বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আব্বাস কীভাবে আওয়ামী লীগে ‘অনুপ্রবেশ’ করলেন, দলের মনোনয়ন পেলেন—সংবাদ সম্মেলনে এমন প্রশ্নের জবাবে নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকার জানান, নৌকা প্রতীকে মনোনয়নপত্র দেওয়ার দায়িত্ব আসলে মহানগর আওয়ামী লীগের নয়। এটি কেন্দ্রীয় কমিটি যাচাই-বাছাই করে দেয়। এখানে জেলা আওয়ামী লীগের হয়তো সুপারিশ থাকে। এভাবে হয়তো সুপারিশের ভিত্তিতে নৌকা পেয়ে থাকতে পারেন।

default-image

ডাবলু সরকার বলেন, ‘আমরা জানি, আব্বাসের পরিবার বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। তাঁর এক ভাই হত্যা মামলার আসামিও। তাঁর ভাই যুবদলের একটি পদের সঙ্গে জড়িত। তাঁর মুক্তির দাবিতে বিএনপিকে রাজপথে আন্দোলন করতেও দেখা গেছে। বিএনপির হয়ে তাঁর ভাইয়ের আচরণ এখনো কাটাখালীতে বিদ্যমান। সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে আমরা তা বুঝতে পারিনি। আমাদের বুঝতে দেরি হয়েছে। তিনি একজন অনুপ্রবেশকারী। তাঁর স্থায়ী বহিষ্কার ও গ্রেপ্তারের দাবি জানাচ্ছি।’

২০১৪ সালের জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি-জামায়াতের হয়ে বোমাবাজির অভিযোগে গ্রেপ্তারের পর কার ছত্রছায়ায় তিনি ২০১৫ সালে কাটাখালী পৌর মেয়র পদে নৌকা প্রতীক পেলেন, সাংবাদিকদের এ প্রশ্নের জবাবে ডাবলু সরকার জানান, এটার দায় ও দায়িত্ব জেলা আওয়ামী লীগের। এটার দায়িত্ব মহানগর নিবে না। কার ছত্রছায়ায় তিনি আওয়ামী লীগে প্রবেশ করলেন, দলীয় মনোনয়ন পেলেন, সে বিষয়েও তদন্ত হবে।

এ বিষয়ে জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অনিল কুমার সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, প্রশ্নটা তাঁরও। তিনি নতুন দায়িত্ব নিয়েছেন। ওই সময় কে বা কারা তাঁকে দলে ঢোকালো, কার সুপারিশে আব্বাস আলী নৌকার মনোনয়ন পেলেন? কাল শুক্রবার বিকেলে জেলা আওয়ামী লীগের জরুরি সভা আছে। সেখানে তিনি বিষয়টি তুলবেন।

লিখিত বক্তব্যে মহানগর আওয়ামী লীগ বলছে, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে কাটাখালী পৌর মেয়র ও পৌর আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক আব্বাস আলীর ধৃষ্টতাপূর্ণ অবমাননাকর মন্তব্য করেছেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাঙালির অনুভূতি ও আবেগের জায়গা। তাঁকে নিয়ে কটূক্তি ও অশোভন মন্তব্য করা রাষ্ট্রদ্রোহের শামিল। তাঁর ধৃষ্টতাপূর্ণ অশালীন মক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে রাজশাহী মহানগর তাঁকে সংগঠনের পদ ও প্রাথমিক সদস্য পদ থেকে আজীবন বহিষ্কারের পাশাপাশি গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেছে।

ফাঁস হওয়া অডিওর আরেকটি অংশে আব্বাস আলীর কণ্ঠে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র ও মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটন এবং তাঁর পরিবারকে নিয়েও অকথ্য গালাগালের অভিযোগ উঠেছে। সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে লিখিত বক্তব্যে কেন বিষয়টি উঠল না, সাংবাদিকদের এ প্রশ্নে ডাবলু সরকার জানান, মেয়রকে নিয়ে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেছেন আব্বাস, এটা তাঁরাও শুনেছেন। আজ বেলা সাড়ে তিনটায় মহানগর আওয়ামী লীগের বিক্ষোভ মিছিল ছিল। সেখানে প্রতিবাদের পাশাপাশি বেশ কিছু কর্মসূচি এসেছে।

সংবাদ সম্মেলনে এ সময় মহানগর আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা–কর্মী উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে রাজশাহী–৩ (পবা–মোহনপুর) আসনের সাংসদ আয়েন উদ্দিন আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজশাহী নগরের একটি রেস্তোঁরায় সংবাদ সম্মেলন করে আব্বাস আলীকে দলীয় পদ থেকে বহিস্কারের পাশাপাশি আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

সম্প্রতি আব্বাস আলীর একটি অডিও কথোপকথন ফাঁস হয়। সেখানে তিনি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরাল স্থাপন নিয়ে কটূক্তি করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এর প্রতিবাদে পরদিন থেকে রাজশাহীতে নানা ধরনের প্রতিবাদ কর্মসূচি চলছে। গতকাল তাঁকে পবা উপজেলা আওয়ামী লীগ দলীয় পদ থেকে অব্যাহতি দিয়েছে। তাঁর নামে ইতিমধ্যে রাজশাহী নগরের বোয়ালিয়া মডেল থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে একটি মামলা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে মেয়র আব্বাসের সরাসরি কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তিনি ফেসবুক স্ট্যাটাসে দাবি করেছেন কথোপকথনের অডিও সম্পাদনা করে প্রচার করা হয়েছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন