চট্টগ্রাম জেলা আদালত পরিদর্শক জাকের হোসাইন মাহমুদ প্রথম আলোকে বলেন, শুনানি শেষে আদালত দুই দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন। আসামিদের আইনজীবীরা রিমান্ড বাতিল ও জামিনের আবেদন করলে আদালত নাকচ করে দেন।
১৭ জুলাই রাতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে পাঁচ তরুণের হাতে এক ছাত্রী যৌন নিপীড়ন ও মারধরের শিকার হন। বিশ্ববিদ্যালয়ের বোটানিক্যাল গার্ডেন এলাকায় পাঁচ তরুণ ওই ছাত্রীকে বেঁধে বিবস্ত্র করে মুঠোফোনে ভিডিও ধারণ করেন। এ সময় তাঁর সঙ্গে থাকা এক বন্ধু প্রতিবাদ করলে তাঁকেও মারধর করা হয়। এ ঘটনায় গত মঙ্গলবার প্রক্টরের কাছে অভিযোগ দেন ওই ছাত্রী। এর এক দিন পর গত বুধবার মামলা করেন হাটহাজারী থানায়।

ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর বুধবার থেকেই উত্তাল হয়ে পড়ে ক্যাম্পাস। রাতেই ছাত্রীরা হল থেকে বের হয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান নেন। ওই দিন দিবাগত রাত একটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার এস এম মনিরুল হাসান ঘটনাস্থলে গিয়ে চার কার্যদিবসের মধ্যে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার ঘোষণা দেন। অন্যথায় প্রক্টরিয়াল বডি পদত্যাগ করবে বলে জানান তিনি।

নগরের চান্দগাঁও ক্যাম্পে গত শনিবার সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন র‍্যাব-৭–এর অধিনায়ক লে. কর্নেল এম এ ইউসুফ। গ্রেপ্তার আজিমকে ‘মূল অভিযুক্ত’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ঘটনার পর তিনি রাউজানে তাঁর ফুপুর বাড়িতে আত্মগোপন করে ছিলেন। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করে এ ঘটনায় মোট ছয়জনের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। তাঁদের কাছ থেকে দুটি মোটরসাইকেল ও তিনটি মুঠোফোন উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনার বর্ণনা দিয়ে র‍্যাব অধিনায়ক বলেন, ঘটনাটি ‘পূর্বপরিকল্পিত’ ছিল না। গ্রেপ্তার তরুণেরা রাতের বেলায় ক্যাম্পাসে আড্ডা দিতেন। দুটি মোটরসাইকেলে করে তাঁরা ওই পথে যাচ্ছিলেন। সে সময় ভুক্তভোগী ছাত্রীকে তাঁর এক বন্ধুসহ ওই এলাকায় দেখতে পেয়ে জেরা করতে থাকেন তাঁরা। এ সময় ওই ছাত্রী তাঁদের বাধা দেওয়ায় তাঁরা তাঁকে মারধর শুরু করেন এবং তাঁর বন্ধুকে বেঁধে রাখেন।

ওই ছাত্রীকে বিবস্ত্র করে আজিম নিজের, ওই ছাত্রীর, ছাত্রীর বন্ধুর মুঠোফোনসহ মোট তিনটি মুঠোফোনে ভিডিও ধারণ করেন। এ সময় তাঁদের একজন ওই ছাত্রীকে যৌন সংসর্গের জন্য চাপ দেন এবং ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেন। ঘণ্টাখানেক আটকে রেখে তাঁরা ওই ছাত্রী ও তাঁর বন্ধুর কাছ থেকে ১৩ হাজার ৭০০ টাকা ও মুঠোফোন নিয়ে যান।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন