স্কুলছাত্র অপহরণ: বাসার গাড়িচালকসহ গ্রেপ্তার ২

বাসার ব্যক্তিগত (প্রাইভেট কার) গাড়িচালকের পরিকল্পনায় অন্য চালকেরা স্কুলপড়ুয়া ছাত্রকে অপহরণ করে ৪০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেন। সন্দেহমুক্ত রাখতে বাসার গাড়িচালক স্কুলে গিয়ে ওই ছাত্রকে না পেয়ে মালিককে খবরও দেন। এমনকি থানায়ও যান। কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি সেই চালকের।

এক সহযোগীসহ আজ সন্ধ্যায় নগরের লালদীঘি এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাঁর নাম সাইফুল ইসলাম (৩০)। সহযোগীর নাম মো. আলমগীর (২৫)। দুজনকে গ্রেপ্তারের পর পুলিশ এসব তথ্য জানতে পারে।

গত ২৪ জানুয়ারি নগরের সরকারি মুসলিম উচ্চবিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র মো. সাইফুল আলমকে কৌশলে অপহরণ করে ৪০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয় তার পরিবারের কাছে। এই ঘটনায় থানায় মামলা হলে তিন ঘণ্টা পর পুলিশি তৎপরতায় অপহরণকারীরা তাকে রাস্তায় ফেলে যায়। স্কুল ছুটির পরপর দুই যুবক সাইফুলকে গিয়ে বলেন, তার বাবা তাঁদের পাঠিয়েছেন বাসায় পৌঁছে দেওয়ার জন্য। পরে গাড়িতে তোলেন তাঁরা। আন্দরকিল্লা পার হওয়ার পরপরই অপহরণকারীরা সাইফুলের গলায় ছুরি ধরেন। বিকেল পর্যন্ত গাড়ির ভেতর বসিয়ে রেখে ঘুরতে থাকেন অপহরণকারীরা।

যেভাবে শিশুটিকে গাড়িতে তোলা হয়
অভিযান পরিচালনাকারী কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. কামরুজ্জামান প্রথম আলোকে বলেন, গ্রেপ্তার দুই আসামি জিজ্ঞাসাবাদে শিশুটিকে গাড়িতে তোলার বর্ণনা দেন। তাঁরা জানান, ঘটনার দিন সকালে শিশুটিকে স্কুলে নামিয়ে দিয়ে বাসায় চলে যান চালক সাইফুল ইসলাম। তখন শিশুটির মা কাগজপত্র নিয়ে মেডিকেলে যেতে বলেন। সেখানে কাজ সেরে স্কুলে যেতে বলেন। স্কুলে যেতে একটু দেরি হবে বুঝতে পেরে চালক সাইফুল তার সহযোগীদের বিষয়টি জানান। পরিকল্পনা মতো স্কুল ছুটির পরপরই আলমগীর ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ে স্কুলের সামনে যান। শিশুটিকে বলেন, তাদের গাড়ি আসবে না। তার বাবা তাদের পাঠিয়েছেন। সরল বিশ্বাসে শিশুটি ওই গাড়িতে উঠে যায়। ইতিমধ্যে শিশুটির বাবার মুঠোফোনে কল করে ৪০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। এর আগে চালক সাইফুল মেডিকেলে কাজ সেরে এসে শিশুটিকে না পেয়ে তার মালিককে বিষয়টি জানান। এমনকি শিশুটির মা-বাবা যখন বিষয়টি জানাতে কোতোয়ালি থানায় যান। তখনো চালক সাইফুল তাদের সঙ্গে ছিলেন। যাতে তাকে সন্দেহমুক্ত রাখা যায়। একপর্যায়ে পুলিশ অভিযান শুরু করলে চালক তার সহযোগীদের জানিয়ে দেন তারা ধরা পড়ে যেতে পারেন। শিশুটিকে যাতে রাস্তায় ফেলে রাখা হয়।

ঘটনায় আরও তিনজনকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলে জানান পরিদর্শক কামরুজ্জামান। তারাও পেশায় ব্যক্তিগত গাড়িচালক। পুলিশ কর্মকর্তা কামরুজ্জামান কারও বাসায় ব্যক্তিগত গাড়িচালক রাখার আগে যাচাই-বাছাই কিংবা পুলিশের সহযোগিতা নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন নগরবাসীকে।