গত এক দশকে মাগুরা জেলা স্টেডিয়ামে অবকাঠামোগত উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। ২০১৬ সালের দিকে প্রায় ১৪ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হয় বীর মুক্তিযোদ্ধা আছাদুজ্জামান স্টেডিয়ামের দর্শক গ্যালারি ও নতুন প্যাভিলিয়ন ভবন। এক বছরের ব্যবধানে স্টেডিয়ামের দক্ষিণ পাশে প্রায় আট কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হয় শেখ কামাল ইনডোর স্টেডিয়াম ও জিমনেসিয়াম। আর গত বছর শেষ হয়েছে আউটার স্টেডিয়াম ও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ। বিদ্যুতের একটি সাবস্টেশনসহ ওই প্রকল্পে ব্যয় হয়েছে ১১ কোটি টাকার বেশি। তবে অর্থ ও লোকবলসংকটের কারণে এসব স্থাপনার সুফল খেলোয়াড়েরা পাচ্ছেন না।

স্টেডিয়ামের প্যাভিলিয়ন ও ইনডোর স্টেডিয়ামে স্থাপনা থাকলেও আসবাব ও ব্যায়ামের সরঞ্জাম নেই। বছরের বেশির ভাগ সময় এগুলো তালাবদ্ধ থাকে। পরিচর্যার অভাবে স্থাপনার নানা অংশ ও আসবাব নষ্টের পথে। খেলোয়াড়দের একজন মাগুরা জেলা ক্রিকেট দলের অধিনায়ক পাপাই শিকদার বলেন, পিচ পরিচর্যার জন্য কিউরেটর নেই। আউটফিল্ড পরিচর্যা করা হয় না। প্যাভিলিয়নের ড্রেসিংরুমে যেসব সুবিধা ও আসবাব থাকার কথা, সেগুলো একটা রুমে তালাবদ্ধ রাখা হয়েছে। দেখভাল করার অভাবে অনেক জিনিস নষ্ট হওয়ার পথে। খেলোয়াড়দের ফিটনেসের জন্য জিমনেসিয়াম খুবই জরুরি। ভবন থাকলেও সেটার কোনো সুবিধা চালু হয়নি।

ক্রীড়া সংস্থার কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, স্টেডিয়ামের বিভিন্ন কাজের জন্য ১১ জন কর্মচারী রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে চারজনের চাকরি স্থায়ী হয়েছে। বাকি সাতজন মাস্টাররোলে কাজ করছেন। বছরের পর বছর তাঁরা কাজ করছেন কোনো বেতন ছাড়াই। তাঁদের মধ্যে একজন সৌরভ ইসলাম (২২) ক্রীড়া সংস্থায় কাজ করছেন আট বছর। তিনি বলেন, ‘রাতে পাহারা, দিনে চিঠি আদান–প্রদানসহ নানা ধরনের কাজ করতে হয়। টুর্নামেন্ট বা কোনো অনুষ্ঠানের আয়োজন হলে কাজের চাপ বাড়ে। চাকরি স্থায়ী হবে, এ আশায় কাজ করে যাচ্ছি। খেলাধুলা করে যা আয় হয়, তা দিয়ে কোনোরকমে টিকে আছি।’ স্থায়ী যে চারজন আছেন, তাঁদের বেতনও মাঝেমধ্যে কয়েক মাস পর্যন্ত আটকে যায়।

অবকাঠামো বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিদ্যুৎ বিলের চাপ বেড়েছে ক্রীড়া সংস্থার ওপর। নিজস্ব সাবস্টেশন থাকলেও তা চালু হয়নি। ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদকের কার্যালয় থেকে জানানো হয়, কয়েক মাস আগে তিন লাখ টাকা বিদ্যুৎ বিল বকেয়া পড়েছিল। তখন সংস্থার একজন কর্মকর্তাকে (স্টেডিয়ামের কয়েকটি প্রকল্পের ঠিকাদার) দিয়ে ওই বিল পরিশোধ করানো হয়। এখন আবার চার লাখ টাকার ওপরে বিল বকেয়া পড়েছে। যেটা পরিশোধের নিজস্ব বাজেট নেই সংস্থার।

ক্রীড়া সংস্থার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও ক্রিকেট সাবকমিটির আহ্বায়ক রানা আমীর ওসমান বলেন, ইনডোর স্টেডিয়ামের প্রকল্পে ব্যামাগারের সরঞ্জাম ছিল না। সেখানে একটা ডরমিটরি হওয়ার কথা ছিল, যার মধ্যে সরঞ্জাম দেওয়ার কথা ছিল। অন্যদিকে স্টেডিয়ামের সামনে সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ শেষ হয়ে উদ্বোধন হয়েছে গত বছরের শেষের দিকে। কিন্তু এখনো জনসাধারণের জন্য তা উন্মুক্ত করা যায়নি।

জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক বলেন, সংস্থার নিজস্ব কোনো আয় নেই। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ থেকে বছরে ৪ কিস্তিতে ৬ লাখ ৯০ হাজার টাকা আসে। স্টেডিয়ামের গ্যালারির নিচে ১০০টি দোকানঘর তৈরি হয়ে পড়ে আছে কয়েক বছর ধরে। এটা বরাদ্দ দেওয়া গেলে সংস্থার নিজস্ব আয়ের উৎস তৈরি হবে। ইনডোর স্টেডিয়ামের হল রুমের একটা ভাড়া নির্ধারিত থাকলেও সেখান থেকে গত কয়েক বছরে তেমন আয় হয়নি।

এ বিষয়ে জেলা ক্রীড়া সংস্থার সভাপতি জেলা প্রশাসক আশরাফুল আলম বলেন, গত বছর গ্যালারির নিচে ঘর বরাদ্দ দিতে উন্মুক্ত বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছিল। দুই হাজারের বেশি আবেদনও জমা পড়েছে। সেগুলো যাচাই–বাছাই করতে একটি কমিটিও করে দেওয়া হয়েছে। শিগগিরই ওই প্রক্রিয়া শেষ করে দোকানঘর বরাদ্দ দেওয়া হবে। এ ছাড়া ইনডোর স্টেডিয়াম পুরোপুরি খেলাধুলার কাজে ব্যবহার করতে বেশ কিছু উদ্যোগ রয়েছে। ইনডোরের পাশে একটি টেনিস কোর্ট নির্মাণ করা হচ্ছে। কয়েক মাসের মধ্যে স্টেডিয়ামের পরিবেশে পরিবর্তন আসবে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন