গ্রাম আদালত আইন বাতিল চেয়ে রিট
২০০৬ সালের গ্রাম আদালত আইনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিট আবেদন করা হয়েছে। রিটে আইনটির সাংবিধানিক বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। আজ রোববার হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় রিটটি দায়ের করা হয়।
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইশরাত হাসান আবেদনকারী হয়ে রিটটি দায়ের করেন। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, রিটের ওপর হাইকোর্টে আগামী সপ্তাহে শুনানি হতে পারে।
রিটের প্রার্থনায় দেখা যায়, গ্রাম আদালত আইনটি সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক এবং বাতিল কেন ঘোষণা করা হবে না, এ বিষয়ে রুল চাওয়ায় হয়েছে। আইন মন্ত্রণালয়ের দুই সচিব এবং স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সচিবকে বিবাদী করা হয়েছে রিটে।
রিট আবেদনকারীর ভাষ্য, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্যদের মাধ্যমে বিচারিক ক্ষমতা প্রয়োগ সংবিধানের ২২ অনুচ্ছেদে উল্লেখিত বিচারবিভাগের স্বাধীনতা ও নির্বাহী বিভাগ থেকে পৃথকীকরণের নীতির পরিপন্থী। রাজনৈতিকভাবে সম্পৃক্ত জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে ফৌজদারি ও দেওয়ানি বিষয়ে বিচার পরিচালনা ন্যায়বিচারের মৌলিক কাঠামোকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
রিটে বলা হয়, সংবিধানের ৩৫(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, প্রত্যেক নাগরিক স্বাধীন ও নিরপেক্ষ আদালতে বিচার পাওয়ার অধিকারী। কিন্তু গ্রাম আদালতে প্রশিক্ষিত বিচারক নেই। প্রমাণ, আইন ও কার্যবিধির পূর্ণ প্রয়োগ নেই এবং আইনজীবীর অংশগ্রহণ সীমিত। ফলে ন্যায়বিচারের সাংবিধানিক নিশ্চয়তা ব্যাহত হচ্ছে। এ ছাড়া ভৌগোলিক ভিত্তিতে আলাদা বিচারব্যবস্থা নাগরিকদের সমতার অধিকার (অনুচ্ছেদ ২৭ ও ৩১) লঙ্ঘন করে বলে রিটে উল্লেখ করা হয়েছে।