তবে চান্দিনা উপজেলা এলডিপির সাধারণ সম্পাদক মো. আবু তাহেরের দাবি, রেদোয়ান আহমেদের গাড়ির সামনে এসে আটকিয়ে স্বেচ্ছাসেবক লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতা–কর্মীরা স্লোগান দিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। ঢিল ছোড়েন। কোনো কারণ ছাড়াই এমন আচরণ সহ্য হয়নি রেদোয়ানের। এরপর তিনি আত্মরক্ষার্থে নিজের লাইসেন্স করা শর্টগান থেকে ফাঁকা গুলি করেন। এতে আওয়ামী লীগের অঙ্গসংগঠনের দুই নেতার হাতে ও পায়ে গুলি লাগে।

আবু তাহেরের দাবি, ঘটনার পর রেদোয়ান গাড়ি নিয়ে থানায় গিয়ে তাঁকে আটকানোর ঘটনায় মামলা করতে চান। উল্টো তাঁকে বসিয়ে রেখে মামলা সাজানো হয়। এরপর তিনিসহ দলের নেতা–কর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হয়। তাঁকেসহ চারজনকে কারাগারে পাঠানো হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯৮০ সালে চান্দিনা উপজেলা সদরে রেদোয়ান আহমেদ নিজের নামে কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন। একসময় এ কলেজে ছাত্ররাজনীতি থাকলেও বর্তমানে নিষিদ্ধ। রেদোয়ান আহমেদ এ কলেজের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি। এ কলেজের দুটি শাখা আছে। মূল ক্যাম্পাস সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশে। অপরটি চান্দিনা পৌরভবনের পাশে। চান্দিনা পৌরভবনের পাশে রেদোয়ান আহমেদ কলেজ ক্যাম্পাস-২ নামে এটি পরিচিত। নিজের সহধর্মিণী মমতাজ বেগমের নামে সেখানে ভবন করেন। ওই ভবনে চান্দিনা পৌর এলডিপির নেতা–কর্মীদের নিয়ে তাঁর ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠান করার কথা ছিল গতকাল সোমবার বিকেল চারটায়। ওই খবর পেয়ে কলেজ শাখা ছাত্রলীগও একই সময়ে একই স্থানে পাল্টা কর্মসূচি দেয়। পরে প্রশাসন ছাত্রলীগকে অনুষ্ঠান করতে দেয়নি। যুবলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগ পৌরভবনে অনুষ্ঠান করে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও দুই পক্ষের নেতা–কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, হঠাৎ গতকাল বেলা ২টা ২০ মিনিটে রেদোয়ান আহমেদ তাঁর এলাকার বাসিন্দা মহিচাইল ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মো. আলী, চান্দিনা পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ড গণতান্ত্রিক যুবদলের সভাপতি মো. বাকিবিল্লাহ ও তাঁর গাড়িচালক মো. রেজাউল করিমকে নিয়ে গাড়িতে করে কলেজ ক্যাম্পাস-২–এ প্রবেশ করছিলেন। পৌরভবনের মিলনায়তনে থাকা আওয়ামী লীগের অঙ্গসংগঠনের নেতা–কর্মীরা গাড়ি দেখতে পেয়ে সড়কের মধ্যে অবস্থান নেন। কেউ সড়কের পাশের ফুটপাতেও অবস্থান নেন। একপর্যায়ে রেদোয়ানের গাড়ি সামনে এলে আটকে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে বিভিন্ন ধরনের স্লোগান দেন উপস্থিত নেতা–কর্মীরা। এ সময় তরমুজের খোসাও ছোড়া হয় তাঁর গাড়িতে। এরপর রেদোয়ান আহমেদ গাড়ি ঘুরিয়ে গাড়িতে থেকেই গুলি করেন। এতে মাহমুদুল হাসান ও নাজমুল হাসান নামের দুই নেতা গুলিবিদ্ধ হন। পরে রেদোয়ান আহমেদ গাড়ি নিয়ে থানায় যান।

চান্দিনা বাজারের অন্তত তিনজন ব্যবসায়ীর ভাষ্য, রেদোয়ান আহমেদ ব্যক্তিগতভাবে মেজাজি মানুষ। তবে তিনি ছোট ঘটনায় গুলি করলেন কেন, সেই প্রশ্ন তাঁদেরও।

চান্দিনা রেদোয়ান আহমেদ কলেজের দুজন শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, রেদোয়ানের গাড়ি আটকিয়ে তাঁকে উত্তেজিত করা হয়। গাড়িতে চালকসহ চারজন ছিলেন। তাঁরা ছিলেন শতাধিক। আত্মরক্ষার্থে তিনি এই কাজ করেছেন।

চান্দিনা পৌর এলডিপির সাধারণ সম্পাদক শাহআলম বলেন, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে এসব করা হয়েছে। চান্দিনায় আওয়ামী লীগের দুটি পক্ষ আছে। বর্তমান সাংসদ প্রাণগোপাল দত্তের অনুসারীরা এ কাজ করেছেন। উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মুনতাকিম আশরাফের অনুসারীরা এতে ছিলেন না। সরকারের কাছে ভালো হওয়ার জন্য নেতার বিরুদ্ধে মামলা করেছে একটি পক্ষ।

চান্দিনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আরিফুর রহমান বলেন, রেদোয়ান আহমেদ নিজে গুলি করে ধাওয়া খেয়ে থানায় এসে আশ্রয় নেন। তিনি কিসের মামলা করবেন? গুলি করে মামলা করবেন কার বিরুদ্ধে। তাঁর গাড়ি তো অক্ষত। উনি চারটার অনুষ্ঠানে এত আগে একলা গেলেন কেন?

default-image

এদিকে এ ঘটনায় রেদোয়ান আহমেদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে আজ মঙ্গলবার বিকেলে চান্দিনা উপজেলা যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও ছাত্রলীগের আয়োজনে উপজেলা পরিষদের সামনের সড়কে মানববন্ধন হয়েছে। এর আগে কুমিল্লা উত্তর জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক লিটন সরকারের নেতৃত্বে চান্দিনা সরকারি মডেল পাইলট উচ্চবিদ্যালয় থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি চান্দিনা পৌরসভার বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

মানববন্ধনে চান্দিনা উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মো. সামিরুল খন্দকার বলেন, তাঁরা প্রশাসনের কাছে রেদোয়ান আহমেদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছেন। অন্যথায় কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিত্সাধীন গুলিবিদ্ধ দুজনের অস্ত্রোপচার আজ দুপুরে সম্পন্ন হয়েছে। পৃথক অস্ত্রোপচারে আহত মাহমুদুল হাসানের ডান হাত থেকে ও নাজমুল হাসানের ডান পা থেকে দুটি গুলি বের করা হয়। বর্তমানে দুজনই শঙ্কামুক্ত বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন