default-image

স্বামী-স্ত্রী একই কক্ষে ঘুমিয়ে ছিলেন। গভীর রাতে আগুনে পুড়ে মারা গেছেন স্বামী। তবে পাশে থাকা স্ত্রী বেঁচে গেছেন। শুক্রবার গভীর রাতে ঢাকার সাভারের তেঁতুলঝোড়া ইউনিয়নের নগরচরা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

মারা যাওয়া ওই যুবকের নাম শরিফুল মোল্লা (৩২)। তাঁর বাড়ি রাজশাহীর বাঘা উপজেলার দাতপুর গ্রামে। তিনি সাভারের একটি পোশাক কারখানায় চাকরি করতেন। স্ত্রীকে নিয়ে সাভারের নগরচরা এলাকায় থাকতেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শরিফুল মোল্লা ও তাঁর স্ত্রী সূর্য খাতুন শুক্রবার রাতে একই কক্ষে ঘুমিয়ে ছিলেন। দিবাগত রাত দুইটার দিকে হঠাৎ স্বামীর চিৎকারে ঘুম ভেঙে সূর্য খাতুন কক্ষে আগুন ও ধোঁয়া দেখতে পান। এ সময় তিনি দরজা খুলে চিৎকার দিলে আশপাশের লোকজন এসে আগুন নেভান। কিন্তু ততক্ষণে শরিফুল আগুনে পুড়ে মারা গেছেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকার সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

বিজ্ঞাপন

শরিফুলের ভাই মনির মোল্লা বলেন, খবর পেয়ে শনিবার ভোরে ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁর ভাইয়ের লাশ খাটের ওপর পড়ে থাকতে দেখেন। তাঁর মাথার পেছনে, গলা, ঘাড়, পেট ও দুই হাত আগুনে পুড়ে গেছে। তিনি আরও বলেন, তাঁর ভাই ও ভাবি শুক্রবার দিবাগত রাত একটার দিকে টয়লেটে যাওয়ার জন্য বের হয়েছিলেন। হয়তো ঘরে ঢুকে ধূমপান করতে করতে তাঁর ভাই ঘুমিয়ে পড়েছিলেন। আর সিগারেটের আগুন থেকে বিছানায় আগুন ধরে যায়। আর তা টের পাননি ভাই ও ভাবি। বিষয়টি তিনি লিখিতভাবে সাভার থানায় জানিয়েছেন।

সাভার থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সাইফুল ইসলাম বলেন, আগুনে পুড়ে শরিফুলের মৃত্যু হয়েছে, তা অনেকটা নিশ্চিত হওয়া গেলেও আগুন লাগার কারণ জানা যায়নি। আরও তদন্ত ছাড়া এ বিষয়ে স্পষ্ট করে কিছু বলা মুশকিল। তিনি আরও বলেন, পাশাপাশি থেকে স্বামীর মৃত্যু হলো আর স্ত্রী অক্ষত থাকলেন, এ বিষয়ে জানার জন্য শরিফুলের স্ত্রী সূর্য খাতুনকে থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তবে তাঁর কাছ থেকে তেমন কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। পরে তাঁকে স্বজনদের হেফাজতে ছেড়ে দেওয়া হয়।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন