সর্বশেষ ২০০৩ সালে সম্মেলনের মাধ্যমে উপজেলা বিএনপির কমিটি গঠন করা হয়। পরে প্রায় ১৮ বছর পর গত বছর ৮ ডিসেম্বর সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। জেলা, উপজেলা ও কেন্দ্রীয় বিএনপির নেতাদের উপস্থিতিতে সম্মেলনের প্রথম অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়। পরে প্রথম অধিবেশন শেষ হওয়ার পর বিএনপির একদল কর্মীর অতর্কিত হামলায় চেয়ার ভাঙচুর ও চেয়ার ছোড়াছুড়িতে সম্মেলনস্থলে বিশৃঙ্খলা হওয়ায় নেতারা কমিটি ঘোষণা না দিয়েই সভাস্থল ত্যাগ করেন।

default-image

স্থগিত হওয়া সম্মেলন জেলা শহরে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু কমিটি না হওয়ায় দলীয় নেতা-কর্মীদের ভেতর দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হয়। ওই সময় উপজেলা ও ইউনিয়ন বিএনপির নেতারা ভেতরে-ভেতরে বিভক্ত হয়ে পড়েন। আজ নিত্যপণ্যের মূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে উপজেলা বিএনপি আলাদাভাবে প্রতীকী অনশন কর্মসূচি পালন করে। এতে দলের নেতা-কর্মীদের বিভক্তি প্রকাশিত হয়ে পড়ে।

ইলিয়াসপক্ষে রয়েছেন উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. নুরুল আমিন, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক ও নয়াবিল ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান ইউনুস আলী দেওয়ান, উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান এবং নালিতাবাড়ী পৌরসভার সাবেক মেয়র ও শহর বিএনপির আহ্বায়ক আনোয়ার হোসেন। আজ তাঁরা শহরের নালিতাবাড়ী বাজারে উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক নুরুল আমিনের সভাপতিত্বে অনশন কর্মসূচি পালন করেন।

অপর পক্ষে আছেন উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক দুলাল হোসেন, শহর বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক শফিকুল ইসলাম, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক গোলাম কিবরিয়া, শহর যুবদলের আহ্বায়ক মিজানুর রহমান ও উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক আপন সরকার রয়েছেন। তাঁরা শহরের তারাগঞ্জ উত্তর বাজার দলীয় কার্যালয়ের সামনে শহীদ মুক্তিযোদ্ধা মঞ্চে শহর বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক শফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনশন কর্মসূচি পালন করেন।

অনশন কর্মসূচিকে কেন্দ্রে করে সকাল থেকে নেতা-কর্মীরা দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে ছোট ছোট মিছিল নিয়ে পৃথক কর্মসূচিতে যোগ দেন।

শহর বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক শফিকুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা দলীয় কার্যালয়ে কেন্দ্রীয় বিএনপির নির্দেশে অনশন কর্মসূচি পালন করেছি। সবাইকে দলীয় কার্যালয়ে কর্মসূচিতে যোগ দিতে আহ্বান করা হয়েছিল। মূলত আমরা সাবেক সাংসদ ও হুইপ মরহুম জাহেদ আলী চৌধুরীর আদর্শে এবং তাঁর স্ত্রী ফরিদা পারভিনের নেতৃত্বে উপজেলা বিএনপি সুসংগঠিত রয়েছি। আমরা ভাড়া করা নেতার পেছনে রাজনীতি করতে চাই না। মূলত উপজেলা বিএনপির সম্মেলনকে কেন্দ্র করে আমরা ফরিদা পারভিনের নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ হয়েছি।’

উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. নুরুল আমিন প্রথম আলোকে বলেন, ‘শ্রদ্ধেয় নেতা জাহেদ আলী চৌধুরীর মৃত্যুর পর দলের হাল ধরতে যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী মো. ইলিয়াস খানের নেতৃত্বে উপজেলা বিএনপি সুসংগঠিত রয়েছে। দলের কেন্দ্রীয় নির্দেশে অনশন কর্মসূচি পালন করেছি। দলীয়ভাবে বিশৃঙ্খলা এড়াতেই আলাদাভাবে অনশন কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। যেকোনো সিদ্ধান্তে পক্ষ-বিপক্ষ থাকে। মূলত উপজেলা সম্মেলনকে কেন্দ্র করে কিছুসংখ্যক নেতা-কর্মী আলাদা রয়েছেন।’

জানতে চাইলে শেরপুর জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক সাংসদ মাহমুদুল হক প্রথম আলোকে বলেন, ‘উপজেলা বিএনপিকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে অনশন কর্মসূচি পালন করতে বলা হয়েছে। তারপরও বিভক্তি হয়েছে। উপজেলায় দ্রুত সম্মেলনের মাধ্যমে নতুন কমিটি গঠন করা হবে। আশা করছি নতুন কমিটির মাধ্যমে বিভক্তির নিরসন হয়ে যাবে।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন