default-image

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আট ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর ঢাকা-সিলেট, ঢাকা-নোয়াখালী ও ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথে ট্রেন চলাচল শুরু হয়েছে। রেলের এসব পথের বিভিন্ন স্টেশনে সাতটি ট্রেন আটকা পড়েছিল। শুক্রবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২ টার দিকে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে বলে জানিয়েছেন রেল কর্মকর্তারা।

এলাকার কয়েকজন বাসিন্দার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মোদি বিরোধী বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মাদ্রাসার ছাত্ররা হামলা চালিয়েছেন। মাদ্রাসাছাত্ররা দুটি গাড়ি, রেলস্টেশনসহ অন্তত পাঁচটি সরকারি কার্যালয়ে আগুন ধরিয়েছেন। এ সময় আহত হয়ে মো. আশিক (২০) নামের এক তরুণ মারা যান। তবে তিনি কীভাবে মারা গেছেন তাৎক্ষণিক তা জানা যায়নি।

বিজ্ঞাপন

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফর এবং ঢাকার বায়তুল মোকাররম ও চট্টগ্রামের হাটহাজারী মাদ্রাসায় সংঘর্ষের ঘটনার প্রতিবাদে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় শুক্রবার বেলা সাড়ে তিনটা থেকে জামিয়া ইসলামিয়া ইউনুছিয়া মাদ্রাসাসহ জেলার সব কওমি মাদ্রাসাছাত্ররা সদর থানা অবরোধসহ শহরের বিভিন্ন স্থানে অবস্থান নেন। এ সময় তাঁদের সঙ্গে ১৮-২৫ বা ২৬ বছর বয়সী সাধারণ যুবকেরাও অংশ নেন। তাঁরা শহরের বিভিন্ন সড়কসহ বিভিন্ন স্থানে অগ্নিসংযোগ করেন। তাঁরা বিকেল চারটার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে স্টেশন হামলা ও ভাঙচুর চালান। একপর্যায়ে তাঁরা স্টেশনে থাকা ট্রেনের সিগন্যাল প্যানেল বোর্ডে আগুন ধরিয়ে দেন। একে একে স্টেশনের সাতটি কক্ষে আগুন, এসব কক্ষের নথিপত্র ও আসবাব বের করে রেললাইনের ওপরে রেখে এবং রেললাইনের স্লিপার তুলে রেললাইনের ওপর রেখে আগুন ধরিয়ে দেন।

এদিকে পুলিশ সুপার কার্যালয়ের গ্যারেজ, সিভিল সার্জন কার্যালয়, সড়ক ও জনপথ (সওজ) কার্যালয়ের নিচতলা, জেলা আনসার কমান্ড্যান্ট কার্যালয়, সিআইডির পুলিশ সুপারের গাড়ি, ডিবির একটি মাইক্রোবাসে তাঁরা আগুন ধরিয়ে দেন। আর জেলা সার্কিট হাউসে সাত থেকে আটটি গাড়ি এবং ইউনিভার্সিটি অব ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সামনে বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল ভাঙচুর চালান তাঁরা।

স্টেশনের সিগন্যাল প্যানেলসহ সবকিছু আগুনে পুড়িয়ে দেওয়ায় বিকেল সাড়ে চারটার পর থেকে ঢাকা-সিলেট ও ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথে ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকে। তাঁদের হামলায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে স্টেশন।

স্টেশন সূত্রে জানা গেছে, সিলেট থেকে ঢাকাগামী পারাবত এক্সপ্রেস ব্রাহ্মণবাড়িয়ার হরষপুর রেলওয়ে স্টেশন ও জয়ন্তিকা এক্সপ্রেস ট্রেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগরের আজমপুর রেলওয়ে স্টেশন, চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী কর্ণফুলী এক্সপ্রেস ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে স্টেশনের আউটারে ভাদুঘর এলাকায়, চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা মহানগর এক্সপ্রেস আখাউড়া রেলওয়ে জংশন স্টেশনে ও মহানগর গোধূলি কসবা রেলওয়ে স্টেশনে আটকা পড়েছিল। আর ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা চট্টগ্রামগামী আন্তনগর সুবর্ণ এক্সপ্রেস ট্রেন দৌলতকান্দি রেলওয়ে স্টেশন, নোয়াখালীগামী উপকূল এক্সপ্রেস নরসিংদীর মেথিকান্দায় আটকা পড়েছিল।

সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার পর ফায়ার সার্ভিসের দল ঘটনাস্থল ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে স্টেশনে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার কাজ করে। আর রাতে আখাউড়া থেকে রেলওয়ের লোকজন ও পুলিশ এসে রেললাইন পরিষ্কার ও মেরামতের কাজ করেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলস্টেশনের স্টেশনমাস্টার সোহেব আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, মাদ্রাসাছাত্ররা স্টেশনের সবকিছু পুড়িয়ে ফেলেছেন। এ কারণে বিকেল সাড়ে চারটার পর থেকে ট্রেন চলাচল বন্ধ ছিল। রাত সাড়ে ১২ টার দিকে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়।

বিজ্ঞাপন
জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন