জুলাইয়ে মুগ্ধসহ ১১ জনকে হত্যার মামলায় অভিযোগ গঠনের ওপর আবার শুনানি শুরু

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালফাইল ছবি: প্রথম আলো

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় (২০২৪ সালের ১৮ ও ১৯ জুলাই) রাজধানীর উত্তরায় মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধসহ ১১ জনকে হত্যার ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় অভিযোগ গঠনের ওপর আবার শুনানি শুরু হয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ আজ বুধবার এই শুনানি শুরু হয়।

এর আগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ এই মামলার আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন বিষয়ে উভয় পক্ষের (রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষ) শুনানি হয়েছিল। আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের বিষয়ে গত ২০ আগস্ট আদেশ দেওয়ার দিন ধার্য ছিল। এর মধ্যে বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল-১ মামলাটি ট্রাইব্যুনাল-২-এ স্থানান্তর করেন। তারপর আজ বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল-২-এ আবার এই মামলায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের ওপর শুনানি শুরু হলো।

চলতি বছরের ১৫ জানুয়ারি এই মামলায় আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য হাবিব হাসান, ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ ২৬ জনকে আসামি করে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে প্রসিকিউশন (রাষ্ট্রপক্ষ)। তারপর এ মামলার পলাতক আসামিদের আত্মসমর্পণ করতে সংবাদপত্রে বিজ্ঞপ্তি দেওয়া, পলাতক আসামিদের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী নিয়োগসহ অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা চলে। পরে এই মামলায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের ওপর প্রসিকিউশন শুনানি সম্পন্ন করে গত ২১ জুলাই।

আসামিপক্ষের আইনজীবীদের শুনানি শেষ হয় গত ৩ আগস্ট। সেদিন এই মামলার আসামিদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন হবে কি না, সে বিষয়ে আদেশ দেওয়ার দিন ধার্য করা হয়েছিল ২০ আগস্ট। ট্রাইব্যুনাল আইন অনুযায়ী, আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠিত হলে সেই মামলার সূচনা বক্তব্যের দিন ধার্য করা হয়। সূচনা বক্তব্য উপস্থাপনের মধ্য দিয়ে মামলার আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হয়। এরপর চলে সাক্ষ্য গ্রহণ।

আজ যা হলো

আজ ট্রাইব্যুনাল-২-এ সূচনা বক্তব্যে প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার হুসাইন তামীম বলেন, ট্রাইব্যুনাল-১-এ এই মামলায় উভয়পক্ষের শুনানি শেষ হয়েছিল। কিন্তু ট্রাইব্যুনাল-১-এ মামলা বেশি। তাই ট্রাইব্যুনাল-১ মামলাটি ট্রাইব্যুনাল-২-এ স্থানান্তর করেছেন। ট্রাইব্যুনাল-২ তা গ্রহণও করেছেন।

মামলায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের ওপর শুনানিতে প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার বলেন, ২০২৪ সালের ১৮ ও ১৯ জুলাই রাজধানী উত্তরায় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলা এটি। ২০২৪ সালে ১৮ জুলাই মুগ্ধ আন্দোলনকারীদের মধ্যে পানি বিতরণ করছিলেন। এ অবস্থায় তাঁকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এভাবে সেদিন ৬ জন আন্দোলনকারীকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এ ছাড়া সেদিন উত্তরায় এপিসির (সাঁজোয়া যান) পেছনের চাকায় পিষ্ট করে উবার চালক মোখলেসুর রহমান দুর্জয়কে হত্যা করা হয়। পরদিন ১৯ জুলাই আরও চার আন্দোলনকারীকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এ অবস্থায় এই মামলার ২৬ আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের আবেদন করেন প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার। এরপর মামলার আসামিপক্ষের আইনজীবীরা তাঁদের বক্তব্য উপস্থাপন শুরু করেন।

মামলার আসামিদের মধ্যে আটজন বর্তমানে কারাগারে। তাঁরা হলেন সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মির্জা সালাউদ্দিন, উত্তরা পূর্ব থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মজিবুর রহমান, সাবেক কনস্টেবল হোসেন আলী, উত্তরা পশ্চিম থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি মনোয়ার ইসলাম চৌধুরী এবং আওয়ামী লীগ নেতাদের সহযোগী দেলোয়ার হোসেন, মো. শাহ আলম ও মো. ইরফানুল হক গাজী। আজ তাঁদের ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।

মামলার অন্য ১৮ জন আসামি পলাতক। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক সংসদ সদস্য হাবিব হাসান, ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, ডিএমপি উত্তরা বিভাগের সাবেক ডিসি কাজী আশরাফুল আজীম, সাবেক এডিসি তৌহিদুল ইসলাম, সাবেক এসি সুমন কর এবং উত্তরা পশ্চিম থানার সাবেক ওসি বি এম ফরমান আলী প্রমুখ।