হত্যা মামলায় বরখাস্ত সেনা কর্মকর্তা মাঞ্জিল হায়দার তৃতীয় দফায় রিমান্ডে
জুলাই আন্দোলন চলাকালে রাজধানীর নিউমার্কেট এলাকায় ব্যবসায়ী আবদুল ওয়াদুদ হত্যা মামলায় বরখাস্ত সেনা কর্মকর্তা মেজর (অব.) মাঞ্জিল হায়দার চৌধুরীর তৃতীয় দফায় পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
আজ বৃহস্পতিবার দ্বিতীয় দফা রিমান্ড শেষে আবার সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) পরিদর্শক মো. আমজাদ হোসেন তালুকদার।
শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট হাসিব উল্লাহ পিয়াসের আদালত পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঢাকা মহানগর আদালতের প্রধান পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ওমর ফারুক ফারুকী।
এ মামলায় ১০ এপ্রিল মাঞ্জিল হায়দার চৌধুরীর চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। এরপর ১৩ এপ্রিল আবার তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়।
প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরে (ডিজিএফআই) কর্মরত ছিলেন মাঞ্জিল হায়দার চৌধুরী। ৯ এপ্রিল রাজধানীর মহাখালী ডিওএইচএস এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই নিউমার্কেট এলাকায় ছাত্র–জনতার মিছিলে গুলি ও হামলা চালানো হয়। এতে ব্যবসায়ী আবদুল ওয়াদুদ গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান। এ ঘটনায় নিহত ওয়াদুদের শ্যালক আবদুর রহমান বাদী হয়ে শেখ হাসিনা, ওবায়দুল কাদেরসহ ১৩০ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন।
রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, আসামি সেনাবাহিনীর একজন বরখাস্ত মেজর। তিনি ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের আগপর্যন্ত ফ্যাসিস্ট সরকারের সামরিক কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত থেকে তাঁর পেশাগত সুযোগ কাজে লাগিয়ে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন দমনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।
এ মামলার ঘটনায় জড়িত সন্দেহভাজন আসামি মাঞ্জিল হায়দার চৌধুরী ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতিরক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিকের অত্যন্ত আস্থাভাজন ও তাঁর অপকর্মের সহযোগী ছিলেন বলে সুনির্দিষ্ট তথ্য রয়েছে। তাঁর নির্দেশেই মাঞ্জিল হায়দার ছাত্র–জনতার আন্দোলনে সহিংস ভূমিকা রেখেছেন বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করলেও তাঁর সহযোগী ব্যক্তিদের বিষয়ে কৌশলে এড়িয়ে গেছেন।
রিমান্ডের আবেদনে আরও বলা হয়, মাঞ্জিল হায়দারের মাধ্যমে তারিক আহমেদ সিদ্দিকের পক্ষ থেকে পাঠানো আর্থিক সহায়তা, তাঁর দেওয়া নির্দেশনা এবং অর্থ, অস্ত্র ও গোলাবারুদ সংগ্রহ ও সরবরাহ–সংক্রান্ত বিষয়ে সুস্পষ্ট তথ্য উদ্ঘাটন করা প্রয়োজন। ঘটনার সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত আসামিদের নাম–ঠিকানা তাঁর জানা থাকা সত্ত্বেও তিনি কৌশলে এড়িয়ে যাচ্ছেন, যা উদ্ঘাটনে আবার জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন।
আবেদনে আরও বলা হয়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামি ছাত্র–জনতার আন্দোলনে সহিংস ভূমিকা রেখেছেন মর্মে স্বীকার করলেও অনেক প্রশ্ন এখনো সুপরিকল্পিতভাবে এড়িয়ে যাচ্ছেন। এ ছাড়া আসামি প্রশিক্ষিত বাহিনীর সদস্য হওয়ায় তাঁর দেওয়া কৌশলী তথ্যগুলো যাচাই–বাছাই ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাঁকে আরও নিবিড়ভাবে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন।