বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

ঝিনাইদহ-কোটচাঁদপুর ভায়া তালসার সড়কের ধারে কালুহাটী গ্রামে ২০০১ সালে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করা হয়। স্থানীয় উদ্যোগে ভবন নির্মাণ করা হয়। আধা পাকা টিনশেডে পাঁচটি শ্রেণিকক্ষ রয়েছে। এক পাশে রয়েছে একটি অফিস কক্ষ ও আরেক পাশে একটি শৌচাগার। সেগুলোও টিনের চালের। ভবনের দেয়ালে পলেস্তারা দেওয়া হয়নি এবং মাটির মেঝে। ভবনের কোনো জানালা নেই, ইট ফাঁকা করে বসানো রয়েছে। বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী প্রায় ৩০০। বর্তমানে ১৩ জন শিক্ষক ও ৬ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী রয়েছেন। গত কয়েক বছরে এসএসসি পরীক্ষায় পাসের হার ৯০ শতাংশের ওপরে।

গতকাল দুপুরে গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যালয় ভবনের টিনশেডটি পাশের একটি কড়ইগাছে আটকে আছে। শ্রমিক লাগিয়ে গাছের ডাল কেটে সেটি নামানোর কাজ চলছে। বিদ্যালয় মাঠে টিন ছড়িয়ে–ছিটিয়ে আছে। বিদ্যালয় প্রাঙ্গণের মাঠ উঁচু-নিচু। পাশের দুটি কক্ষের চাল নেই। অন্যান্য স্থানে টিনের সঙ্গে গাঁথুনির কিছু ইটও খুলে পড়েছে। একটি কক্ষের সামনের বারান্দার টিনের চালটি ভালো আছে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আলমগীর হোসেন বলেন, কৃষিপ্রধান এলাকায় তাঁদের প্রতিষ্ঠানটি। এলাকার বেশির ভাগ মানুষ দরিদ্র। আর বিদ্যালয়টি ২০০১ সালে প্রতিষ্ঠিত হলেও এমপিওভুক্ত হয়েছে ২০১৯ সালে। এই দীর্ঘ সময় স্বেচ্ছাশ্রমে শিক্ষকেরা কাজ করেছেন। তাঁরাও আর্থিকভাবে তেমন সচ্ছল নন। ১৪ এপ্রিল ঝড়ে বিদ্যালয়ের ভবন লন্ডভন্ড হয়ে গেছে।

ঝিনাইদহ সদর উপজেলার গান্না ইউনিয়নের কালুহাটী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পাঠদান বন্ধ হয়ে গেছে।

আলমগীর হোসেন আরও বলেন, ঘটনার পর দুই দিন বিদ্যালয় চললেও ক্লাস নিতে পারেননি। শুধু এসএসসির শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে। ভবন দ্রুত মেরামত ও পাঠদানের উপযোগী করতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে সহায়তার আবেদন দিয়েছেন। টাকার জন্য মেরামত করতে না পেরে শিক্ষার্থীদের পাঠদান বন্ধ রয়েছে। প্রতিষ্ঠার পর থেকে এ প্রতিষ্ঠানে সরকারিভাবে ভবন নির্মাণে কোনো বরাদ্দ দেওয়া হয়নি।

গান্না ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আতিকুল হাসান বলেন, ঝড়ে তাঁর ইউনিয়নে অনেক ক্ষতি হয়েছে। কালুহাটী মাধ্যমিক বিদ্যালয়েরও ক্ষতি হয়েছে। পরিষদের পক্ষ থেকে যতটুকু সম্ভব ওই বিদ্যালয়ে সহযোগিতা করা হবে।

এ বিষয়ে ইউএনও এস এম শাহীন বলেন, বর্তমানে তাঁদের হাতে কোনো বরাদ্দ নেই। তারপরও বিষয়টি নিয়ে কী করা যায়, তা দেখবেন।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন