উড়োজাহাজের জ্বালানির দাম কমল লিটারে ২২ টাকা
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পুরোপুরি থামার আভাসে বিশ্বে জ্বালানি তেলের দাম কমতে শুরু করেছে। দেশে উড়োজাহাজে ব্যবহৃত জ্বালানি তেল জেট ফুয়েলের দাম কমেছে প্রতি লিটারে ২১ টাকা ৬৩ পয়সা। এর আগে জেট ফুয়েলের দাম গত মার্চ মাসে দুই দফায় বাড়ানো হয়। এতে প্রতি লিটারে বেড়েছিল ১০৭ টাকা। আর এপ্রিলে প্রতি লিটারে বাড়ে ২৪ টাকা ৭৯ পয়সা।
আজ বৃহস্পতিবার এক বিজ্ঞপ্তিতে জেট ফুয়েলের নতুন দর ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। নতুন দর আজ দিবাগত রাত ১২টা থেকে কার্যকর হবে। গত বছরের মে মাস থেকে প্রতি মাসে দাম সমন্বয় করছে বিইআরসি।
বিইআরসির নতুন দর অনুযায়ী, দেশের ভেতরে ফ্লাইট পরিচালনার জন্য জেট ফুয়েলের প্রতি লিটারের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২০৫ টাকা ৪৫ পয়সা, যা আগে ছিল ২২৭ টাকা ৮ পয়সা। যুদ্ধ শুরুর আগে ফেব্রুয়ারিতে এ দাম ছিল ৯৫ টাকা ১২ পয়সা।
আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের জন্য প্রতি লিটারের দাম ১.৪৮০৬ ডলার থেকে কমিয়ে ১.৩৩৮৫ ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল মিলে ইরানে আক্রমণের মধ্য দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের সূত্রপাত। এরপর ইরান ওই অঞ্চলের বিভিন্ন দেশে হামলা শুরু করলে তেলসমৃদ্ধ ওই অঞ্চলের প্রায় পুরোটাজুড়ে যুদ্ধ বিস্তৃত হয়। দুই পক্ষের হামলায় লক্ষ্যবস্তু হয় জ্বালানি স্থাপনাগুলো। এতে জ্বালানির দাম অস্থির হয়ে ওঠে বিশ্ববাজারে। শান্তি আলোচনায় ইতিবাচক অগ্রগতির খবরে দাম কমছে।
আগে জেট ফুয়েলের দাম নির্ধারণ করত বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। তবে নির্বাহী আদেশে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের দাম নির্ধারণের ধারা অন্তর্বর্তী সরকার বাতিল করে দেয়। এরপর ২০২৪ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ফার্নেস তেল, জেট এ-১-এর দাম নির্ধারণের এখতিয়ার বিইআরসিকে দেওয়া হয়।
প্রজ্ঞাপনের পর ২০২৫ সালের ২৩ মার্চ প্রথমবারের মতো জেট ফুয়েলের দাম নির্ধারণে গণশুনানি গ্রহণ করে বিইআরসি। এর পর থেকে প্রতি মাসে দাম সমন্বয় করা হচ্ছে।