এবার বিএনপি কর্মী মকবুল হত্যা মামলায় রিমান্ডে বরখাস্ত লে. কর্নেল আফজাল নাছের

আদালত চত্বরে বরখাস্ত লে. কর্নেল আফজাল নাছের। ৫ এপ্রিলছবি: প্রথম আলো

রাজধানীর পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে হামলা ও দলটির কর্মী মকবুলকে হত্যার অভিযোগে করা মামলায় সেনাবাহিনীর বরখাস্ত লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. আফজাল নাছেরের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

আজ রোববার ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সেফাতুল্লাহ এ আদেশ দেন।

জুলাই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে মিরপুরে দেলোয়ার হোসেন নামের এক ব্যক্তিকে হত্যা মামলায় ছয় দিনের রিমান্ডে ছিলেন আফজাল নাছের। আজ সেই রিমান্ড শেষে তাঁকে আদালতে হাজির করে মকবুল হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো ও রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করা হয়।

মকবুল হত্যা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিএমপির স্পেশাল অপারেশন টিমের উপপরিদর্শক মো. তোফাজ্জেল হোসেন আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পাঁচ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন। রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, এটি একটি রাজনৈতিক হত্যা মামলা। আসামি আফজাল নাছের (৬১) দায়িত্বে থেকে স্বপ্রণোদিত হয়ে বিরোধী পক্ষকে দমনে বিগত সরকারকে নানাভাবে সহযোগিতা করেছেন। বিভিন্ন সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হয়েছে যে এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে থেকে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।

আবেদনে আরও বলা হয়, হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য উদ্‌ঘাটন ও জড়িত আসামিদের শনাক্ত করতে তাঁকে রিমান্ডে নেওয়া প্রয়োজন। এ ছাড়া হত্যার সময় কার কী ভূমিকা ছিল, তা নিশ্চিত হওয়া, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার এবং ঘটনার অর্থের জোগানদাতা ও হুকুমদাতাদের খুঁজে বের করতে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা জরুরি।

২০২২ সালের ৭ ডিসেম্বর রাজধানীর পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে হামলা এবং মকবুল নামের দলের এক কর্মীকে হত্যার অভিযোগে শেখ হাসিনাসহ ২৫৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়। মাহফুজার রহমান নামের এক ব্যক্তি বাদী হয়ে ২০২৪ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পল্টন থানায় মামলাটি করেন।

আদালত সূত্রে জানা যায়, আজ বেলা ২টা ৪০ মিনিটের দিকে আফজাল নাছেরকে আদালতে হাজির করে পুলিশ। পরবর্তী সময়ে পল্টনের নতুন মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো ও রিমান্ড আবেদনের শুনানির জন্য বেলা ৩টার দিকে ঢাকা অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সেফাতুল্লাহর আদালতে নেওয়া হয়। শুনানি শেষে বেলা ৩টা ৪৫ মিনিটের দিকে তাঁকে আদালতের লকআপে নেওয়া হয়।

শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ওমর ফারুক ফারুকী বলেন, এই আসামি শেখ হাসিনাকে সহযোগিতায় বিভিন্ন সময়ে কাজ করেছেন। বিগত সময়ে ইউনাইটেড হাসপাতালে অন্যান্য রাজনৈতিক দলের নেতারা চিকিৎসা পেলেও একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের প্রতি তাদের যে ক্ষোভ, সেটি নাছেরের কারণেই হয়েছে। এই মামলার ঘটনার সঙ্গে তাঁর জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। সুষ্ঠু তদন্তের জন্য তাঁকে রিমান্ডে নেওয়া প্রয়োজন।

আসামিপক্ষের আইনজীবী শওকত উল্ল্যাহ বলেন, ‘ম্যাডাম খালেদা জিয়ার যে ঘটনার কথা বলা হচ্ছে, তখন উনি (নাছের) সেখানে জয়েনই (যোগদান) করেননি। ওনাকে কোনো কারণ ছাড়াই চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়। ১/১১–তেও তিনি কোনো ভূমিকা পালন করেননি। শেখ হাসিনা তাঁকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করেছেন। বৈষম্যবিরোধী এই মামলাগুলোতেও তিনি সম্পৃক্ত নন।’

আদালতে আফজাল নাছের যা বললেন

শুনানির একপর্যায়ে আদালতের অনুমতি নিয়ে আফজাল নাছের বলেন, তাঁকে কোনো রকম কারণ দর্শানো ছাড়াই চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়। এককাপড়ে তাঁকে বের করে দেওয়া হয়। তিনি ইউনাইটেড হাসপাতালে কখনো চাকরি করেননি।

প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে চিকিৎসাসেবা দেওয়া প্রসঙ্গে সাবেক এই সেনা কর্মকর্তা বলেন, ম্যাডাম খালেদা জিয়াকে যে অ্যাম্বুলেন্স দেওয়া হয়নি, সেই কন্ট্রোল হলো ইউনাইটেড হাসপাতালের ইমার্জেন্সির কাছে। আমি ইউনাইটেড হাসপাতালের কোনো কর্মকর্তা নই। আমাকে ক্ষতিগ্রস্ত করার জন্য, সরকার চাইলে যেকোনোভাবেই করতে পারে। আমি যেহেতু এখন আসামির কাঠগড়ায় আছি। সঠিক হলে সঠিক বিচার করেন।’

বৈষম্যের শিকার হয়েছেন দাবি করে আফজাল নাছের আরও বলেন, আমার মতো বৈষম্যের শিকার অন্য কেউ হয়েছে বলে মনে করি না। আমি পেনশন পাই নাই। ২৬ বছর চাকরি করার পর কোনো কিছুই পাই নাক। আমি কেন শেখ হাসিনাকে টিকায়ে রাখার জন্য কাজ করব। আমার সোশ্যাল মিডিয়া দেখেন। যদি দেখেন কোনো জায়গায় গিয়েছি, তাহলে আমাকে ডাবল সাজা দেন। এভাবে কইরেন না।

গত ৩০ মার্চ রাজধানীর মিরপুর ডিওএইচএসের একটি বাসা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।