হাসপাতালের ডোবায় ওষুধ, সাময়িক বরখাস্ত ৩
সাতক্ষীরা সরকারি মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতাল ক্যাম্পাসের একটি ডোবায় বিপুল পরিমাণ ওষুধ পুঁতে রাখার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় হাসপাতালের প্রধান তত্ত্বাবধায়ককে বদলি ও অপর তিন কর্মীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
সাময়িক বরখাস্ত হাওয়া কর্মীরা হলেন হাসপাতালের হিসাবরক্ষক মো. মোস্তাজুল ইসলাম, স্টোর কিপার আহসান হাবিব ও ফার্মাসিস্ট মো. গোলাম হোসেন। তাঁদের গতকাল মঙ্গলবার সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। অন্যদিকে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক শেখ শাহজাহান আলীকে ঢাকা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে বদলি করা হয়েছে। শাহজাহান নিজে এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
এদিকে এ ঘটনায় পৃথক দুটি তদন্ত কমিটি গঠিত হয়েছে। এর মধ্যে হাসপাতাল থেকে গঠিত কমিটি তদন্ত শেষে গতকাল মঙ্গলবার প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। অন্যদিকে, সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসকের গঠিত কমিটি তদন্ত শুরু করেছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, শনিবার সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতালের চত্বরের একটি ডোবায় নানা ধরনের ওষুধ ভাসতে দেখা যায়। ঘটনাটি ওই দিন বেলা তিনটার দিকে কয়েকজন কর্মচারী কর্তৃপক্ষের নজরে আনেন। এরপর এ বিষয়ে অনুসন্ধান করতে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক শেখ শাহজাহান আলী রোববার ইউরোলজি বিভাগের মো. রুহুল কুদ্দুসকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি কমিটি করেন। এতে আরও থাকেন অর্থোপেডিকস বিশেষজ্ঞ প্রবীর কুমার দাস ও মেডিসিন বিভাগের আক্তারুজ্জামান। ওই কমিটি সাত কার্যদিবস শেষে গতকাল তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়।
অন্যদিকে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক এস এম মোস্তফা কামাল বলেন, তিনি বিষয়টি জানার পর রোববার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. বদিউজ্জামানকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি করে দিয়েছেন। ওই কমিটিকে সাত কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দিতে বলা হয়।
হাসপাতাল থেকে গঠিত তদন্ত কমিটির প্রধান রুহুল কুদ্দুস বলেন, তাঁদের তদন্তের ভিত্তিতে তৈরি প্রতিবেদন গতকাল মঙ্গলবার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালকসহ বিভিন্ন দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।
সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক শেখ শাহজাহান আলী বলেন, এ ঘটনায় মঙ্গলবার তিনজনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, তাঁকে মন্ত্রণালয়ে বদলি করা হয়েছে। তবে এখনো কোনো দায়িত্ব দেওয়া হয়নি।