বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

প্রথম আলো: উদ্ধারকাজে নেমে আগুনের তাপে আপনার মুখমণ্ডলের অনেকটা কালচে হয়ে গেছে। পোড়ার ভয় আছে জেনেও জীবনের ঝুঁকি নিলেন। শিশু দুটিকে উদ্ধার করলেন...

রুবেল শরিফ: শিশু দুটির পোড়া শরীর দেখে মায়া লাগছিল। তাই নিজের জীবনের কথা ভাবিনি। তবে চোখের সামনে আরও কয়েকটি শিশুকে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়তে দেখে নিজেকে অপরাধী মনে হচ্ছে। সেই দৃশ্য দেখে চোখের পানি ধরে রাখতে পারিনি।

প্রথম আলো: কীভাবে উদ্ধারকাজ শুরু করলেন?

রুবেল শরিফ: বৃহস্পতিবার রাত তিনটার দিকে আমাদের নদীর পাড়ের বাড়িতে বসেই অভিযান-১০ লঞ্চ থেকে যাত্রীদের চিৎকার শুনতে পাই। নদীর পাড়ে বাঁধা একটি ট্রলার নিয়ে লঞ্চের ১০০ গজের ভেতরে যাই। কিন্তু আগুনের তীব্রতার কারণে লঞ্চে ওঠা কঠিন ছিল। এ সময় প্রায় তিন শ যাত্রী জীবন বাঁচাতে লঞ্চ থেকে লাফিয়ে নদীতে পড়েন। গ্রামের লোকজনের সঙ্গে মিলে তাঁদের বিভিন্ন ট্রলারে উঠিয়ে নিরাপদে তীরে নিয়ে যাই। ইঞ্জিন রুমের কাছে গিয়ে দেখি, দুটি শিশু জলন্ত ইঞ্জিন রুমের পাশে দাঁড়িয়ে বাঁচার জন্য আর্তনাদ করছে। শিশু দুটির পাশে কিছু গ্যাস সিলিন্ডার থাকায় ট্রলারে থাকা অন্যরা ভয়ে সেখান থেকে চলে যেতে চাইল। কিন্তু শিশু দুটির জন্য আমার মায়া হলো। পরে সেখান থেকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে শিশু দুটিকে ট্রলারে তুলে হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করি।

একই সময় দ্বিতীয় তলায় কয়েকটি শিশুকে আগুনের তাপে দুর্বল হয়ে নদীতে পড়ে যেতে দেখেছি। ওদের ওঠাতে গিয়ে খুঁজে পাইনি। লঞ্চের আরও কিছু নারী-শিশুকে নদীতে ঝাঁপ দিয়ে পড়ে যেতে দেখলেও তাঁদের বাঁচাতে পারিনি। আগুনের তাপে লঞ্চের কাছে যাওয়া অসম্ভব ছিল। সেদিনের এসব দুঃসহ স্মৃতি আমাকে আজীবন বয়ে বেড়াতে হবে। তবে সান্ত্বনা এটুকুই যে বেঁচে যাওয়া শিশু দুটি তাদের স্বজনের কাছে ফিরে গেছে। আমারও একটি ছেলে আছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন