এ বছরের শুরুর দিকে বেশ কয়েকটি দেশে এ রোগের প্রকোপ দেখা দেয়। নাম পরিবর্তনের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলেছে, রোগটির নামের সঙ্গে বর্ণবাদের গন্ধ আছে, কলঙ্কের ঝুঁকি আছে। বিভিন্ন দেশ থেকে বিশেষজ্ঞরা, বিভিন্ন সংগঠন ও ব্যক্তি নামটি পরিবর্তনের ব্যাপারে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকে অনুরোধ জানাতে থাকে। সেই পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা রোগটির নাম বদলে দিয়েছে।

মাঙ্কিপক্স ভাইরাসজনিত রোগ। রোগটি মূলত বানরজাতীয় প্রাণীর। রোগটি প্রাণী থেকেই মানুষে এসেছে এবং মানুষ থেকে মানুষে তা সংক্রমিত হতে পারে। এ বছর বেশ কয়েকটি দেশে রোগটি মানুষ থেকে মানুষে ছড়িয়ে পড়েছিল। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলেছিল, সমকামী পুরুষদের মধ্যে রোগটি বেশি ছড়াতে দেখা গেছে।

বিশ্বের যাবতীয় রোগের নামের তালিকা বিশেষ পদ্ধতি অনুসরণ করে তৈরি করা হয়। একে বলা হয়, ইন্টারন্যাশনাল ক্ল্যাসিফিকেশন অব ডিজিজেস (আইসিডি)। সাধারণত কোনো রোগের নাম পরিবর্তন করতে কয়েক বছর সময় লেগে যায়। মাঙ্কিপক্সের নাম পরিবর্তনে সময় লেগেছে এক বছরের কম। তবে প্রয়োজনীয় সব রীতিনীতি ও ধাপ অনুসরণ করা হয়েছে।

নতুন নাম দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রথমেই দেখা হয়েছে নামটি কতটা যৌক্তিক এবং বৈজ্ঞানিকভাবে কতটা যথার্থ। আগের নামের সঙ্গে নতুন নাম সংগতিপূর্ণ কি না, সহজে উচ্চারণযোগ্য কি না এবং বিভিন্ন ভাষায় ব্যবহারযোগ্য কি না, তা বিবেচনা করা হয়েছে। নতুন নামে ভৌগোলিক স্থান বা প্রাণীর নাম অনুপস্থিত থাকে, তা–ও নিশ্চিত করার চেষ্টা হয়েছে। নতুন নামের কারণে বৈজ্ঞানিক ঐতিহাসিক তথ্য যেন হারিয়ে না যায়, সে ব্যাপারে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।