এনইআইআর চালু থাকবে: ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব
মুঠোফোন ব্যবসায়ীরা ক্ষোভ-বিক্ষোভ চালিয়ে গেলেও ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেনটিটি রেজিস্টার (এনইআইআর) চালু রাখার বিষয়ে সরকারের অবস্থানের কোনো পরিবর্তন আসছে না বলে জানিয়ে দিলেন প্রধান উপদেষ্টার ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব।
ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব বলেছেন, যেহেতু মুঠোফোন আমদানিতে শুল্ক কমেছে, তাই এখন থেকে ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেনটিটি রেজিস্টার (এনইআইআর) চালু থাকবে।
আজ রোববার দুপুরে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বিটিআরসি ভবন পরিদর্শন শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন ফয়েজ আহমদ।
এদিকে এনইআইআর বাস্তবায়ন বন্ধ রাখার দাবিতে এদিনও ঢাকায় বিক্ষোভে নামেন মুঠোফোন ব্যবসায়ীরা। সকালে তাঁরা কারওয়ান বাজার এলাকায় সড়ক অবরোধ করেন। একপর্যায়ে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংঘর্ষ বাধে। পুলিশ লাঠিপেটার পাশাপাশি সাউন্ড গ্রেনেড ও কাঁদানে গ্যাসের শেল ছুড়ে বিক্ষোভকারীদের তুলে দেয়।
গত ১ জানুয়ারি সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে এনইআইআর কার্যক্রম চালু করে। একই সঙ্গে বৈধভাবে আমদানি করা মুঠোফোনের ওপর শুল্ক ৬০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৪৩ দশমিক ৪ শতাংশ করা হয় এবং অবৈধ হ্যান্ডসেটকেও আইনি কাঠামোর আওতায় আনার সুযোগ দেওয়া হয়। তবে ওই দিনও মুঠোফোন ব্যবসায়ীরা বিক্ষোভে নেমেছিলেন। সেদিন বিটিআরসি কার্যালয়েও ভাঙচুর চালানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে বিটিআরসি ভবনে হামলাকারীদের বিচারের আওতায় আনার কথা বলেন ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব। তিনি বলেন, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের হামলার ঘটনা একেবারেই নজিরবিহীন। যাঁরা এর সঙ্গে জড়িত, তাঁদের আইনের আওতায় আনার জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ করা হয়েছে। এটা নিয়ে মামলা হয়েছে এবং অন্যান্য সরকারি প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের ন্যক্কারজনক হামলা যাতে ভবিষ্যতে না হয়।
আজকের বিক্ষোভ থেকে ব্যবসায়ীরা এনইআইআর কার্যক্রম বন্ধ রাখার পাশাপাশি তাঁদের বিরুদ্ধে করা মামলা প্রত্যাহার ও গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মুক্তির দাবিও জানান।
মুঠোফোন সেট নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করতে এনইআইআর চালু করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। এর উদ্দেশ্য হিসেবে সরকারের পক্ষ থেকে কর ফাঁকি, অবৈধ ও নকল মুঠোফোন দেশে আসা ঠেকানো এবং অপরাধ দমনকে সামনে আনা হচ্ছে। তবে এটি চালুর পর এক নামে অনেকগুলো হ্যান্ডসেট দেখে মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়। ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস নিয়েও উৎকণ্ঠা তৈরি হয়।
সংবাদ সম্মেলনে ফয়েজ আহমদ বলেন, ‘একটা রেগুলেটরি টুলস যখন আসে, তখন বিভিন্ন ধরনের সমস্যা হয়। এই সমস্যাগুলোকে আমরা খুব দ্রুততার সাথে সমাধান করে ফেলেছি...একটি টিম ২৪ বাই ৭ (সপ্তাহের প্রতিদিন সারাক্ষণ) কাজ করেছে। রাতভর কাজ করে সমস্যাগুলোর সমাধান করেছে।’
নাগরিকদের তথ্য নিরাপদ আছে জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী বলেন, এর মাধ্যমে ইন্টারনেটে নাগরিকদের যে অনিরাপত্তা ও সিমকেন্দ্রিক বা অনিবন্ধিত ডিভাইসকেন্দ্রিক প্রতারণা-জালিয়াতি ও আর্থিক অপরাধ হয়, সেখান থেকে মুক্তির পথ শুরু হলো।