ধানমন্ডির গণ্ডি পেরিয়ে বিশ্বজুড়ে ছায়ানটের সংগীত শিক্ষা

ছায়ানটের সংবাদ সম্মেলনে (বাঁ থেকে) মোস্তাফিজুর রহমান, বিমান চন্দ্র বিশ্বাস, শারমিন সাথী ইসলাম, সেলিনা মালেক চৌধুরী, সারওয়ার আলী (বক্তব্য দিচ্ছেন), লাইসা আমদ লিসা ও টিংকু কুমার শীল। রোববার বিকেলে রমেশচন্দ্র দত্ত স্মৃতি মিলন কেন্দ্রেছবি: প্রথম আলো

দেশের ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান ছায়ানটের সংগীত শিক্ষার কার্যক্রম এখন আক্ষরিক অর্থেই বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়ল। ছায়ানটে সংগীত শিক্ষা গ্রহণ করতে এখন আর আগ্রহীরা ধানমন্ডির কার্যালয় না এসেও প্রশিক্ষণ গ্রহণের সুযোগ পাবেন। দেশের যেকোনো প্রান্ত থেকে তো বটেই, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাসকারী সংগীতানুরাগীরাও ছায়ানটের সংগীত শিক্ষা কার্যক্রমে যুক্ত হতে পারবেন অনলাইনে। রোববার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে ‘প্রবাসী ও ঢাকার বাইরের সংগীতানুরাগীদের জন্য অনলাইন প্রশিক্ষণ’ নামের কার্যক্রম।

ছায়ানটের এই নতুন সংগীত শিক্ষা কার্যক্রমের সূচনা উপলক্ষে রোববার বিকেলে ছায়ানট সংস্কৃতি–ভবনের রমেশচন্দ্র দত্ত স্মৃতি মিলনকেন্দ্রে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। ছায়ানটের সাংগীতিক ঐতিহ্য অনুসারে সংবাদ সম্মেলনেরও সূচনা হয়েছিল সমবেত কণ্ঠে ‘মানুষ হ, মানুষ হ, আবার তোরা মানুষ হ’ গানটি পরিবেশনার মধ্য দিয়ে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ছায়ানটের সভাপতি সারওয়ার আলী, সাধারণ সম্পাদক লাইসা আহমদ, ছায়ানট সংগীত বিদ্যায়তনের নবনিযুক্ত অধ্যক্ষ সেলিনা মালেক চৌধুরী ও অনলাইন সংগীত শিক্ষার চার প্রশিক্ষক শিল্পী শারমিন সাথী ইসলাম, মোস্তাফিজুর রহমান, বিমান চন্দ্র বিশ্বাস ও টিংকু কুমার শীল।

সংবাদ সম্মেলনে সাধারণ সম্পাদক লাইসা আহমদ বলেন, ছায়ানটে সংগীত শিক্ষার কার্যক্রম এত দিন ঢাকার ছায়ানট সংস্কৃতি–ভবনেই সীমাবদ্ধ ছিল। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত ও বিদেশে যে সংগীতানুরাগীরা রয়েছেন তাঁদের পক্ষে ছায়ানটের সংগীত শিক্ষা কার্যক্রমে অংশগ্রহণের সুযোগ ছিল না। ২০১৪ সাল থেকে সহস্র কণ্ঠে জাতীয় সংগীত পরিবেশন আয়োজনের মধ্য দিয়ে ছায়ানটের ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়। এরপর বিভিন্নমুখী উদ্যোগের ভেতর দিয়ে ডিজিটাল মাধ্যমে ছায়ানটের সক্ষমতা বেড়েছে। এর ফলে এখন সংগীত শিক্ষা কার্যক্রমকে সম্প্রসারিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এখন থেকে ‘সংগীত-পরিচয়’ শিরোনামে প্রতি রোববার বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা সাড়ে সাতটা থেকে রাত নয়টা পর্যন্ত রবীন্দ্রসংগীত, নজরুলসংগীত ও লোকসংগীতের শিক্ষাদানের কার্যক্রম চলবে। এই কার্যক্রমে ইতিমধ্যে বয়সভেদে, ‘শিশু-কিশোর ’এবং ‘সাধারণ’ শাখায় ১২১ জন অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ১২ জন, ইউরোপের ৭ জন, অস্ট্রেলিয়া, মালয়েশিয়া ও ভারতের ৯ জন এবং দেশের ভেতরের ৯৩ জন।

এ ছাড়া অনলাইনে পরের ধাপে, ‘নিবিড় শিক্ষণ’–এ যুক্ত হবেন অগ্রসর গাইয়েরা। এতে গান শেখাবেন তিন গুণী শিল্পী ও শিক্ষক কিরণ চন্দ্র রায় (লোকসংগীত), খায়রুল আনাম শাকিল (নজরুলসংগীত) ও লাইসা আহমদ (রবীন্দ্রসংগীত)। এই ক্লাস শুরু হবে আগামী ২০ সেপ্টেম্বর। ছায়ানটের ওয়েবসাইট থেকে এ–সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে।

সভাপতির বক্তব্যে সারওয়ার আলী বলেন, ছায়ানট এখন দেশের সবচেয়ে বড় সংগীত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার শিক্ষার্থী বিভিন্ন মেয়াদের কার্যক্রমে সংগীত শিক্ষা করছেন। এবার ছায়ানটের সংগীত শিক্ষা কার্যক্রম ভবনের সীমা অতিক্রম করে সারা দেশে ও দেশের বাইরে বিশ্বব্যাপী বৃহৎ পরিসরে বিস্তৃত হলো। এটা খুবই আনন্দের বিষয়।