বিশ্বে মৃত্যুর প্রধান কারণ ১০টি, শীর্ষে হৃদ্রোগ
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, বিশ্বে সবচেয়ে বেশি মানুষ মারা যায় হৃদ্রোগে। সংস্থাটি বিশ্বজুড়ে মৃত্যুর প্রধান যে ১০টি কারণের তালিকা প্রকাশ করেছে, তার শীর্ষে আছে হৃদ্রোগ। বিশ্বের প্রায় ৯৫ লাখ মানুষের মৃত্যু হয় এই রোগে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা আজ শুক্রবার মৃত্যুর শীর্ষ ১০টি কারণের তালিকা প্রকাশ করেছে। সংস্থাটি বলেছে, ২০২৩ সালে বিশ্বজুড়ে মারা গেছে মোট ৬ কোটি ১ লাখ মানুষ। এর মধ্যে প্রধান ১০টি কারণের জন্য ৩ কোটি ৩ লাখ (৫৪ শতাংশ) মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। ২০২০ সালের পর এবারই প্রথম কোভিড-১৯ বৈশ্বিক শীর্ষ ১০টি মৃত্যুর কারণের তালিকা থেকে বাদ পড়ল। উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে করোনা মহামারি শুরু হয়েছিল।
শীর্ষ ১০ কারণের মধ্যে আছে হৃদ্রোগ (স্কেমিক হার্ট ডিজিজ), স্ট্রোক, দীর্ঘস্থায়ী শ্বাসতন্ত্র ও ফুসফুসের রোগ (সিওপিডি), নিম্ন শ্বাসনালির সংক্রমণ, আলঝেইমার, ডিমেনশিয়া, ডায়াবেটিস, ফুসফুসের ক্যানসার, উচ্চ রক্তচাপজনিত হৃদ্রোগ, কিডনির রোগ এবং ডায়রিয়াজনিত রোগ। শীর্ষ ১০টি কারণের মধ্যে ৮টিই অসংক্রামক ব্যাধি (এনসিডি)। মোট মৃত্যুর প্রায় ৪৭ শতাংশ হয় অসংক্রামক ব্যাধিতে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাবে হৃদ্রোগ বিশ্বের সবচেয়ে বড় ঘাতক ব্যাধি, যা মোট মৃত্যুর ১৬ শতাংশ এর জন্য দায়ী। এই রোগে ২০০০ সালে ৩০ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়েছিল, ২০২৩ সালে তা বেড়ে ৯৫ লাখে পৌঁছেছে।
শীর্ষ দ্বিতীয় কারণ স্ট্রোক আনুমানিক ৬৮ লাখ (১১ শতাংশ) ও শীর্ষ তৃতীয় কারণ সিওপিডি ৩৬ লাখ (৬ শতাংশ) মানুষের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে। নিম্ন শ্বাসনালির সংক্রমণ আবারও বিশ্বের সবচেয়ে মারাত্মক সংক্রামক ব্যাধি হিসেবে চতুর্থ স্থানে ফিরে এসেছে (২৭ লাখ মৃত্যু)। আলঝেইমার ও ডিমেনশিয়া ৫ নম্বর স্থানে (২১ লাখ মৃত্যু) উঠে এসেছে, যার মধ্যে ৬৬ শতাংশ রোগীই নারী। ডায়াবেটিস (২০ লাখ) ষষ্ঠ এবং ফুসফুসের ক্যানসার (১৮ লাখ) সপ্তম স্থানে রয়েছে। এ ছাড়া ২০০০ সাল থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে কিডনির রোগে মৃত্যু ৮৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে নবম স্থানে পৌঁছেছে; আর দশম স্থানে আছে ডায়রিয়াজনিত রোগ। এটা মূলত নিম্ন আয়ের দেশগুলোর সমস্যা।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বব্যাংকের অর্থনৈতিক শ্রেণিবিভাগ অনুযায়ী মৃত্যুর কারণগুলোতে বড় পরিবর্তন দেখা যায়
১. নিম্ন আয়ের দেশ: সংক্রামক ব্যাধির প্রকোপ এখানে সবচেয়ে বেশি। ২০২৩ সালেও শীর্ষ ১০টি কারণের ৭টিই ছিল সংক্রামক রোগ। তবে ডায়রিয়াজনিত রোগে মৃত্যু ২০০০ সালের তুলনায় প্রায় অর্ধেক কমেছে। নিম্ন শ্বাসনালির সংক্রমণ এখানে ২০১০ সাল থেকে প্রধান কারণ হিসেবে রয়েছে।
২. নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশ: হৃদ্রোগ, স্ট্রোক এবং সিওপিডি দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে শীর্ষ তিনটি স্থানে চলে এসেছে। এ ছাড়া ডায়াবেটিসে মৃত্যু ২০০০ সালের পর তিন গুণের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে।
৩. উচ্চ মধ্যম আয়ের দেশ: আলঝেইমার ও ডিমেনশিয়ায় মৃত্যু তিন গুণের বেশি বেড়েছে। একই সঙ্গে ফুসফুসের ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।
৪. উচ্চ আয়ের দেশ: বৃদ্ধ ও বয়স্ক মানুষের সংখ্যা বেশি হওয়ার কারণে হৃদ্রোগ, স্ট্রোক, আলঝেইমার ও ডিমেনশিয়ার প্রাদুর্ভাব শীর্ষে। এখানকার ১০টি প্রধান কারণের ৯টিই অসংক্রামক ব্যাধি।
কেন মৃত্যুর কারণ তা জানা জরুরি
মানুষ কেন ও কী কারণে মারা যাচ্ছে, তা জানা কেবল মৃত্যুর তথ্য রাখা নয়; বরং স্বাস্থ্যঝুঁকি বোঝা, প্রতিরোধযোগ্য রোগ চিহ্নিত করা এবং সঠিক নীতিনির্ধারণের জন্য অত্যন্ত জরুরি। নিখুঁত তথ্য–উপাত্ত, স্বাস্থ্যব্যবস্থা ও বাজেট সঠিক জায়গায় বণ্টন করতে নীতিনির্ধারকদের সাহায্য করে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ‘আইসিডি–১১’ ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সদস্যদেশগুলোতে সময়োপযোগী ও নির্ভুল স্বাস্থ্য তথ্য সংগ্রহে সাহায্য করে আসছে।