এর আগে করদাতা সুরক্ষা পরিষদের সভাপতি নুরুল আবসারের বিরুদ্ধে গতকাল মঙ্গলবার চান্দগাঁও থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়রের ব্যক্তিগত সহকারী মো. মোস্তফা কামাল চৌধুরী। মেয়রের বিরুদ্ধে ‘মানহানিকর’ ও ‘হুমকিমূলক’ বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগে এই মামলা করা হয়। জিডিতেও একই অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে জিডির সঙ্গে নিজেদের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই বলে দাবি করেছেন মো. মোস্তফা কামাল চৌধুরী। তিনি বলেছেন, মানুষ অসন্তুষ্ট হয়ে মামলা করছেন। এতে তাঁদের কিছু করার নেই।

এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে নুরুল আলম দাবি করেন, একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে তিনি নিজ উদ্যোগেই জিডি করেছেন। তিনি চট্টগ্রাম নগর আওয়ামী লীগের ৪৩ নম্বর সাংগঠনিক ইউনিটের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন বলে জানান তিনি। এখন ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী।

স্থাপনার ভাড়ার ভিত্তিতে চসিকের নির্ধারণ করা গৃহকর বাতিলের দাবিতে আন্দোলন করে আসছে চট্টগ্রাম করদাতা সুরক্ষা পরিষদ। সাবেক মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনের আমলে উদ্যোগ নেওয়া হলেও পরিষদের আন্দোলনের মুখে ২০১৭ সালে ওই কার্যক্রম স্থগিত করেছিল স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। বর্তমান মেয়র মো. রেজাউল করিম চৌধুরীর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মন্ত্রণালয় স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করে। ভাড়ার ভিত্তিতে গৃহকর আদায় কার্যক্রম শুরু করলে আবারও আন্দোলন শুরু করে পরিষদ।

মেয়রের ব্যক্তিগত সহকারীর করা মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, গত রোববার (১৮ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ছয়টায় নগরের পশ্চিম মাদারবাড়ী এলাকায় চট্টগ্রাম করদাতা সুরক্ষা পরিষদের ব্যানারে সমাবেশ হয়। ওই সমাবেশে নুরুল আবসার মেয়র মো. রেজাউল করিম চৌধুরীর উদ্দেশে চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষায় বক্তব্য দেন। এতে তিনি মেয়রকে গুন্ডা সম্বোধন করে সাবধান হয়ে যাওয়ার জন্য বলেন। তিনি বলেন, ‘উল্টাপাল্টা কথাবার্তা বললে তোমাকে এই চট্টগ্রাম ছেড়ে চলে যেতে হবে।’

মামলা ও জিডির সমালোচনা করেছেন করদাতা সুরক্ষা পরিষদের মুখপাত্র হাসান মারুফ। তিনি বলেছেন, গৃহকর বাতিলের দাবিতে আগামী শুক্রবারের গণমিছিল কর্মসূচি পণ্ড করতে মামলা দেওয়া হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, চট্টগ্রামের মানুষ আঞ্চলিক ভাষায় যেভাবে কথা বলেন, পরিষদের নেতারা সেভাবেই বক্তব্য দিয়েছেন। কিন্তু সেটিকে ভুলভাবে উপস্থাপন করে মামলা ও জিডি করা হচ্ছে।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন