default-image

তিন দিনের ছুটি শেষে গতকাল রোববার বিকেলে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১টি জেলার মানুষ রাজধানী ঢাকাসহ আশপাশের কর্মস্থলে ফিরতে মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার পাটুরিয়া ফেরিঘাটে ভিড় করেন। অতিরিক্ত যাত্রী দেখে সুযোগ বুঝে নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বাড়তি ভাড়া আদায় করেছেন বাসের চালক ও মালিকেরা।

কয়েকজন বাসচালক ও সহকারীর দাবি, স্থানীয় পরিবহনশ্রমিকনেতা জসিম উদ্দিন ও সুমন খান প্রতিটি বাস থেকে দেড় হাজার টাকা করে আদায় করেন। এ কারণে ভাড়া বেশি নেওয়া হয়।

তবে এই অভিযোগ অস্বীকার করে জসিম উদ্দিন দাবি করেন, বাসের চালক ও সহকারীরাই বেশি ভাড়া নিয়েছেন।

ট্রাফিক পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নিষেধাজ্ঞার পরও গতকাল পাটুরিয়া ঘাট এলাকায় কোনো কোনো বাসের চালক ও মালিক যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া নেন। অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়ার অভিযোগে কয়েকজন চালককে আটক করা হয়। অতিরিক্ত ভাড়া না নেওয়ার শর্তে পরে তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়।

গতকাল বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত পাটুরিয়া ঘাটে অবস্থান করে দেখা যায়, দৌলতদিয়া ঘাট থেকে লঞ্চ ও ফেরিতে হাজারো যাত্রী পাটুরিয়া ঘাটে আসছেন। সেখান থেকে বাসে ওঠার জন্য চালক ও সহকারীদের সঙ্গে ভাড়া ঠিক করছেন। পাটুরিয়া থেকে ঢাকার গাবতলী পর্যন্ত সরকারনির্ধারিত ভাড়া ১০০ টাকার জায়গায় ২০০ টাকা বলে ডেকে ডেকে বাসে যাত্রী তুলছেন চালকের সহকারীরা।

বিজ্ঞাপন

তবে ট্রাফিক পুলিশ বাসের কাছে গেলে সহকারীরা সরে গিয়ে গোপনে অতিরিক্ত ভাড়া চূড়ান্ত করে যাত্রীদের বাসে তুলছেন। বিআরটিসির বাস ছাড়াও স্থানীয় সেলফি, নীলাচল, দ্রুতগতি, পদ্মা লাইন, এনএনবি, যাত্রীসেবা, ডি-লিংক, জনসেবা, শুভযাত্রাসহ বিভিন্ন পথের বাস পাটুরিয়া থেকে ঢাকায় বাড়তি ভাড়ায় যাত্রী বহন করছিল। বিআরটিসি বাসে ভাড়া বেশি নেওয়ায় গতকাল সন্ধ্যায় এক চালককে আটক করা হয়।

ঘাটসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সাপ্তাহিক ছুটি দুই দিন ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের ছুটিসহ মোট তিন দিনের ছুটিতে অসংখ্য মানুষ ঢাকা ছাড়েন। ছুটি শেষে ঢাকা ও এর আশপাশে বিভিন্ন এলাকায় কর্মস্থলে ফিরতে তাঁদের অনেকেই গতকাল দুপুরের পর থেকে পাটুরিয়া ঘাটে আসেন। সেখানে হঠাৎ যাত্রীর চাপ বেড়ে গেলে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় শুরু করেন পরিবহনমালিক-শ্রমিকেরা।

ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার আমির হোসেন ঢাকার সাভারের একটি পোশাক কারখানায় চাকরি করেন। গতকাল তিনি স্ত্রী ও ছেলেকে নিয়ে কর্মস্থলে ফিরতে পাটুরিয়া থেকে সেলফি পরিবহনের একটি বাসে ওঠেন। ভাড়ার কথা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমাদের তিনজনের ভাড়া ৬০০ টাকা চেয়েছিল। দর-কষাকষির পর ৫০০ টাকায় সিট পাইছি।’
পাটুরিয়া ঘাটে দায়িত্বরত ট্রাফিক পুলিশের পরিদর্শক জাসেল আহমেদ বলেন, অতিরিক্ত ভাড়া যাতে কেউ না নিতে পারেন, সে জন্য বাসচালক ও সহকারীদের সতর্ক করা হয়েছে। এরপরও কোনো কোনো বাসচালক ও সহকারী যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়ার চেষ্টা করেন।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন