default-image

চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় ছুরিকাঘাতে ছাত্রলীগের কর্মী আশরাফ উদ্দীন নিহত হওয়ার ঘটনায় মামলা হয়েছে। চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের ছাত্রবিষয়ক উপসম্পাদক নয়ন সরকারকে প্রধান আসামি করে পাঁচজনের বিরুদ্ধে শনিবার আনোয়ারা থানায় ওই মামলা করেছেন আশরাফের বাবা মো. আবদুল।

এ ঘটনার প্রতিবাদে শনিবার সকালে ঘটনাস্থল জয়কালীহাট ও সিংহরা রাস্তার মাথায় বিক্ষোভ করেছেন ছাত্রলীগের কর্মী ও স্থানীয় লোকজন। তাঁরা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অপরাধীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন। এ ঘটনায় ছাত্রলীগের নেতা নয়ন সরকারকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হবে।

স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে উপজেলা সদরের জয়কালীহাট এলাকার মা কমিউনিটি সেন্টারের সামনে আশরাফকে (১৭) ছুরিকাঘাত করে কয়েকজন। ওই সময় আশপাশের লোকজন তাকে উদ্ধার করে প্রথমে আনোয়ারা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেন। পরে সেখান থেকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে রাত ১০টার দিকে সে মারা যায়।

নিহতের পারিবারিক সূত্র জানায়, নোয়াখালী জেলার মো. আবদুল আনোয়ারা উপজেলার বারখাইন ইউনিয়নের শিলাইগড়া থানাদার বাড়ির আংকুর বেগমকে বিয়ে করে শ্বশুরবাড়িতে বসবাস করেন। তিনি জাহাজে চাকরি করেন। তাঁর পাঁচ সন্তানের মধ্যে আশরাফ দ্বিতীয়। সে নগরের হাজেরা তজু কলেজের দ্বিতীয় বর্ষে পড়াশোনার পাশাপাশি আনোয়ারা উপজেলা ছাত্রলীগের সক্রিয় কর্মী ছিল।

বিজ্ঞাপন
আশরাফ ছাত্রলীগের নিয়মিত কর্মী। তাকে খুনের অভিযোগ আসায় জেলা ছাত্রলীগের ছাত্রবিষয়ক উপসম্পাদক নয়ন সরকারকে বহিষ্কার করার প্রক্রিয়া চলছে।
আবু তাহের, সাধারণ সম্পাদক, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগ

জানা যায়, আশরাফকে খুনের প্রতিবাদে শনিবার বেলা ১১ থেকে সাড়ে ১১টা পর্যন্ত সিংহরা রাস্তার মাথা ও দুপুর সোয়া ১২টায় ঘটনাস্থল জয়কালীহাটে বিক্ষোভ করেন ছাত্রলীগের কর্মী ও স্থানীয় লোকজন। ওই সময় পুলিশ সেখানে উপস্থিত হয়ে ছত্রভঙ্গ করে দেয় বিক্ষোভকারীদের। ময়নাতদন্ত শেষে বিকেলে জানাজা শেষে শিলাইগড়া থানাদার বাড়িতে দাফন করা হয় আশরাফকে।

শনিবার বেলা একটার সময় শিলাইগড়া থানাদার এলাকায় আশরাফদের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, তার পরিবারের লোকজন বিলাপ করছেন। তার মা আংকুর বেগম ও বোন আয়েশা আক্তার বারবার মূর্ছা যাচ্ছিলেন।

বিকেলে থানায় কথা হয় নিহতের বাবা মো. আবদুলের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘আমি জাহাজে কুতুবদিয়া ছিলাম। ঘটনার কথা শুনে রাতে চলে আসি। মনকে বোঝাতে পারছি না কোন দোষে আমার ছেলেকে মারা হলো। আমি ছেলে হত্যার বিচার চাই।’

চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আবু তাহের বলেন, আশরাফ ছাত্রলীগের নিয়মিত কর্মী। সে ছাত্রলীগের মিছিল–মিটিংয়ে নিয়মিত অংশ নিত। তাকে খুনের অভিযোগ আসায় জেলা ছাত্রলীগের ছাত্রবিষয়ক উপসম্পাদক নয়ন সরকারকে বহিষ্কার করার প্রক্রিয়া চলছে।

নিহতের প্রতিবেশী ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য বোরহান উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘আমাদের দাবি একটাই, আশরাফের খুনিদের বিচারের আওতায় আনা হোক। রাজনীতির কারণে আর কোনো মায়ের বুক যেন খালি না হয়।’

আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম দিদারুল ইসলাম সিকদার বলেন, আশরাফ হত্যার আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন