বরগুনা আমতলী স্বাস্থ্য কম্পেলেক্স রোগীরা শয্যা না পেয়ে বারান্দায়। আজ সোমবার দুপুরের ছবি
বরগুনা আমতলী স্বাস্থ্য কম্পেলেক্স রোগীরা শয্যা না পেয়ে বারান্দায়। আজ সোমবার দুপুরের ছবিপ্রথম আলো

বরগুনায় আমতলীতে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে বিউটি বেগম নামের এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। ওই নারীকে স্বজনেরা আজ সোমবার সকালে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে এলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। ওই নারীর বাড়ি আমতলী উপজেলার খেকুয়ানী গুচ্ছগ্রামে। উপজেলায় ডায়রিয়া পরিস্থিতি ভয়ানক আকার ধারণ করেছে। তার সঙ্গে যোগ হয়েছে তীব্র স্যালাইন–সংকট।

আমতলী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, গত সাত দিনে তিন শতাধিক মানুষ ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়েছেন। প্রতিদিন গড়ে ৪৫-৫০ জন ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগী হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন। আজ দুপুর ১২টা পর্যন্ত ডায়রিয়ায় আক্রান্ত ২৯ জন নতুন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। ইতিমধ্যে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ৮৫ রোগী। আসন না থাকায় হাসপাতালের বারান্দায় রোগীরা বিছানা পেতে চিকিৎসা নিচ্ছেন। রোগীদের সামাল দিতে চিকিৎসক ও নার্সদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। আসন সংকুলান না হওয়ায় রোগীরা বারান্দায় অবস্থান নিয়েছেন। হাসপাতালে স্যালাইন–সংকট রয়েছে।

গত সাত দিনে তিন শতাধিক মানুষ ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়েছেন। প্রতিদিন গড়ে ৪৫-৫০ জন ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগী হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন।

এদিকে পায়রা নদীতে লবণাক্ততা বৃদ্ধি পাওয়ায় নদীসংলগ্ন গ্রাম বালিয়াতলী, পশুরবুনিয়া, ঘোপখালী, আড়পাঙ্গাশিয়া, পশ্চিম আমতলী, ফেরিঘাট, ল ঘাট, খাদ্যগুদাম এলাকা, শ্মশানঘাট, ওয়াবদা অফিস এলাকা, বৈঠাকাটা, পশ্চিম ঘটখালী, আঙ্গুলকাটা, গুলিশাখালী, নাইয়াপাড়া, হরিদ্রাবাড়িয়া ও কলাগাছিয়া এলাকায় ডায়রিয়ার প্রকোপ বেশি দেখা যাচ্ছে। সরকারিভাবে আক্রান্তের সংখ্যা তিন শতাধিক হলেও বেসরকারিভাবে আক্রান্তের সংখ্যা কয়েক হাজার বলে স্থানীয় বিভিন্ন সূত্র নিশ্চিত করেছে।

বিজ্ঞাপন

প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলের অধিকাংশ রোগী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে না এসে স্থানীয় পল্লিচিকিৎসকদের কাছে চিকিৎসা নিচ্ছেন। আবার কম অসুস্থ অনেক রোগী হাসপাতালের বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি চলে যাচ্ছেন। হাসপাতালে কলেরা স্যালাইন–সংকট রয়েছে। চলতি ডায়রিয়া পরিস্থিতি সামাল দিতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ছয় হাজার স্যালাইন সংগ্রহ করেছে। কিন্তু গত ১৮ দিনে ৪ হাজার ৮০০ স্যালাইন শেষ হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আবদুল মোনায়েম সাদ।

পাঁচ দোকান ঘুরে ১৪০ টাকায় স্যালাইন কিনেছি। ৭০ টাকার স্যালাইন বিক্রি করছে ১০০ থেকে ১৪০ টাকায়।’
মাজেদা, এক রোগীর স্বজন

আজ সরেজমিনে আমতলী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ঘুরে দেখা গেছে, ৮৫ জন শিশু ও বয়স্ক মানুষ ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিচ্ছেন। হাসপাতালে রোগীদের উপচে পড়া ভিড়। বারান্দার ফ্লোরে বিছানা পেতে রোগীরা চিকিৎসা নিচ্ছেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন ওষুধ ব্যবসায়ী বলেন, উপজেলার কয়েকজন অসাধু ওষুধ ব্যবসায়ী স্যালাইন মজুত করে সংকট তৈরি করে চড়া মূল্যে বিক্রি করছেন।

আমতলীর গুলিশাখালী গ্রামের মিজানুর ফকির, পশ্চিম চিলা গ্রামের শিশু আল আমিন, চালিতাবুনিয়া গ্রামের রাবেয়া এবং ঘটখালী গ্রামের আহসান ও হাবিব ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন। তাঁদের স্বজনেরা বলেন, হাসপাতাল থেকে দুই-একটি স্যালাইন দিচ্ছে। ফলে বাইর থেকে চড়া দামে স্যালাইন কিনতে হচ্ছে।

মাজেদা নামের এক রোগীর স্বজন বলেন, ‘পাঁচ দোকান ঘুরে ১৪০ টাকায় স্যালাইন কিনেছি। ৭০ টাকার স্যালাইন বিক্রি করছে ১০০ থেকে ১৪০ টাকায়।’

আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা চিকিৎসক আবদুল মোনায়েম সাদ ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে এক নারীর মারা যাওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, ‘এ মাসের শুরুতে ছয় হাজার স্যালাইন সংগ্রহ করেছি। গত ১৮ দিনে ৪ হাজার ৮০০ স্যালাইন খরচ হয়েছে। অবশিষ্ট ১ হাজার ২০০ স্যালাইন দিয়ে আর কত দিন চলবে! ডায়রিয়ার যে অবস্থা, তাতে দ্রুত স্যালাইন সরবরাহ না হলে সামাল দেওয়া খুবই কষ্টকর হয়ে দাঁড়াবে।’ তিনি আরও বলেন, লবণাক্ত পানির প্রভাবে নদীসংলগ্ন এলাকার মানুষ বেশি ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছেন।

বিজ্ঞাপন
জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন