কিশোর বয়স থেকেই মেহেদিতে হাত রাঙানোর অভ্যাস শহরের মধ্যম টেকপাড়ার তরুণী অদিতি আফ্রার। আগে বাজার থেকে সংগ্রহ করা মেহেদি দিয়ে হাত রাঙানো হতো। মাঝেমধ্যে যাওয়া হতো শহরের বিভিন্ন পারলারে। তাতে চামড়ায় সমস্য দেখা দিত। এখন অর্গানিক মেহেদি ছাড়া হাত রাঙানোই হয় না তাঁর। অতিদি আফ্রা সম্প্রতি রাজধানীর একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে স্নাতকোত্তর করেছেন।

অতিদির সঙ্গে গতকাল রোববার দুপুরে কথা হয় প্রথম আলোর এই প্রতিবেদকের। অর্গানিক মেহেদিতে রাঙানো তাঁর দুই হাত। তিনি ব্যবহার করছেন স্থানীয় আর্টিস্ট তানিকা ইয়েফরিন সোহার হাতে তৈরি ‘ অর্গানিক হেনা’ মেহেদি। কারণ জানতে চাইলে অদিতি বলেন, বাজারের মেহেদি লাগালে দু-তিন দিন থাকে, হেনা মেহেদির স্থায়িত্বকাল ১০ থেকে ১২ দিন থাকে। তা ছাড়া অর্গানিক মেহেদিতে চামড়া ফুলে যায় না। যেসব মেয়ে নিয়মিত মেহেদি লাগান, তাঁদের আর্গানিক মেহেদি ব্যবহার করা উচিত।

অদিতির হাতে মেহেদি লাগিয়েছেন তানিকা ইয়েফরিন। তাঁর বাড়িও শহরের মধ্যম টেকপাড়ায়। তিনি পড়ছেন চট্টগ্রামের সরকারি হাজী মুহাম্মদ মহসিন কলেজের ব্যবস্থাপনা বিভাগে। লেখাপড়ার পাশাপাশি মেয়েদের হাত রাঙানোর কাজটি রপ্ত করেন তিনি। চাহিদা পূরণে নিজে তৈরি করেন ‘হেনা অর্গেনিক’মেহেদি।

পবিত্র ঈদুল আজহার আগের ১০ দিনে তানিকা রাঙিয়েছেন অন্তত ৮০ জন তরুণীর হাত। ঈদুল ফিতরের আগের ১৫ দিনে তিনি রাঙিয়েছিলেন দেড় শতাধিক তরুণীর হাত। সব হাতে ব্যবহার করা হয়েছে হেনা অর্গানিক। অনলাইনে হেনা মেহেদি সরবরাহ করা হচ্ছে ঢাকা, চট্টগ্রাম, বরিশালসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। ভক্ত ও ব্যবহারকারীদের নকশা আঁকার প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন তিনি অফলাইন-অনলাইনে।

default-image

শহরের টেকপাড়ার ‘মীমস মেইকওভার’পারলারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তসলিম জান্নাত মীম প্রথম আলোকে বলেন, তানিকার মেহেদি নকশা ও আঁকাআঁকি দারুণ। তিনি নিজেও তানিকার নিয়মিত গ্রাহক। তাঁর পারলারে যেসব তরুণী সাজ করতে আসেন, তাঁদের হাতের মেহেদি লাগানো হয় তানিকাকে দিয়ে। তানিকার হাতের কাজ সুন্দর ও নিখুঁত।

তানিকার মেহেদি নকশা ও কাজ অনেক পছন্দের দাবি করে ‘অবসারা গ্যালারি’ পারলারের পরিচালক অবসারা কনিকা বলেন, তানিকার কাজ এবং হেনা মেহেদি সব বয়সী নারীর জন্য পারফেক্ট। অর্গানিক এই মেহেদি তৈরিতে রাসায়নিক ব্যবহার করা হয় না।

আর্গানিক মেহেদি এক হাতে লাগালে গুণতে হয় ৩০০ টাকা। দুই হাতে ৬০০ টাকা। তবে প্যাকেজে একসঙ্গে ১০ থেকে ১৫ জন হলে সে ক্ষেত্রে ছাড় আছে ১০০ থেকে ১৫০ টাকা পর্যন্ত।

কক্সবাজার শহরে মেহেদি রাঙানোর পারলার আছে ৫০টির বেশি। সব পারলারে এখন ব্যবহার করা হচ্ছে অর্গানিক মেহেদি।

বাজারে অর্গানিক মেহেদির চাহিদা বাড়ছে দাবি করে তানিকা ইয়েফরিন সোহা প্রথম আলোকে বলেন, মেহেদি সব বয়সী নারীর পছন্দ। তবে মুসলিম নারীরা শতভাগ হালাল অর্গানিক মেহেদি কিনতে চান। তাঁদের চাহিদা পূরণে তিনি অর্গানিক মেহেদি তৈরির কাজে নামেন। বেশ সাড়াও পাচ্ছেন। মেহেদিতে হাত রাঙানো গেলে মুহূর্তে মনও রঙিন হয়ে ওঠে।

মেহেদির নকশাতে গাছের পাতা ও ফুল মেয়েদের প্রথম পছন্দ। এরপর ময়ূর, পাখি, মানুষের মুখের অবয়ব, চন্দ্র, সূর্য দিয়ে রাঙানো হয় হাত।

default-image

অর্গেনিক মেহেদি তৈরি প্রসঙ্গে তানিকা বলেন, চার মাস আগেও কক্সবাজারে অর্গানিক মেহেদি পাওয়া যেত না। ঢাকা থেকে অনলাইনে অর্ডার করে আনতে হতো। সময় লেগে যেত দু-তিন দিন। তখন মেহেদি নষ্ট হয়ে যেত। এই মেহেদি ডিফ ফ্রিজে সংরক্ষণ করতে হয়। স্থানীয় তরুণীদের আগ্রহ ও চাহিদার কথা বিবেচনা করে নিজে অর্গানিক মেহেদি তৈরির পরিকল্পনা করেন। ইউটিউবের সাহায্য নেন। এরপর মেহেদির সঙ্গে লেবু, চিনি, ইসেন্সিয়াল অয়েলের সমন্বয়ে তৈরি করে ফেলেন রাসায়নিকমুক্ত মেহেদি। শহরের সব কটি দোকানে এই মেহেদি পাওয়া যাচ্ছে।

আরেকটি পারলারের পরিচালক সায়মা ইসলাম বলেন, তরুণীরা এখন ভারী নকশার মেহেদি পছন্দ করেন না। অধিকাংশ নারী এখন অর্গানিক মেহেদিতে ঝুঁকছেন। দুই হাত রাঙানোর পাশাপাশি অনেকে শুধু পাঁচ আঙুল রাঙাচ্ছেন। তাতেই যত আনন্দ নারীর চোখেমুখে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন