫ এপ্রিল সন্ধ্যায় ইয়াসিন বাসা থেকে বের হয়ে রাতে আর বাসায় ফেরেনি।
বাসায় না ফেরায় ইয়াসিনের খোঁজে নামেন তার মা-বাবা ও স্বজনেরা। কোথাও ইয়াসিনের খোঁজ না পেয়ে ভাটারা এলাকায় মাইকিং করা হয়।
নিখোঁজের পর ১ মে ভাটারা এলাকার একটি ডোবা থেকে ইয়াসিনের লাশ উদ্ধার করা হয়। সেদিনই ইয়াসিনের বাবা আলামিন বাদী হয়ে অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা করেন।
ইয়াসিন খুনের ঘটনায় জড়িত কাউকে এখন পর্যন্ত গ্রেপ্তার করতে পারেনি ভাটারা থানা-পুলিশ।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ভাটারা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সফি উদ্দিন মিয়া প্রথম আলোকে বলেন, ইয়াসিন হত্যায় জড়িত কাউকে পুলিশ চিহ্নিত করতে পারেনি, তবে চেষ্টা চলছে।
ইয়াসিনের বাবা আলামিন পেশায় রিকশাচালক। গ্রামের বাড়ি ময়মনসিংহ। ১৭ বছর আগে ঢাকায় আসেন তিনি। চার বছর ধরে উত্তর বাড্ডার বালুর মাঠ এলাকায় পরিবার নিয়ে বসবাস করছেন।
ইয়াসিন উত্তর বাড্ডার খিলবাড়ির টেক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির ছাত্র ছিল বলে জানান তার বাবা। ইয়াসিনের বোন লামিয়াও একই স্কুলে প্রথম শ্রেণিতে পড়ে। ভাইয়ের মৃত্যুর শোকে লামিয়া মুহ্যমান। সে চুপচাপ হয়ে গেছে। প্রায়ই কান্নাকাটি করছে।
আলামিন বলেন, ‘আমার নিষ্পাপ ছেলেকে কারা খুন করল, তা জানতে চাই। ছেলে হত্যার বিচার চাই।’
ভাটারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহা. সাজেদুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, শিশু ইয়াসিন হত্যা মামলাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কল ডিটেইলস রেকর্ড (সিডিআর) সংগ্রহ করে তা পর্যালোচনা করা হচ্ছে। পাশাপাশি যে এলাকায় ইয়াসিন থাকত, সেই এলাকার ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরা (সিসি ক্যামেরা) থেকে ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করে তা পর্যালোচনা করছে পুলিশ।
ওসি সাজেদুর রহমান আরও বলেন, ইয়াসিনের লাশ ভাটারার সাঈদ নগরের খালপাড়ের যে ডোবা থেকে উদ্ধার হয়েছে, তার আশপাশে কোনো জনবসতি নেই। ধারণা করা হচ্ছে, হত্যাকারীরা অন্য কোথাও ইয়াসিনকে খুন করে তার লাশ ডোবায় ফেলে গেছে। তবে কে বা কারা কেন তাকে হত্যা করেছে, সেই তথ্য সুনিশ্চিতভাবে এখনো জানা সম্ভব হয়নি।