অন্যদিকে শিবগঞ্জে স্বেচ্ছাসেবক লীগের মিছিলে ককটেল হামলার অভিযোগে বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে আজ সকালে মামলা করেছেন উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক সাইদুল ইসলাম। মামলায় উপজেলা বিএনপির সভাপতি মীর শাহে আলমসহ ৫০ আসামির নাম উল্লেখ করা হয়। এ নিয়ে ১৭ থেকে ২৫ নভেম্বর ৯ দিনে জেলার ১০টি থানায় মোট ১০টি মামলা হয়েছে। এতে আসামি করা হয়েছে বিএনপির ৫০৫ নেতা-কর্মীকে। অজ্ঞাতনামা আসামি আরও কয়েক শ।

সারিয়াকান্দি থানায় হওয়া মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে মাদক উদ্ধার ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা তামিলে টহলে বের হয় সারিয়াকান্দি থানা-পুলিশের একটি দল। তখন পুলিশ খবর পায়, উপজেলা বিএনপির সদস্য ও সাবেক সংসদ সদস্য কাজী রফিকুল ইসলামের ইন্ধনে উপজেলার কাটাখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে নাশকতার উদ্দেশ্যে বিএনপির নেতা-কর্মীরা ককটেলসহ অবস্থান করছেন। রাত পৌনে নয়টার দিকে পুলিশ সেখানে গেলে বিএনপির নেতা-কর্মীরা তাদের ওপর ককটেল হামলা করেন। হামলায় উপপরিদর্শক (এসআই) কামরুল হাসান ও কনস্টেবল আবদুস সামাদ আহত হন। পরে থানা থেকে অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে বিএনপির নেতা-কর্মীদের ছত্রভঙ্গ করে দেওয়ার পাশাপাশি ঘটনাস্থল থেকে দুটি অবিস্ফোরিত ককটেল উদ্ধার করে। সাড়ে নয়টার দিকে সারিয়াকান্দি পৌর এলাকার সাহাপাড়া তিন মাথা মোড়ে আরও একটি ককটেল বিস্ফোরিত হয়। সেখান থেকেও একটি তাজা ককটেল উদ্ধার করে পুলিশ।

সারিয়াকান্দি থানার ওসি রাজেশ কুমার চক্রবর্তী বলেন, এজাহারে উল্লেখিত ১৭ আসামিকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে।

অন্যদিকে শিবগঞ্জে করা মামলার এজাহারে বলা হয়, গতকাল সন্ধ্যায় উপজেলার মোকামতলা বন্দরে মিছিল বের করে স্বেচ্ছাসেবক লীগ। ওই মিছিলে ককটেল হামলা করেন বিএনপির নেতা-কর্মীরা। এ ঘটনায় আজ সকালে ৫০ জনের নাম উল্লেখ করে থানায় মামলা করা হয়েছে। শিবগঞ্জ থানার এসআই রিপন মিয়া বলেন, আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলছে।

এর আগে ধুনটে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের ৪৬ জন, আদমদীঘি উপজেলায় ৩৭, বগুড়া সদরে ৭২, নন্দীগ্রামে ২০, দুপচাঁচিয়ায় ৪৩, শেরপুরে ৭২, কাহালুতে ৫০ ও শাজাহানপুর থানায় ৫০ নেতা-কর্মীর নাম উল্লেখ করে মামলা করা হয়। এসব মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও কয়েক শ আসামি রয়েছেন।

জেলা বিএনপির সভাপতি ও বগুড়া পৌরসভার মেয়র রেজাউল করিম বাদশা বলেন, ৩ ডিসেম্বর রাজশাহীতে বিএনপির গণসমাবেশকে সামনে রেখে পুলিশ ও আওয়ামী লীগ মিলে এখন পর্যন্ত ১০ থানায় ১০টি ‘গায়েবি’ মামলা দিয়েছে। এতে আসামি করা হয় বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের পাঁচ শতাধিক নেতা-কর্মীকে। পুলিশ এখন ধরপাকড় চালাচ্ছে। পুলিশের ভয়ে নেতা-কর্মীরা এখন ঘরছাড়া।