এ সময়ে নগরের কোন কোন এলাকায় বেশি পোস্টার সাঁটানো হয়, তা জরিপ করা হয়। আবার কোন ধরনের প্রতিষ্ঠান সবচেয়ে বেশি পোস্টার দেয়, তা–ও এই জরিপে উঠে আসে। এর ভিত্তিতে স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে। পত্রিকায় স্থানগুলোর নাম উল্লেখ করে বিজ্ঞাপন দেওয়া হবে। তবে এর জন্য ন্যূনতম একটি ফি দিতে হবে। আর পোস্টার নিয়ন্ত্রণের কাজটি সিটি করপোরেশন করবে না। ঠিকাদার নিয়োগ দেওয়া হবে। তারাই বক্স তৈরি করবে এবং ফি নিয়ে পোস্টার সাঁটানোর সুযোগ দেবে।

সিটি করপোরেশনের ভারপ্রাপ্ত প্রধান পরিচ্ছন্নতা কর্মকর্তা মুহাম্মদ আবুল হাশেম প্রথম আলোকে বলেন, সিটি করপোরেশন পোস্টার সাঁটানোর জন্য ১১৫টি স্থান নির্ধারণ করেছে। নির্ধারিত স্থানের বাইরে কেউ পোস্টার লাগাতে পারবেন না। আর নির্ধারিত স্থানে পোস্টার লাগাতে হলে একটি নির্দিষ্ট ফি দিতে হবে। এই কার্যক্রম দেখভালের জন্য দরপত্রের মাধ্যমে ঠিকাদার নিয়োগ দেওয়া হবে। তাঁরাই অবকাঠামো নির্দিষ্ট স্থানে পোস্টারের জন্য বক্স করে দেবে আর ফি আদায় করবে।

স্থানীয় সরকার আইন অনুযায়ী, সিটি করপোরেশনের নির্ধারিত স্থান ছাড়া অন্য কোথাও পোস্টার, নোটিশ, প্ল্যাকার্ড ইত্যাদি প্রচারপত্র লাগানো অপরাধ। একইভাবে ২০১২ সালের দেয়াল লিখন ও পোস্টার লাগানো (নিয়ন্ত্রণ) আইনেও যেখানে-সেখানে পোস্টার ও দেয়াল লিখন করা যাবে না বলে উল্লেখ করা হয়। এই আইন ভঙ্গ করলে সর্বনিম্ন ৫ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা জরিমানা করার বিধান রয়েছে।

কিন্তু এসব আইন মানার তোয়াক্কা করেন না কেউ। বিশেষ করে কোনো রাজনৈতিক দলের সমাবেশ, স্থানীয় ও জাতীয় নির্বাচন, সম্মেলনের আগে নগরজুড়ে পোস্টার, ফেস্টুন, ব্যানার লাগানো হয়। রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীদের এই প্রচারণা বন্ধে সিটি করপোরেশন কখনো তৎপর ছিল না। রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী হওয়ায় আইন না মানা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থাও নেয়নি সিটি করপোরেশন।

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন এমন উদ্যোগ নিলেও তা পুরোপুরি বাস্তবায়ন নিয়ে সংশয় রয়েছে। কেননা, প্রায় পাঁচ বছর আগে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন পোস্টার লাগানোর জন্য নির্দিষ্ট বক্স করে দিয়েছিল। কিন্তু ঢাকার বিভিন্ন জায়গায় পোস্টার সাঁটানো হলেও নির্দিষ্ট বক্সগুলো প্রায় সময় খালি পড়ে থাকত। অথচ এসব বক্সে পোস্টার সাঁটাতে কোনো টাকা দেওয়া লাগত না। এরপরও তা ব্যবহারে অনাগ্রহ দেখা যায় মানুষের মধ্যে।

চট্টগ্রাম নগরের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সীমানাপ্রাচীর, বাড়ির দেয়াল, উড়ালসড়কের পিলার, পরিবহন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সীমানাপ্রাচীরসহ এমন কোনো জায়গা নেই, যেখানে পোস্টার সাঁটানো হয় না। মূলত রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মী, কোচিং সেন্টার, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পণ্যের প্রচারণার জন্য এসব পোস্টার সাঁটানো হয়। তবে নগরের পোস্টারের ৯০ শতাংশই দেয় কোচিং সেন্টারগুলো।

সিটি করপোরেশন সূত্র জানায়, পোস্টার বক্স স্থাপনের জন্য ঠিকাদার নিয়োগ দেওয়া হবে। আগ্রহী ঠিকাদার নিয়োগে পত্রিকায় দরপত্র বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হবে। সর্বোচ্চ দরদাতা প্রতিষ্ঠান এই কাজ পাবে। ওই প্রতিষ্ঠানই পোস্টার লাগানোর জন্য টাকা নেবে। তারাই পোস্টার অপসারণের কাজ করবে।