সেই সহকারী প্রকৌশলী চাকরিচ্যুত
নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খানের সুপারিশসহ সই জাল করার দায়ে বাগেরহাটের মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের সহকারী প্রকৌশলী (নৌ) সোহেল রানাকে গতকাল বৃহস্পতিবার চাকরি থেকে স্থায়ীভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।
বন্দরের নৌ প্রকৌশল বিভাগ সূত্র জানায়, সোহেল রানা ১৯৮৮ সালে মোংলা বন্দরে অষ্টম শ্রেণির সনদ দিয়ে পাওয়ার হাউস ড্রাইভার হিসেবে ১৬তম গ্রেডে নিয়োগ পান। প্রাতিষ্ঠানিক প্রকৌশলীর সনদ না থাকা সত্ত্বেও বন্দর কর্তৃপক্ষ প্রবিধান লঙ্ঘন করে ২০১৪ সালের ৩০ ডিসেম্বর তাঁকে সহকারী প্রকৌশলী (নৌ) হিসেবে পদোন্নতি দেয়। বিষয়টি নিয়ে বিভাগের উপসহকারী প্রকৌশলী নাছির উদ্দিন বন্দর কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত আবেদন করলে কর্তৃপক্ষ তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে। কমিটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করে, সোহেল রানার পদোন্নতি বিধি মোতাবেক হয়নি। এরপর সোহেল রানা বন্দরের চেয়ারম্যান বরাবর একটি আবেদন দেন। এতে পদোন্নতি বহাল রাখার জন্য তিনি নৌপরিবহনমন্ত্রীর সুপারিশসহ সই জাল করেন। এ অপরাধে বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান গত ১৯ নভেম্বর তাঁকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করেন। বন্দর কর্তৃপক্ষ ৮ মার্চ বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য (ফাইন্যান্স) গোলাম মোস্তফাকে বিষয়টি তদন্তের নির্দেশ দেয়। গোলাম মোস্তফা ২৩ এপ্রিল বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানের কাছে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। সোহেল রানাকে কেন স্থায়ীভাবে বরখাস্ত করা হবে না—তা জানতে চেয়ে তাঁকে বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান ৬ মে একটি চিঠি দেন। চিঠির জবাব পাওয়ার দুই মাস পর তাঁকে স্থায়ীভাবে বরখাস্ত করা হলো।
মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এম রিয়াজউদ্দিন আহম্মেদ বলেন, ‘তদন্তে বিষয়টির সত্যতা পেয়েছি। তাই তাঁকে অপসারণ করা হলো।’ এ বিষয়ে জানতে সোহেল রানার মুঠোফোনে ফোন করা হলে তিনি পরে কথা বলবেন বলে জানান। পরে ফোন করা হলেও তিনি ধরেননি।