‘আমার সঙ্গে আসেন, লাশ দেখাব’
থানায় ঢুকেই পুলিশ কর্মকর্তাদের তিনি বললেন, স্ত্রীকে গলা কেটে খুন করেছেন। ২৫-২৬ বছর বয়সী যুবকের মুখে সাতসকালে এমন কথা শুনে কর্তব্যরত পুলিশ কর্মকর্তারা খুব একটা গা করলেন না। কিন্তু যুবক তাঁর কথায় অটল। শেষে জোর দিয়ে বললেন, ‘আমাকে সঙ্গে নিয়ে চলেন, লাশ দেখাব।’ এবার নড়েচড়ে বসেন ডিউটি অফিসার। তখনই ফোন করে বিষয়টি ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) জানান তিনি। ওসি সঙ্গে সঙ্গে থানায় আসেন। যুবককে সঙ্গে নিয়ে তাঁর বাসায় গিয়ে দেখেন এক নারীর গলাকাটা লাশ পড়ে আছে।
এমন ঘটনা ঘটেছে ফেনীর সোনাগাজীতে। আজ বুধবার সকাল সাড়ে সাতটায় সোনাগাজী মডেল থানায় ঢুকে নিজের হাতে স্ত্রীকে হত্যার কথা জানান আলী আক্কাস নামের এক যুবক। সোনাগাজী পৌরসভার চর গণেশের শেখপাড়া এলাকার ভাড়া বাড়িতে স্ত্রী সিনথিয়া ইসলাম খুশবুকে (২৪) নিয়ে থাকতেন তিনি। প্রেম করে বিয়ে করেছেন বেশি দিন হয়নি। এর মধ্যেই দাম্পত্যকলহ শুরু হয়ে যায়। সহ্য করতে না পেরে আজ সকালে বঁটি দিয়ে স্ত্রীকে জবাই করে খুন করেন তিনি।
উদ্ধারের পর পুলিশ ময়নাতদন্তের জন্য খুশবুর লাশ ফেনীর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। নিহত খুশবু ঢাকার মুগদার শাহিন মিয়ার মেয়ে। তাঁর স্বামী আলী আক্কাস ভোলা জেলার দৌলতখানের মো. রতন মিয়ার ছেলে। তিনি পেশায় একজন ফেরিওয়ালা।
সোনাগাজী মডেল থানার ওসি সুদ্বীপ রায় বলেন, সকাল সাড়ে সাতটার দিকে এক ব্যক্তি থানায় প্রবেশ করেন। দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যকে জানান, তিনি বাসায় স্ত্রীকে হত্যা করে এসেছেন। প্রথমে পুলিশ সদস্য বিষয়টি বিশ্বাস করেননি। ওই ব্যক্তি নিজের নাম-পরিচয় দিয়ে আবারও ডিউটি অফিসারের কাছে গিয়ে হত্যার কথা জানান।
সুদ্বীপ রায় বলেন, ‘একপর্যায়ে ডিউটি অফিসার আমাকে ফোন দিয়ে ঘটনাটি জানান। আমিও বিশ্বাস করতে পারছিলাম না। এভাবে কেউ হত্যা করে থানায় আসে নাকি।’ পরে বাসা থেকে থানায় এসে আলী আক্কাসের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। পরে পুলিশ ওই ব্যক্তিকে সঙ্গে নিয়ে তাঁর বাসায় যান।
ওসি সুদ্বীপ রায় আরও বলেন, হত্যার প্রাথমিক কারণ হিসেবে আলী আক্কাস দাবি করেছেন, প্রেম করে বিয়ের পর তিন মাস আগে স্ত্রীকে নিয়ে সোনাগাজীতে এসে ভাড়া বাসায় ওঠেন। তিনি শহরে ভ্যানগাড়িতে করে জুতা বিক্রি করে সংসার চালান। কিন্তু স্ত্রীর চাহিদা পূরণ ও বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ঝগড়া হতো। প্রায় সময় তাঁকে নিয়ে ঢাকায় চলে যেতে চাপ দিত। পরিবারের অগোচরে বিয়ে করায় তাঁর কাছে তেমন টাকাপয়সা নেই। যার কারণে প্রতিনিয়ত স্ত্রীর চাহিদা মেটাতে পারতেন না।
আলী আক্কাসকে থানায় নিয়ে আরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। খবর পেয়ে সিনথিয়া ইসলামের পরিবারের সদস্যরা ঢাকা থেকে সোনাগাজীর উদ্দেশে রওনা হয়েছেন।
বাসার মালিক শিউলি আক্তার বলেন, ‘তিন মাস আগে আলী আক্কাস তাঁর স্ত্রীকে নিয়ে আমার বাসার একটি ইউনিট ভাড়া নেন। মাঝেমধ্যে তাঁদের দুজনের মধ্যে প্রচণ্ড ঝগড়া হতো। আমরা ডেকে উভয়কে বুঝিয়ে বিষয়টা সমাধান করে দিতাম।’ গত রাতেও দুজনের মধ্যে ঝগড়ার আওয়াজ শোনা গেছে। আজ সকালে বাড়িতে পুলিশ আসার পর জানতে পারেন আলী আক্কাস তাঁর স্ত্রীকে হত্যা করেছেন।