default-image

ভোলায় মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ বইছে। উত্তরের হিমেল হাওয়ায় নিম্ন আয়ের মানুষের জবুথবু অবস্থা। ভোলার মেঘনা নদীর মাঝে জেগে ওঠা চরের নাম মদনপুর। এ চরের মানুষের পরিস্থিতি আরও মানবেতর। মদনপুরের শীতার্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে প্রথম আলো ট্রাস্ট। রোববার দুপুরে মদনপুর আলোর পাঠশালা চত্বরে ২০০ শীতার্ত মানুষকে দেওয়া হয়েছে রঙিন চাদর ও কম্বল।

প্রথম আলো বন্ধুসভার ভোলার সদস্যরা এ শীতবস্ত্র বিতরণে সহায়তা করেন। তাঁরা রিকশা ও নৌকায় চড়িয়ে, মাথায় করে পায়ে হেঁটে বয়ে নিয়ে গেছেন মদনপুরের শীতার্ত মানুষের কাছে কম্বল ও চাদর। সেখানে মদনপুর আলোর পাঠশালার শিক্ষার্থীদের হাতে তাদের মায়ের জন্য চাদর এবং চরের বৃদ্ধদের গায়ে কম্বল পরিয়ে দিয়েছেন।

কম্বল পেয়ে ৭০ বছর বয়সী আ. খালেক খলিফা বলেন, ‘শীতে রাইত্তা গুমাইতাম পারি না। কম্বল দ্যায় হুইন্না খোরাইতাম খোরাইতাম লাডি ভর দিয়া আডি আইছি। কম্বলখান পাই আনন্দের শ্যাষ নাই।’

বিজ্ঞাপন

আ. খালেক খলিফা আরও বলেন, ‘এইবার কেউ কিছু দ্যায়নো। এইডা গাইদি নামাজ পরুম আর আমনেগোলাই দোয়া করুম।’

চর টবগীর বাসিন্দা ৬৫ বছরের আলমগীর পাটওয়ারী বলেন, ‘এট্টা কম্বলের লাইগ্যা কতজনরে কোইছি। কেউ দ্যায়নো।’ কম্বল হাতে পেয়ে হেসে দেন এই বৃদ্ধ। মদনপুর আলোর পাঠশালার প্রায় ১৫০ জন শিক্ষার্থীর গায়ে পরিয়ে দেওয়া হয় রঙিন চাদর। তারা এ চাদর তাদের মায়ের গায়ে তুলে দেবে।

অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে শীতার্ত লোকজনের হাতে কম্বল তুলে দেন মদনপুর আলোর পাঠশালার প্রধান শিক্ষক আক্তার হোসেন। তিনি বলেন, প্রথম আলো সব সময় সময়োপযোগী কাজ করে। চরের এসব শিশু দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করছে। তাদের মা–বাবা দিনমজুর। মাছ ধরে, খেতে কাজ করে সংসার চালায়। প্রথম আলো ট্রাস্ট তাদের লেখাপড়ার জন্য যেমন বিদ্যালয় সৃষ্টি করেছে তেমনি মাঝেমধ্যে খাদ্য-বস্ত্র দিয়ে সহায়তা করছে। মা–বাবা উৎসাহী হয়ে তাঁদের সন্তানদের বিদ্যালয়ে পাঠাচ্ছেন।

কম্বল বিতরণ কার্যক্রমে উপস্থিত ছিলেন আলোর পাঠশালার সহকারী প্রধান শিক্ষক সাইফুল ইসলাম, সহকারী শিক্ষক ইয়ারুল আলম হেলাল, আল আমিন, আক্তার হোসেন, বিদ্যালয় ব্যবস্থা কমিটির সদস্য মো. জাহাঙ্গীর আলম, গ্রাম পুলিশ আ. মান্নান, প্রথম আলোর প্রতিনিধি নেয়ামতউল্যাহ, বন্ধুসভার সভাপতি আনোয়ার হোসেন, সাধারণ সম্পাদক মনিরুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক আরিয়ান আরিফ, সহসভাপতি পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম রাকিব হাওলাদার, সদস্য মেহেদী হাসান প্রমুখ।

কম্বল হাতে পেয়ে চরপদ্মার বাসিন্দা বিবি রহিমা (৫২) বলেন, ‘এই চরে কেউ কিছু দেয় না। গাছগাছালি নাই। খরের ঘর। রাইত্তাকালে পিন পিন করি শীত আডিডত কামর দ্যায়, গুমাইতাম পারি না। আল্লায় দিলে আইজ এট্টা কম্বল পাইছি। আইজ এট্টু আরাম করি গুমাম।’

বিজ্ঞাপন
জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন