গবেষণা প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করেন এই গবেষণার প্রধান গবেষক এবং বিইউএইচএসের পেশাগত ও পরিবেশগত স্বাস্থ্য বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সাইকা নিজাম। তিনি জানান, কানে কম শোনার সমস্যায় বেশি ভুগছেন রিকশাচালকেরা, হার প্রায় ৪২ শতাংশ। এর পরে রয়েছেন ট্রাফিক পুলিশের সদস্যরা, সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও লেগুনার চালকেরা, দোকানদার, বাসশ্রমিক, ব্যক্তিগত গাড়িচালক এবং মোটরসাইকেলের চালকেরা।

কানে কম শোনার সমস্যা সবচেয়ে বেশি কুমিল্লা সিটি করপোরেশন এলাকার সড়কে কর্মরত ব্যক্তিদের মধ্যে, হার ৫৫ শতাংশ। এরপরে রয়েছে সিলেট, ঢাকা ও রাজশাহী। সিটি করপোরেশন এলাকার সড়কগুলোতে শব্দের মাত্রা পাওয়া যায় ৮৪ থেকে ৯৯ ডেসিবেল, যা অনুমোদিত মাত্রার (৬০ ডেসিবেল) চেয়ে অনেক বেশি।

সমস্যা সমাধানে আটটি সুপারিশ করা হয় গবেষণা প্রতিবেদনে। এর মধ্যে রয়েছে, শব্দদূষণ কমানোর জন্য রাজপথে শব্দদূষণের উৎস চিহ্নিত করা এবং মাত্রা কমানোর জন্য পদক্ষেপ নেওয়া, রাজপথে কর্মরত পেশাজীবীদের কর্মঘণ্টা কমিয়ে আনা, নিয়মিত শ্রবণশক্তি পরীক্ষা করা ইত্যাদি।

অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ (এনসিডিসি) বিভাগের লাইন ডিরেক্টর অধ্যাপক রোবেদ আমিন বলেন, শব্দদূষণ যে ভয়াবহ মাত্রার মধ্যে আছে, তা এই গবেষণার মাধ্যমে ভালোভাবে তুলে আনা হয়েছে। এ ব্যাপারে সচেতনতা সৃষ্টিতে এনসিডিসি নিজেদের অন্যান্য গবেষণার সঙ্গে এই বিষয়ের ওপরও জোর দেবে। শব্দদূষণ–সংক্রান্ত বিষয়ে সরকারের যে যে বিভাগ কাজ করছে, তাদের অবহিত করা হবে।

অনুষ্ঠানে বিইউএইচএসের উপাচার্য ফরিদুল আলম, জনস্বাস্থ্য বিভাগের ডিন মো.আনোয়ার হুসেইন মিয়া প্রমুখ বক্তব্য দেন।

এর আগে গত মার্চে জাতিসংঘ পরিবেশ কর্মসূচি (ইউএনইপি) এক প্রতিবেদনে জানায়, বিশ্বের সবচেয়ে বেশি শব্দদূষণ ঢাকায়। রাজশাহী রয়েছে এ তালিকার ৪ নম্বরে।

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) যুগ্ম সম্পাদক স্থপতি ইকবাল হাবিব প্রথম আলোকে বলেন, শব্দদূষণ যে জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতি, সেটা নীতিনির্ধারকেরা গণ্যই করেন না। হয়তো শব্দদূষণের সমস্যাটি কানে নেওয়ার মতো শ্রবণশক্তি তঁাদের নেই। তিনি বলেন, পরিবেশ অধিদপ্তর, ট্রাফিক পুলিশ ও সিটি করপোরেশন চাইলে শব্দদূষণ প্রতিরোধে ব্যবস্থা নিতে পারে। কিন্তু কেউ কিছু করছে না।

ইকবাল হাবিব আরও বলেন, ট্রাফিক পুলিশের উচিত, অন্তত নিজেদের সদস্যদের স্বার্থে শব্দদূষণ প্রতিরোধে পদক্ষেপ নেওয়া।