সাদপন্থীদের বিরুদ্ধে হওয়া মামলাগুলোর তদন্ত দ্রুত শেষ করে বিচার নিশ্চিতসহ ৫ দাবি
২০১৮ ও ২০২৪ সালে টঙ্গী ইজতেমা ময়দানে ভারতের মাওলানা সাদ কান্ধলভীর অনুসারীদের হামলা ও প্রাণহানির ঘটনায় হওয়া মামলাগুলোর তদন্ত দ্রুত শেষ করে অভিযোগপত্র দাখিল এবং দায়ী ব্যক্তিদের বিচারের আওতায় আনাসহ পাঁচ দাবি জানিয়েছে ওলামা মাশায়েখ বাংলাদেশ।
আজ রোববার দুপুরে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির শফিকুল কবির মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি তুলে ধরা হয়। বিশ্ব ইজতেমা নিয়ে বিভ্রান্তিকর বক্তব্যের প্রতিবাদ, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের হামলার ঘটনায় দ্রুত অভিযোগপত্র প্রদান এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
ওলামা মাশায়েখ বাংলাদেশের অন্য দাবিগুলো হলো বিশ্ব ইজতেমা ২০২৭-এর আয়োজন ও সরকারি সিদ্ধান্ত সম্পর্কে বিভ্রান্তিকর ভিডিও বার্তা প্রচারের অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে যাচাই করে সাদপন্থী নেতা ওয়াসিফুল ইসলাম ও তাঁর ছেলে ওসামা ইসলামের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে; সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উসকানিমূলক বক্তব্য, সহিংসতার আহ্বান কিংবা সরকারি সিদ্ধান্ত সম্পর্কে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচারের অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে; ২০১৮ ও ২০২৪ সালের ঘটনায় নিহত ব্যক্তিদের পরিবার এবং গুরুতর আহত ব্যক্তিদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে, পাশাপাশি তাঁদের চিকিৎসা, পুনর্বাসন ও প্রয়োজনীয় সহায়তার বিষয়টি যথাযথভাবে বিবেচনা করতে হবে এবং প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও ধর্মমন্ত্রীর মাধ্যমে সরকারের নীতিগত ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের বিষয়টি সমন্বিত রেখে অন্য কোনো মন্ত্রী, সংসদ সদস্য বা জনপ্রতিনিধির ব্যক্তিগত উদ্যোগে তাবলিগ জামাতের অভ্যন্তরীণ কার্যক্রমে অনাকাঙ্ক্ষিত হস্তক্ষেপ বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ব্যক্তিরা জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা। তাঁদের মধ্যে লিখিত বক্তব্য পড়ে শোনান জমিয়ত নেতা মুফতি কেফায়েতুল্লাহ আজহারী।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দেন জমিয়তের সহসভাপতি মাওলানা নাজমুল হাসান কাসেমী। উপস্থিত ছিলেন জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের সভাপতি উবায়দুল্লাহ ফারুক, সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা লোকমান মাযহারী প্রমুখ।
লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, ২০২৭ সালের বিশ্ব ইজতেমা আয়োজনের বিষয়ে গত ১৮ আগস্ট অনুষ্ঠিত সভার কার্যবিবরণী অনুযায়ী, প্রথম ধাপ ২০২৭ সালের ৮ থেকে ১০ জানুয়ারি এবং দ্বিতীয় ধাপ ১৫ থেকে ১৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। কিন্তু গত ৯ অক্টোবর একটি পত্রিকার অনলাইনে প্রচারিত একটি ভিডিও বার্তায় কথিত মুফতি ওসামা ইসলাম দাবি করেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তাঁদের আশ্বাস দিয়েছেন, ২০২৭ সালের ২৯ ও ৩০ জানুয়ারি টঙ্গীতে সাদপন্থীদের ইজতেমা অনুষ্ঠিত হবে এবং ভারতের নিজামুদ্দিন থেকে মাওলানা সাদ কান্ধলভী তাতে অংশ নেবেন।
সরকারি সিদ্ধান্ত ও সভার কার্যবিবরণী সম্পর্কে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে, এমন বক্তব্যের সত্যতা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে যাচাই করা জরুরি উল্লেখ করে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এমন কোনো আশ্বাস দিয়েছেন কি না, তা সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে সরকারি সিদ্ধান্তের বাইরে কোনো বক্তব্য প্রচার করা হলে তার প্রকৃত অবস্থানও জনসমক্ষে পরিষ্কার হওয়া উচিত।
লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, বিশ্ব ইজতেমা বাংলাদেশের মুসলিম উম্মাহর ঐক্য, দ্বীনি পরিবেশ ও আন্তর্জাতিক ধর্মীয় ভাবমূর্তির সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত। এ আয়োজন নিয়ে কোনো ধরনের বিভ্রান্তি, উসকানি কিংবা অনাকাঙ্ক্ষিত সংঘাতের পরিস্থিতি সৃষ্টি হোক, তা তাঁরা চান না। তাই সরকারি সিদ্ধান্তের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকা, দায়িত্বশীল বক্তব্য প্রদান এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সচেতন ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তাঁরা।