সাভারের ঠিকাদার বকুল হত্যা মামলার আসামি মোর্শেদা বললেন, আমার ছেলেই খুনি

সাভারের ঠিকাদার শফিকুল বারী চৌধুরী বকুল (৫২) হত্যা মামলায় এক নারী আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। আসামি মোর্শেদা আক্তার রুমা (৩৬) আদালতকে বলেছেন, তাঁর ছেলে মাসুম (২০) হত্যা করেছেন শফিকুল বারীকে।

শনিবার ঢাকার মুখ্য বিচারিক হাকিম আদালত আসামির জবানবন্দি রেকর্ড করার পর ওই নারীকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

গত বৃহস্পতিবার সাভারের তালবাগ এলাকায় আসামি মোর্শেদা আক্তার রুমার বাসা থেকে ঠিকাদার শফিকুল বারী চৌধুরীর লাশ উদ্ধার করে সাভার থানা-পুলিশ। এ ঘটনায় নিহত ব্যক্তির মেয়ে আইনজীবী শাকিলা আফরোজ সীমা বাদী হয়ে মোর্শেদা আক্তার ও তাঁর ছেলে মাসুমের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন। মামলা করার পর মোর্শেদাকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে। পলাতক মাসুমও এই মামলার আসামি।

মামলায় বাদী শাকিলা বলেন, ব্যবসাসংক্রান্ত বিষয় নিয়ে বাবার সঙ্গে বিভিন্ন লোকের বিরোধ চলে আসছিল। বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টা ৩০ মিনিটে বাসা থেকে বের হয়ে যান। সেদিনই রাত ১১টা ৫৫ মিনিটে সাভার থানা-পুলিশ জানায়, তাঁর লাশ আসামিদের বাসায় পড়ে আছে। ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁর বাবাকে হত্যা করা হয়েছে।

শাকিলা মামলায় আরও বলেন, তাঁর ধারণা, ব্যবসায়িক লেনদেনসংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী বাবাকে ডেকে নিয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে হত্যা করেছেন দুই আসামি।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সাভার থানার উপপরিদর্শক (এসআই) তাহমুদুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, মামলার আসামি মোর্শেদা আক্তার আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

আসামি মোর্শেদা আক্তার জবানবন্দিতে বলেছেন, মাসুম তাঁর প্রথম ঘরের ছেলে। এরপর আরও দুটি বিয়ে করেন। তৃতীয় স্বামী তাঁকে তালাক দিলে তিনি পারিবারিক আদালতে মামলা করেন। তালাক দেওয়ার বিষয় নিয়ে সালিস হয়। গত বৃহস্পতিবার শফিকুল বারী চৌধুরী বকুল তাঁর বাসায় আসেন। এরপর তাঁর ছেলে মাসুম বাসায় আসে। বকুল যে ঘরে ছিলেন, সেই ঘরে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দেন মাসুম। তিনি বাইরে থেকে দরজায় ধাক্কা দিতে থাকেন। কিন্তু তাঁর ছেলে মাসুম দরজা খোলেন না। একপর্যায়ে দরজা খুলে তাঁকে ধাক্কা দিয়ে মাসুম চলে যান। ঘরে ঢুকে তিনি বকুলের লাশ দেখতে পান। পরে তিনি থানায় গিয়ে সব খুলে বলেন।

সাভার থানার এসআই তাহমুদুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, শফিকুল বারী চৌধুরীকে মাসুম খুন করেছেন। মাসুমের মা আদালতে জবানবন্দিও দিয়েছেন। কিন্তু মাসুম কেন খুন করেছে, সেই রহস্য এখনো উদ্‌ঘাটন করা সম্ভব হয়নি। মাসুমকে গ্রেপ্তার করলে খুনের রহস্য বের হয়ে আসবে।

মামলার বাদী শাকিলা আফরোজ বলেন, ব্যবসায়িক বিরোধের জের ধরে তাঁর বাবাকে হত্যা করা হয়েছে। আসামি মোর্শেদা আক্তার কিংবা তাঁর ছেলে মাসুমকে তাঁদের পরিবারের কেউ চেনে না। বাবার হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চান মেয়ে শাকিলা আফরোজ।