'টাকা না পেয়ে' বৌদ্ধ ভিক্ষুকে মারধর
কক্সবাজারে হামলার শিকার বৌদ্ধ ভিক্ষু উপেনদিতা মহাথের বলেছেন, ২ হাজার টাকার জন্য তাঁর মাথায় লাঠি দিয়ে আঘাত করেছেন মং য়াইন ছিন।
গত বুধবার শহরের অগ্গামেধা বৌদ্ধবিহারের ভেতরে উপেনদিতা মহাথেরকে (৭৭) লাঠি দিয়ে পিটিয়ে আহত করা হয়। তিনি উইমাহ্লাটারা ক্যাংয়ের ভিক্ষু।
এদিকে উপেনদিতা মহাথেরের ওপর হামলার ঘটনায় বান্দরবানের লামা উপজেলার রূপসীপাড়া থেকে মং য়াইন ছিনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মং য়াইন নিজেকে ভিক্ষু দাবি করলেও রামু কেন্দ্রীয় সীমাবিহারের সহকারী পরিচালক প্রজ্ঞানন্দ ভিক্ষু বলেন, মং য়াইন চীবর পরলেও তিনি ভিক্ষু নন।
গতকাল বৃহস্পতিবার কক্সবাজার সদর হাসপাতালে কথা হয় উপেনদিতা মহাথেরের সঙ্গে। হামলার কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বুধবার ভোর পাঁচটার দিকে মং য়াইন ছিন ক্যাংয়ে এসে হাতখরচের জন্য তাঁর কাছে ২ হাজার টাকা দাবি করেন। সঙ্গে এত টাকা নেই জানালে মং লাঠি দিয়ে তাঁর মাথায় আঘাত করেন। এরপর শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করতে থাকেন। এরপর তাঁকে পুড়িয়ে মারার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু নিচে লোকজন হইচই করলে মং পালিয়ে যান। উপেনদিতা মহাথের বলেন, মেরে ফেলার পরিকল্পনা নিয়েই মং ক্যাংয়ে ঢুকেছিলেন। ওই সময় তাঁর হাতে পেট্রলভর্তি বোতল, দেশলাই ও মোমবাতি ছিল।
কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আসলাম হোসেন বলেন, বুধবার রাতে পুলিশ মং য়াইনকে লামা থেকে গ্রেপ্তার করে। তিনি মিয়ানমারে পালানোর চেষ্টা করছিলেন। তিনি বলেন, মং য়াইনকে গতকাল আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।
ওসি বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে উপেনদিতা মহাথেরের ওপর হামলার কথা স্বীকার করেছেন মং য়াইন। তাঁর (মং য়াইন) দাবি, তিন দিন আগে চীবরের জন্য তিনি উপেনদিতার কাছে গিয়েছিলেন। ওই সময় তাঁকে মারধর করা হয়। এ কারণে তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে হামলা চালিয়েছেন।
পুলিশ জানায়, গতকাল বিকেলে চীবর পরিহিত মং য়াইনকে থানা থেকে আদালতে নিতে চাইলে ভিক্ষুরা বাধা দেন। তাঁদের দাবি, মং য়াইন ভিক্ষু নন। তাঁকে চীবর পরিয়ে আদালতে কিংবা কারাগারে নেওয়া হলে বিষয়টি তাঁদের জন্য অসম্মানজনক হবে। কিন্তু মং য়াইন চীবর খুলতে রাজি হননি।
এ প্রসঙ্গে ওসি আসলাম চৌধুরী বলেন, মং য়াইনের চীবর নিয়ে পুলিশ বেকায়দায় পড়ে। মং য়াইনের সঙ্গে এ ব্যাপারে কথা বলেন প্রজ্ঞানন্দ ভিক্ষু। কিন্তু মং চীবর খুলতে রাজি হননি। ওসি বলেন, কারও শরীর থেকে কাপড় খোলার দায়িত্ব পুলিশের নয়। পরে চীবর পরা অবস্থায় মং য়াইনকে আদালতে নেওয়া হয়।