সাজাপ্রাপ্ত শিক্ষক বেতন পাচ্ছেন নিয়মিত

স্ত্রী হত্যার দায়ে ১০ বছরের সাজাপ্রাপ্ত এক স্কুলশিক্ষক বর্তমানে কারাগারে আছেন। অথচ তাঁকে নিয়মিত বেতন-ভাতা দেওয়া হচ্ছে।
এমন ঘটনা ঘটেছে পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার কালাইয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এক সহকারী শিক্ষকের বেলায়। ওই শিক্ষকের নাম মো. নুরুজ্জামান মহিবুল্লাহ। তিনি ওই বিদ্যালয়ের বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, স্ত্রী হত্যার দায়ে শিক্ষক মহিবুল্লাহকে চলতি বছরের ১২ মে পটুয়াখালী সেশন জজ আদালতের বিচারিক হাকিম আবুল কাসেম মো. মোস্তফা ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও তিন মাসের কারাদণ্ড দেন।
বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারী চাকরি বিধিমালা অনুযায়ী, কোনো শিক্ষক কিংবা কর্মচারী কোনো মামলায় কারাভোগ করলে সাময়িক বরখাস্ত ও সাজাপ্রাপ্ত হলে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি বরখাস্ত করে আবেদন বোর্ডে পাঠাবে। একই কথা বলেন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর, ঢাকার পরিচালক (মাধ্যমিক) অধ্যাপক মো. এলিয়াছ হোসেন।
কিন্তু এরপরও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ওই শিক্ষককে বরখাস্ত না করে নিয়মিত বেতন-ভাতা দিচ্ছে। বিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মচারী ও সংশ্লিষ্ট রূপালী ব্যাংক সূত্র এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছে।
মামলার বাদী গোলাম মোস্তফা অভিযোগ করেছেন, মামলার রায়ের কপি প্রধান শিক্ষককে সরবরাহ করা হয়েছে। অথচ সরকারি নির্দেশ উপেক্ষা করে একজন খুনিকে নিয়মিত বেতনসহ অন্যান্য ভাতা দেওয়া হচ্ছে।
মামলার এজাহার ও অভিযোগপত্র সূত্রে আরও জানা গেছে, ২০১৩ সালের ২৯ ডিসেম্বর রাতে মহিবুল্লাহ তাঁর স্ত্রী শারমিন আক্তার দোলাকে (২০) শ্বাসরোধ করে হত্যা করে বিছানায় ফেলে রাখেন। পরদিন ৩০ ডিসেম্বর সকালে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে এবং স্বামী মহিবুল্লাহকে আটক করে। এ ঘটনায় বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাঁকে সাময়িক বরখাস্ত করে। হত্যার ঘটনায় ২০১৪ সালের ১ জানুয়ারি দোলার বাবা গোলাম মোস্তফা বাদী হয়ে পটুয়াখালী আদালতে মহিবুল্লাহ ও তাঁর বাবা নুর মোহম্মদ এবং ভগ্নিপতি মো. আবুল বশার মুন্সিকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা করেন। আদালত বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। পরে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আবুল হোসেন তদন্ত করে ২০১৪ সালের ১০ জুন আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। আদালত অভিযোগপত্র গ্রহণ করে ১২ জনের সাক্ষ্য নেওয়ার পর গত ১২ মে দুই আসামিকে বেকসুর খালাস ও প্রধান আসামি মহিবুল্লাহকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও তিন মাসের কারাদণ্ড দেন। বর্তমানে মহিবুল্লাহ কারাগারে আছেন।
কালাইয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফেরদৌসি শিরিন বলেন, ওই শিক্ষকের সাজা হওয়ার বিষয়টি তিনি জানেন না। তাহলে ওই শিক্ষক কোথায় আছেন? অনুপস্থিতির কারণ জানতে চেয়ে কোনো নোটিশ দিয়েছেন কি না?—এমন প্রশ্নের জবাব দিতে ওই প্রধান শিক্ষক অপারগতা প্রকাশ করেন।