বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

ওই ঘটনায় পাইকগাছা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সুজিত ঘোষ বাদী হয়ে ২৫-৩০ জনের বিরুদ্ধে একটি মামলা করেছেন। এ মামলায় গতকাল শনিবার আহাদ ও পলাশকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ওই দিনই তাঁদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, পুলিশ ও যুবকদের কাছে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পাইকগাছা থানার অনেক এলাকায় আইপিএল নিয়ে চলছে জুয়ার রমরমা কারবার। সাধারণত যুবকেরাই এতে অংশ নিচ্ছেন। মূলত বিভিন্ন মোড়ের দোকানগুলোতে আইপিএল নিয়ে বাজি ধরা হয়। মোবাইল ফোনে বা ইন্টারনেটের মাধ্যমে জুয়া পরিচালনা করা হয়। যাঁরা পরিচিত বাজিগর, তাঁরা মুঠোফোনের মাধ্যমে বাজি ধরেন। আর যাঁরা নতুন তাঁরা নগদ টাকা জমা দিয়ে বাজি ধরেন। খেলা নিয়ে অনেক রকম জুয়া হয়। ওই এলাকায় ম্যাচের ফলাফল নিয়ে সবচেয়ে বেশি পরিমাণ জুয়া খেলা হয়। এ ছাড়া কোন ওভারে কত রান হবে? কোন বোলার কত উইকেট পাবে? কোন ব্যাটসম্যান কত রান করবে? শেষ ওভারে কত রান হবে? এমনকি কোন বলে কত রান হবে—এসব নিয়ে বাজি ধরা হয়। ২০০-৫০০ থেকে শুরু করে হাজার হাজার টাকার জুয়া ধরা হয়। বিশেষ করে যদি অপেক্ষাকৃত দুর্বল কোনো দলের সঙ্গে শক্তিশালী কোনো দলের খেলা থাকে তাহলে দুর্বল দলের জন্য তিন থেকে চার গুণ পর্যন্ত টাকার লোভনীয় প্রস্তাব দেওয়া হয়।

চাঁদখালী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) প্যানেল চেয়ারম্যান আক্কাছ আলী ঢালী প্রথম আলোকে বলেন, এলাকায় ক্রিকেট নিয়ে জুয়া বেড়েছে। করোনার সময় বেকার যুবক আর মূলত ভাড়ায়চালিত মোটরসাইকেলচালকেরা এতে জড়িয়ে পড়ছেন। বাজিতে হেরে অনেকেই নিঃস্ব হচ্ছেন। পরিবার ও সমাজকে আরও সচেতন হতে হবে। বিশেষ করে পরিবারের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ছেলেরা কোথায় যায়, কী করে তার খোঁজ মূলত পরিবারকে রাখতে হবে।

পাইকগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত করমকর্তা (ওসি) মো. এজাজ শফী প্রথম আলোকে বলেন, অপরাধটির ধরন কিছুটা নতুন। পাইকগাছায় এর কয়েকটা সিন্ডিকেট আছে। যাঁরা ধারদেনা করে, সম্পদ বন্ধক রেখে আইপিএলে জুয়া খেলছেন। পুলিশ ইউনিয়নভিত্তিক এই ধরনের জুয়াড়িদের একটি তালিকা তৈরি করছে। পাইকগাছায় যাঁরা এটা করছেন, তাঁদের সবাইকে ধরা হবে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন